মোঃ আবু সাঈদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় মাদকের ভয়ংকর আখড়া ও অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ‘হাজী মাজার বস্তি’তে এক বিশাল ও শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মো. বেলায়েত হোসেনের সরাসরি নেতৃত্বে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি কিং বাবু ও শাহাবুদ্দিনের মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ ২০ জন মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) বিকেল ১৭:০০ ঘটিকা থেকে শুরু হয়ে রাত ২০:০০ ঘটিকা পর্যন্ত হাজী মাজার বস্তির আনাচে-কানাচে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী পুরো বস্তি এলাকা ঘেরাও করে ফেলে।
অভিযান চলাকালে মাদক সম্রাট কিং বাবু ও শাহাবুদ্দিনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা কুখ্যাত মাদকের আখড়াগুলো থেকে হাতেনাতে ২০ জন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, মাদক সেবনের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে মাদকসেবী ও অপরাধী চক্রের সদস্যরা পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে এবং বস্তির ভেতরে চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জননিরাপত্তা রক্ষার্থে পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ৫ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দে অপরাধীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মো. বেলায়েত হোসেন স্যারের যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করেছি। মাজার বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কিং বাবু ও শাহাবুদ্দিনের মাদকের সিন্ডিকেট আমরা তছনছ করে দিয়েছি। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে এবং টঙ্গী পশ্চিম থানাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত না করা পর্যন্ত এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে থানা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।