মতিয়ার রহমান: অরঙ্গাবাদ, মুর্শিদাবাদ
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ইতিহাস প্রসিদ্ধ মুর্শিদাবাদ জেলার সর্ব বৃহৎ সাহিত্য উৎসব জঙ্গিপুর শিল্প সাহিত্য উৎসব।কথা কবিতা গান নাচ লাঠিখেলা আলোচনা সভা ছাড়াও খুঁজে খুঁজে বের করে সেইসব গুণীজনের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে আসছে যাঁরা প্রচার বিমুখ ও সমাজে অসামান্য অবদান থাকা সত্ত্বেও যাঁরা আলোয় আলোকিত হতে পারেননি।বিগত ছয় বছর ধরে জঙ্গিপুর সাহিত্য সমন্বয় ট্রাস্ট নূর স্মৃতি পুরস্কার ও সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে আসছেন।এবারে শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য মুরারই লিটল এঞ্জেলস একাডেমির ডিরেক্টর কাম প্রিন্সিপাল স্যার মিজানুর রহমানকে নূর স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয় মুর্শিদাবাদ জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অরঙ্গাবাদ ডি এন সি কলেজ অডিটরিয়ামে।নূর মোহাম্মদ সাহেবের সুযোগ্য পুত্র সাংসদ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিল্পপতি খলিলুর রহমান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এওয়ার্ড কমিটির পক্ষে মিজানুর রহমানকে উৎসবের সিংহ দুয়ার থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এন সি সি র ছাত্ররা মঞ্চ পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। দুপুর বারোটায় তাঁর পুরস্কার প্রদান। কমিটির পক্ষে প্রথমেই তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়।পরে ফুলের তোড়া, শংসাপত্র এবং সুদৃশ্য স্মারক তুলে দেওয়া হয়। তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশিষ্ট কথাকার ও সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারি।
রাঙামাটি বীরভূমের কৃতি সন্তান বাংলা সাহিত্যে এম এ পাশ মিজানুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজ্যের পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার।কাজে হাত লাগান তিনি।মুরারই হাসপাতাল পাড়ায় দুটি দোতলা ব্লিডিং ভাড়া নিয়ে তাঁর পথ চলা শুরু। সকাল সাড়ে ছয়টার সময় নিয়ম করেই তাঁর স্কুলে ঢোকা।ফেরার কোনো ঠিক থাকেনা।কাজ পাগল মানুষটি সারাক্ষণ তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে পিরামিড উচ্চতায় পৌঁছবে তা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তিনি। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজর কাড়া ফল লিটল এঞ্জেলস একাডেমির।অভিভাবকদের অভাব অভিযোগ ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা এমনকি বাড়ি ফিরতে পারা,না –পারা, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের আব্দার ভালোবাসা মেটাতে তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ মিজানুর রহমানকে নূর স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে ভীষণ তৃপ্ত আনন্দিত ও গর্বিত জঙ্গিপুর সাহিত্য সমন্বয় ট্রাস্টের সম্পাদক গোলাম কাদের।