নিজস্ব প্রতিবেদক

​ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাত নিরসনে শান্তি আলোচনার পথ রুদ্ধ হওয়ায় এবং সামরিক অভিযানের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় প্রেসিডেন্টকে এখন বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ১ মে’র মধ্যে সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

​আইনি জটিলতা ও সময়সীমা

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি দীর্ঘায়িত করতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন আবশ্যক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের সম্মতি না মিললে মার্কিন বাহিনীকে অভিযান গুটিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ার কথা। তবে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষে যৌথ প্রস্তাব পাস করে এই অনুমোদন পাওয়া এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় বাধা।

​কলোরাডো ল’ স্কুলের আইন বিশেষজ্ঞ মরিয়ম জামশিদি জানান, প্রেসিডেন্ট চাইলে বিশেষ পরিস্থিতিতে সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে ৯০ দিন করতে পারেন, তবে তার জন্য কংগ্রেসকে ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনীয়তার’ যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। কিন্তু ৯০ দিনের সীমা অতিক্রম করার পর কংগ্রেসের নতুন অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা মোতায়েন রাখা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।

​রাজনৈতিক উত্তাপ ও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান

ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরোধী পক্ষ হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা আরও বেশি সোচ্চার হয়ে উঠেছে। আইনপ্রণেতাদের পাশ কাটিয়ে সামরিক অভিযান চালানোর চেষ্টার প্রতিবাদে সিনেটে আবারও যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির উদ্যোগ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের কঠোর ইরান নীতির সমালোচনা করে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, রিপাবলিকানরা কি এমন ‘বেপরোয়া যুদ্ধের’ পথে সমর্থন অব্যাহত রাখবে কি না।

​প্রেসিডেন্ট বনাম কংগ্রেস

সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার মূল ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, অতীতে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশনকে অসাংবিধানিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে ট্রাম্পের এবারের কৌশলের সামনে কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা কতটা শক্ত অবস্থানে থাকতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ইরান পরিস্থিতির চূড়ান্ত ফলাফল এখন কেবল সামরিক কৌশলের ওপর নয়, বরং মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইনি লড়াইয়ের ওপরও নির্ভর করছে।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *