• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
আবু সাঈদের ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এ দেশ আমার স্বদেশ আমার ফনিন্দ্র সরকারের ৬৯তম জন্মদিন আজ আমেরিকান প্রবাসী আনছারুল ইসলামের ফেইসবুক পোষ্ট নিয়ে বিব্রত উত্তরবঙ্গবাসী ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা জগন্নাথপুরে ঘরজামাই ইমরান মোল্লার মিথ্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক ইয়াকুব মিয়া নরসিংদীতে সাবেক বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। জাকের পার্টি মৃত্তিকা খনন ফ্রন্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাংলাদেশের জন্য অনন্য অর্জন মহেশখালীর আশেক ওসমানীর নিয়ামতপুরে সাড়ে ৪ লাখ টাকার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

বউয়ের পরকীয়া, সামাজিক ও রাজনৈতিক আইনী যাঁতাকলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা: নিঃস্ব সিঙ্গাপুর প্রবাসীর কান্নায় ভারী কাপাসিয়ার আকাশ

Sabit Rizwan / ৫২৫ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

598

আয়াত উল্ল্যাহ,ঢাকা:
দেশ ও দশের অর্থনীতি সচল রাখতে নিজের জীবনের সব সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে দূর দেশ সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ভুবনেরচালা গ্রামের সন্তান আতিক খান। সিঙ্গাপুরের তীব্র কর্মব্যস্ততার মাঝে দিন-রাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জিত প্রতিটি টাকা পরম বিশ্বাসে দেশে থাকা স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল এক টুকরো সুখী নীড়ের। কিন্তু সেই প্রিয় মানুষটিই যে পরকীয়ার মোহে অন্ধ হয়ে তার সাজানো সংসার বিষাক্ত করে তুলবে, তা হয়তো আতিক খানের দুঃস্বপ্নেও ছিল না।

আজ তিনি শুধু সর্বস্বান্তই নন, বরং পরকীয়া, প্রতারণা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক  আইনী যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজের দেশে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছেন। নিজের নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ব্যানারের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কাছে আকুল মিনতি জানিয়েছেন এই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

পরকীয়ার ছোবল ও প্রবাসীর সম্পদ লুণ্ঠনের নির্মম চিত্র
আতিক খানের অভিযোগ, সিঙ্গাপুরে তার থাকার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী পরকীয়া আসক্ত হয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, এক বা একাধিক সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে তার সিঙ্গাপুরের উপার্জিত সব অর্থ এবং পৈতৃক সম্পত্তি লুণ্ঠন করে নেওয়া হয়েছে। যে মানুষটিকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে তিনি জীবনের সব সঞ্চয় রেমিট্যান্স আকারে পাঠিয়েছিলেন, সেই জীবনসঙ্গীই আজ তাকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে পথে বসিয়ে দিয়েছে।

কলিজার টুকরো” সন্তানকে জিম্মি করার বুকফাটা আর্তনাদ
সম্পদ হারানোর চেয়েও আতিক খানের বুকে সবচেয়ে বড় ক্ষত তৈরি করেছে তার একমাত্র সন্তানের থেকে বিচ্ছিন্নতা। ব্যানারটিতে তীব্র ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি লিখেছেন—তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন, শরীরের অক্সিজেন  ও কলিজার টুকরো ছেলেকে তার স্ত্রী জিম্মি করে রেখেছে। এক বুক কষ্ট আর চোখের জল নিয়ে আতিক খান চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন, কিন্তু তাকে তার নিজের সন্তানের মুখ পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। নিজের দেশের মাটিতে একজন প্রবাসী বাবার জন্য সন্তানের থেকে এই নিষ্ঠুর দূরত্ব মৃত্যুর চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক।

সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনী যাঁতাকলে নিষ্পেষিত প্রবাসী
নিজের ওপর হওয়া এই অবিচারের প্রতিকার পেতে আতিক খান সম্ভাব্য সব জায়গায় ছুটে গিয়েছেন। সমাজপতি, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা এবং আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সর্বত্রই তিনি চরম অবহেলা ও আইনি জটিলতার শিকার হয়েছেন।

তার করুণ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান—সমাজ, প্রশাসন ও রাজনীতির একটা বড় অংশ আজ টাকা, ক্ষমতা, দলাদলি ও নারীর মোহের কাছে অন্ধ ও নির্লজ্জের মতো মাথা নত করে আছে। রাষ্ট্র ও সরকারের আইনি কাঠামো তাকে ন্যূনতম নাগরিক সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো সত্য আড়াল করতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও নানামুখী মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আজ তিনি পথে পথে ঘুরে সবকিছু হারিয়ে চরম প্রাণনাশের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ও আইনি সংস্কারের দাবি
আতিক খান চান না তার মতো আর কোনো প্রবাসী ভাই কিংবা দেশের সাধারণ মানুষ এভাবে বিচারহীনতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিক। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য তিনি দেশবাসীর সমর্থন চেয়ে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন:

পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন: পুরুষদের আইনি সুরক্ষায় অবিলম্বে দেশে ‘পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন’ পাস করতে হবে।

পরকীয়া আইনের সমতা: পরকীয়া সংক্রান্ত আইনের আধুনিকায়ন ও সংস্কার করে পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রাখতে হবে।

দ্রুত বিচার ও সঠিক তদন্ত: দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করতে হবে।

শেষ কথা: সত্যের জয় হোক
ব্যানারের একদম শেষে আতিক খানের লেখা দুটি লাইন আমাদের বিবেককে এক বিরাট প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়—”সত্য হলে ন্যায় চাই, মিথ্যা হলে সাজা চাই।” তিনি কোনো অন্ধ সহানুভূতি কিংবা পক্ষপাতিত্ব চাচ্ছেন না, বরং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছেন।

সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে কঠোর পরিশ্রম করে যে প্রবাসীরা দেশের চাকা সচল রাখছেন, সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই আজ দেশের মাটিতে অসহায়, বিচারহীন ও অরক্ষিত। আতিক খান কি তার একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাবেন? তিনি কি মুক্ত হতে পারবেন এই সামাজিক ও আইনী যাঁতাকল থেকে? এই প্রশ্ন এখন পুরো কাপাসিয়াবাসী তথা সচেতন নাগরিক সমাজের কাছে।


আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “বউয়ের পরকীয়া, সামাজিক ও রাজনৈতিক আইনী যাঁতাকলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা: নিঃস্ব সিঙ্গাপুর প্রবাসীর কান্নায় ভারী কাপাসিয়ার আকাশ”

  1. Atik Md says:

    আমি আতিক খান গাজীপুর চায়ের কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন সিঙ্গাপুর প্রবাসী রাষ্ট্রের বিভিন্ন কোষাগার থেকে আমার সাথে বর্বর অত্যাচার করা হয়েছে

    • jonokamona says:

      স্যার, এ বিষয়ে কি পুলিশকে জানিয়ে ছিলেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd