নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খানকাহ ফকির জহুর আল কাদরী, বকশি বাজার খানকাহ শরিফে ২৬ জুলাই রবিবার বাদ এশা রাত ৮টায় পবিত্র এগারো শরীফ মেহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
পবিত্র মেহফিলে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করবেন বকশি বাজার দরবার শরীফের বর্তমান গদীনশীন পীর, বিশিষ্ট সমাজসেবক, সুফি স্কলার, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও দানবীর ফকীর শাহ্ সাঈদ আনওয়ার আল মোবারকী ক্বাদরী চিশতি পীর কেবলা।
মেহফিলে সকল স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, খানকাহ শরীফের মুরীদান, অসংখ্য আশেকে রাসূল, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ওলামা মাশায়েক ও ভক্তরা অংশগ্রহণ করবেন।
পবিত্র ১ শরীফের ফজিলত প্রসঙ্গে পীর সাহেব কেবলা বলেন, পবিত্র এগারো শরীফ ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব পীরানে পীর গাউসুল আজম দস্তগীর হযরত মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে পালিত হয়। এটি বরকতময় ফাতেহা অনুষ্ঠান। ভক্তি ও মুহাব্বতের সাথে পালন করলে অভাব দূর হয়, পরিবারে শান্তি আসে এবং আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় অলিগণের নৈকট্য লাভ করা যায়। এর মাধ্যমে জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও তবারক বিতরণের মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কেউ ভক্তি সহকারে ১ শরীফের আমল বা ফাতেহা খানি করলে অভাব দূর হয়, পরিবারে শান্তি বজায় থাকে, দুনিয়া ও আখেরাতের খায়ের ও বরকত লাভ করা যায়। ১ শরীফের এই দিনে খতমে গাউসিয়া, কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, দো’আ-দুরুদ ও তবারক বিতরণের মাধ্যমে প্রচুর সওয়াব অর্জন করা যায়।
খানকাহ শরীফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উক্ত পবিত্র মেহফিলে সকলে আদব ও ভক্তির সাথে শামিল হয়ে হায়াতুন্নবী (সা:), পাঞ্জাতনে পাক ও খাস করে হুজুরে গাউসে পাকের রেজামন্দি হাসিল করে নিজেদের জীবনকে ধন্য করার সুযোগ পাবেন।
বকশিবাজার দরবার শরীফ সুফিবাদের আলোকে ইসলামি মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং আর্তমানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ কারণে ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস এখানে বিশেষভাবে পালিত হয়।
শাহসূফী আল মোবারকী ক্বাদরী পরিচালিত খানকাহ্ ফকির জহুর আল ক্বাদরীতে প্রায় ৪ যুগের বেশি সময় ধরে প্রতিদিন ৫ হাজার বার দরূদ শরীফ ও খতমে খাঁজেগান, প্রতি আরবী মাসের ১১ তারিখ বাদ এশা এগারো শরীফের আমল, মিলাদ ও কেয়াম শরীফ, হামদ ও না’ত শরীফের বরকতী মজলিশ প্রচলন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফকীর শাহ্ সাঈদ আনওয়ার মোবারকী আল ক্বাদরী একজন সুফি স্কলার, শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবতার সেবক। প্রায় ৪ যুগ ধরে তিনি আধ্যাত্মিক ও মানবসেবায় নিয়োজিত। করোনাকালীন সময়ে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজার বিতরণসহ কর্মহীন মানুষ ও ভক্ত-মুরিদের জন্য প্রতিনিয়ত খাদ্য সরবরাহ করেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।
খানকাহ্ ফকির জহুর আল ক্বাদরী ঢাকা আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন বকশিবাজার মোড়ে অবস্থিত।