আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করে গাজা উপত্যকায় আবারও বর্বর বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে নারীসহ অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৮ জনই মারা গেছেন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার সময়। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।

​যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও মে মাসের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে।

​জানাজার অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর ড্রোন হামলা

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় সবচেয়ে নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে পূর্ববর্তী হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাসিন্দারা। ঠিক সেই মুহূর্তে ভিড় লক্ষ্য করে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে মিসাইল হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮ জন প্রাণ হারান। ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছিল।

​গাজার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় হামলা

নুসেইরাত ছাড়াও গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকা এবং নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থলে পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন নিহত হন। গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা এবং খান ইউনিসে ইসরাইলি স্নাইপারের গুলিতে এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা।

​যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও শিশু মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

​গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি (ACLED)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে গাজায় ৪০টিরও বেশি হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সর্বোচ্চ। এদিকে ইসরাইলি দৈনিক ‘হারেটজ’ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় ২৭৪ জন শিশু নিহত হয়েছে; অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একজন করে নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ কাড়ছে ইসরাইলি বাহিনী।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।