জাতীয় প্রধান প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের দূর্যোগপূর্ণ সময়ে যাদের কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি, গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের পর তারা হঠাৎ ‘গুপ্ত’ থেকে আত্মপ্রকাশ করে আন্দোলনের ভিত্তি দাবি করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমমনা শরিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থেকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানার্থে আয়োজিত নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘গুপ্তদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে’
নাম উল্লেখ না করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা রাজপথের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন-সংগ্রামে নিয়মিত লড়াই করেছি। অথচ আজ অনেকেই সেই আন্দোলনের একক কৃতিত্ব দাবি করতে চায়। তাদের আলাদা করে নাম বলার প্রয়োজন নেই, কেবল ‘গুপ্ত’ শব্দটি বললেই পুরো দেশের মানুষ তাদের চিনে ফেলে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কঠিন আন্দোলনের দিনগুলোতে তাদের আমরা অনেক খুঁজেছি, কোথাও পাওয়া যায়নি। অথচ ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর এই গুপ্তবাহিনী ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে এসে দাবিদার সাজছে। জনগণের আস্থা বজায় রাখতে এই ধরনের স্বার্থান্বেষী গুপ্তদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে হবে।”
৩১ দফা বাস্তবায়ন ও শরিকদের সঙ্গে ঐক্য
রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষিত রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দুঃশাসনের সময়ে সমমনা দলগুলোকে নিয়েই জনগণের সামনে ৩১ দফা পেশ করা হয়েছিল। আজ সাধারণ মানুষ এই ৩১ দফার পক্ষেই তাদের সমর্থন ও রায় দিয়েছে। তাই এর সুফল ঘরে তুলতে ও বাস্তবায়নে যুগপৎ আন্দোলনের সমমনা শক্তিসমূহকে একসাথে পথ চলতে হবে।
সরকার পরিচালনার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, “ক্ষমতা গ্রহণের সময় অর্থনৈতিক খাত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সরকার ইতোমধ্যে জনগণের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে সক্ষম হয়েছে।”
স্বাগত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ নৈশভোজে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদেরা।