• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
এ দেশ আমার স্বদেশ আমার ফনিন্দ্র সরকারের ৬৯তম জন্মদিন আজ আমেরিকান প্রবাসী আনছারুল ইসলামের ফেইসবুক পোষ্ট নিয়ে বিব্রত উত্তরবঙ্গবাসী ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা জগন্নাথপুরে ঘরজামাই ইমরান মোল্লার মিথ্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক ইয়াকুব মিয়া নরসিংদীতে সাবেক বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। জাকের পার্টি মৃত্তিকা খনন ফ্রন্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাংলাদেশের জন্য অনন্য অর্জন মহেশখালীর আশেক ওসমানীর নিয়ামতপুরে সাড়ে ৪ লাখ টাকার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিফাতের চাঁদাবাজি ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

ফনিন্দ্র সরকারের ৬৯তম জন্মদিন আজ

Sabit Rizwan / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

5

বিশেষ প্রতিনিধি:
একটি দেশের সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির দর্পণ হিসেবে কাজ করেন তাঁর বুদ্ধিজীবী এবং সাহিত্যিকরা। তারা শুধু সমকালকে ধারণ করেন না, বরং শব্দ ও লেখনীর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর পথ দেখান। বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার আকাশে তেমনি এক দেদীপ্যমান নক্ষত্র হলেন বিশিষ্ট কলাম লেখক, রাষ্ট্র চিন্তক, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কবি ফনিন্দ্র সরকার। ১৯৫৮ সালের ৩১ শে জুলাই জন্মগ্রহণ করা এই মননশীলতার স্রষ্টা ২০২৬ সালে পা দিলেন তাঁর গৌরবময় ৬৯তম জন্মদিনে। শুভ জন্মদিন শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন কলাম লিখন, ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষণ এবং কবিতার মতো সৃজনশীল সাহিত্যসাধনা। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা এবং অনন্য সৃষ্টিশীলতাকে শ্রদ্ধা জানাতে আজ তাঁর অসংখ্য অনুসারী ও ভক্ত সমাজ গভীর ভালোবাসায় মেতে উঠেছেন।
ফনিন্দ্র সরকার দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকগুলোতে নিয়মিত কলাম লিখে আসছেন। বিশেষ করে দৈনিক নিরপেক্ষ সহ বিভিন্ন জাতী দৈনিকে তাঁর কলাম মানেই তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ, বস্তুনিষ্ঠ তথ্য এবং সমাজ-রাষ্ট্রের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ উচ্চারণ। জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিশ্বব্যবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। সাধারণ মানুষের কাছে বৈশ্বিক রাজনীতির কূটচালকে সহজ ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরার এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। সময়ের প্রয়োজনে তাঁর কলম যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে, তেমনি সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে শান্ত ও যুক্তিগ্রাহ্য দর্শনও উপহার দিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে তাঁর চার দশকের এই নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি তাঁকে সমকালের অন্যতম প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক কণ্ঠে পরিণত করেছে।
ফনিন্দ্র সরকারেএর চিন্তা, কর্ম ও সাহিত্যিক সৃষ্টির মূল ভিত্তি হলো গভীর দেশপ্রেম এবং অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধ। সমকালীন বিশ্বরাজনীতি বিশ্লেষণ এবং সমাজভাবনায় তিনি অনন্য দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন।
রাষ্ট্রচিন্তক হিসেবে ফনিন্দ্র সরকার সবসময় একটি সাম্যবাদী, প্রগতিশীল এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। তাঁর লেখনিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণগুলো যেমন সহজ ভাষায় ফুটে ওঠে, তেমনি প্রকাশ পায় দেশের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা। তিনি মনে করেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নয়, বরং নাগরিকদের মানসিক মুক্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশের মধ্যে নিহিত। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে তিনি সর্বদা মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা ও সব ধরনের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন।
কবি হিসেবে ফনিন্দ্র সরকারের কবিতাগুলোতে দেশপ্রেম, মানুষের সংগ্রাম এবং দ্রোহের বাণী উচ্চারিত হয়েছে। তাঁর সাহিত্যচর্চা কেবল নান্দনিকতার ফ্রেমে বন্দি নয়, বরং তা সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ, ভূ-রাজনীতি এবং মানবতা লঙ্ঘনের চিত্র তিনি তাঁর তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বশান্তি ও মানবতার পক্ষে এক জোরালো কণ্ঠস্বর।
ফনিন্দ্র সরকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনা তাঁকে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি কেবল মানুষের মুক্তির কথা বলেন।
সাংবাদিকতা ও কলামের গণ্ডি পেরিয়ে ফনিন্দ্র সরকার একজন জাত কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কাব্যের গভীরতা, উপন্যাসের জীবনের গল্প এবং নাটকের মঞ্চরূপ—সাহিত্যের এই প্রধান শাখাগুলোতে রয়েছে তাঁর সফল পদচারণা। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা চারটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে সমাদৃত:
“দুঃস্বপ্নের সুখ”: নাগরিক জীবনের জটিলতা ও মনস্তত্ত্বের এক অসাধারণ কাব্যিক প্রকাশ।
“সাগর জয় ও ভালোবাসা”: মানুষের আদিম আবেগ, প্রেম ও সংগ্রামের এক চিরায়ত কাব্যগ্রন্থ।
“শেকড়ে”: এই সার্থক উপন্যাসে তিনি মানুষের আত্মপরিচয় ও মাটির টানকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
“ভিন্ন এক সূর্য উঠুক”: সমাজ পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও নতুন আশার আলো জাগানিয়া একটি অনবদ্য নাটক।
প্রকাশিত এই গ্রন্থগুলোর বাইরেও লেখকের বহু পাণ্ডুলিপি বর্তমানে প্রকাশের অপেক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে, যা তাঁর অফুরন্ত সৃষ্টিশীলতার প্রমাণ বহন করে।
ফনিন্দ্র সরকারের জন্মদিনে আজ তাঁর দীর্ঘদিনের ভক্ত, তরুণ সমাজ এবং সাহিত্য অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাহিত্যিক ফোরামে তাঁর সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। অনুসারীদের মতে, ফনিন্দ্র সরকার কেবল একজন লেখক নন, তিনি তরুণ লেখকদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা এবং পথপ্রদর্শক। তাঁর সত্যনিষ্ঠা ও আপসহীন লেখনী নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে চলেছে।
৬৯ বছর বয়সে পদার্পণ করেও ফনিন্দ্র সরকার আজ তরুণদের মতোই সৃষ্টিশীল এবং প্রাণবন্ত। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি যেভাবে সমাজকে চিন্তার খোরাক জুগিয়ে আসছেন, তা সত্যিই বিরল। জন্মদিনের এই শুভ ক্ষণে এই আশাবাদ ব্যক্ত রইল যে, প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা তাঁর বাকি পাণ্ডুলিপিগুলো খুব শীঘ্রই আলো দেখবে এবং বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে। শব্দ ও চেতনার এই মহান সারথি সুস্থ শরীরে শতায়ু হোন—এটাই আজ তাঁর সকল অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর একমাত্র প্রার্থনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
bdit.com.bd