দীপ্ত চক্রবর্ত্তী
কি আর পড়ব খবরের কাগজ,
একই তো খবর আসে রোজ রোজ:
কিশোরীর দেহে হাসে পাশবিক চিহ্ন,
বৃদ্ধ দেহ জাগে শিশুর জন্য;
কাটা গলা ঝোপ থেকে আসে ইরারা–
এই তো খবর রোজ ছাপে তারা তারা।
যুবতীর দেহ অনাবৃত হেডলাইন_
পথের ধারে,বালুর চরে কি রেললাইন–
চারপাশ বোবা অন্ধ;
নীল চুমো লাল ঠোঁটে,
আগুনের ফুলকি উঠে
বাতাস পোড়া গন্ধ–
এই তো খবর রোজ করে দম বন্ধ।
রাষ্ট্রপতি অপহৃত, অকারণ দুর্ভিক্ষ,
বোমার আঘাতে চুরমার গর্ভ অনাগত;
মিসাইলের তোড়ে পশু উড়ে,পাখি উড়ে,
উড়ে মানুষ কাগজের মত;
আর মহামান্য হাসে প্রেস কনফারেন্সে,
মানবতা নাকি হয়েছে রক্ষিত!
লালসায় বুঁদ কোনও এক শিক্ষক
গ্রহণ লাগা ক্লাসরুম,
নর্দমায় ভাসে ভাঙাচুরা প্রেম
নীরবে অনাগতের খুন।
হলদে পচা খবর,নুয়ে পড়া কাঁধে
তাবেদারির ভার
ক্ষতবিক্ষত ছারখার,ঘুনে কাটা সংবাদ
পড়ব না আর– এই করেছি পণ,
বিদ্রোহের আগুনে যতদিন না-পোড়ে অস্ত্র সকল
তামাম পৃথিবীর যুদ্ধবাজ মগজ মনন,
ততদিন,ততদিন লিখব না প্রেমের কবিতা,
পড়ব না ক্ষতবিক্ষত,কালনীল পৃথিবীর কথা।
সিন্ধু থেকে সোমালিয়ার বুভুক্ষুরা
গিলে নেবে এইসব কাগজ বার্তা যেদিন,
যেদিন লিখা হবে মানুষের কথা,ঐশ্বর্যের কথা,
প্রকাশিত হবে সভ্যতার সত্য কলেবর
সেইদিন,সেইদিন আবার পড়ব পৃথিবীর খবর।