মীর ফয়সাল নোমান

 

​রমজান মাস চলছে এবং সবাই খুব আনন্দ করছে। কিন্তু ছোট রিজওয়ানের মনে কোনো সুখ নেই কারণ তার সৎ মা তার ওপর খুব অত্যাচার করে। সে রিজওয়ানকে ঠিকমতো ইফতারি করতে দেয় না এবং বাড়ির সব কঠিন কাজ করিয়ে নেয়। অথচ রোজার মাসে তার একটু ভালো খাবার পাওয়ার কথা থাকলেও তার মা তাকে কিছুই দেয় না।

​এই দৃশ্য দেখে বাবা রকিবুল ইসলাম তার বউকে বকা দিয়ে বললেন তুমি কেন আমার ছেলের ওপর অত্যাচার করো। তখন মা রিজওয়ানকে ভয় দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করল আমি কি তোমার ওপর অত্যাচার করি। রিজওয়ান ভয়ে বলল না মা তুমি আমার ওপর অত্যাচার করো না। তখন স্ত্রী তার স্বামীকে বলল দেখছেন আপনি আমাকে শুধু শুধু ভুল বোঝেন।

​রকিবুল ছিলেন একজন গরিব কৃষক এবং কৃষি কাজ করেই তার সংসার চলত। রিজওয়ানের দুই সৎ ভাই বাবার কাছে ঈদের নতুন জামার বায়না ধরলে তাদের মাও জেদ ধরল যে ছেলেদের নতুন জামা দিতেই হবে। বাবা বাজার থেকে দুইটা জামা কিনে আনলেও রিজওয়ানের কথা ভুলে গেলেন। তিনি স্ত্রীকে বললেন কুলসুম আমি রিজওয়ানের জন্য জামা কিনতে ভুলে গেছি। তখন কুলসুম বলল রিজওয়ানের জন্য জামা কিনে কী হবে সে সজীবের পুরনো জামা পরবে।

​এই কথা শুনে রিজওয়ান কাঁদতে কাঁদতে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। সে দেখল সবাই নতুন জামা পরে আনন্দ করছে কিন্তু তার বাবা তাকে কিছুই দেয়নি। সে রাস্তার ধারের বটগাছতলায় বসে কান্নাকাটি শুরু করল। ঐ পথ দিয়ে গ্রামের সম্মানিত চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ভাই যাচ্ছিলেন। রিজওয়ানের কান্না দেখে তিনি সব ঘটনা শুনলেন এবং খুব রাগান্বিত হলেন। চেয়ারম্যান নিজেই রিজওয়ানকে বাজারে নিয়ে গিয়ে সুন্দর নতুন জামা কিনে দিলেন।

​রিজওয়ান যখন হাসিমুখে নতুন জামা নিয়ে বাসায় ফিরল তখন কুলসুম তাকে চোর অপবাদ দিয়ে মারধর শুরু করল। সে রকিবুলকে বলল তোমার ছেলে আজকাল চুরি করা শুরু করেছে। বাবা রেগে গিয়ে রিজওয়ানকে জোরে একটা চড় মারলেন। ঠিক সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে চেয়ারম্যান সাহেব এই দৃশ্য দেখে ফেললেন। তিনি রকিবুলকে ধমক দিয়ে বললেন তোমরা কেন এই ছোট ছেলেটার ওপর অত্যাচার করছো। চেয়ারম্যান জানালেন যে জামাটা তিনিই কিনে দিয়েছেন।

​চেয়ারম্যান সাহেব ঘোষণা দিলেন আজ থেকে রিজওয়ানের পড়ালেখা ও খাওয়া-দাওয়ার সব দায়িত্ব আমার। তিনি রিজওয়ানকে জিজ্ঞেস করলেন তুই কি আমার সাথে যাবি। রিজওয়ান রাজি হয়ে চেয়ারম্যানের সাথে চলে গেল। এরপর থেকে রিজওয়ান নতুন জামা ও জুতোসহ সব সুযোগ-সুবিধা পেল এবং তার জীবনে আর কোনো কষ্ট থাকল না।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *