অনলাইন ডেস্ক
জর্ডানে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। একই সাথে হামলায় আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ইরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ওয়াশিংটনও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত মাসের অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে শুরু হলো।
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর চালানো হামলার মোক্ষম জবাব দিতেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে। জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালায় তেহরান। তবে জর্ডানের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ইরানের ছোঁড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী আগেই জানিয়েছিল, গত ফেব্রুয়ারিতেই তারা ওই ঘাঁটি থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে।
কাতার-কুয়েতেও হামলার ছায়া, কুর্দি অঞ্চলে নিহত ৯
ইরানের হামলার ব্যাপ্তি জর্ডানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আইআরজিসি দাবি করেছে, কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরও কয়েকটি দেশে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে।
অন্যদিকে, উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল ও সুলাইমানিয়াহ শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরান বিরোধী কুর্দি সংগঠন ‘কোমালা’র অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও এই হামলার দায় ইরান সরাসরি স্বীকার করেনি।
ইরানে মার্কিন হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি
এদিকে ইরানের প্রধান প্রধান শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় সড়ক ও রেলপথের ব্যাপক ক্ষতিসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানশাহর বিমানবন্দর, কিশ দ্বীপ, বান্দার আব্বাস, কেশম ও বুশেহরসহ একাধিক অঞ্চলে মার্কিন বোমাবর্ষণে অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই দফায় দফায় হামলায় এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।