খুলনা ব্যুরোঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাটে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোনসহ এক শীর্ষ মাদক সম্রাট ও তার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মোঃ মনির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ মোট ২৬টি চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, জেলাজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফকিরহাট মডেল থানার বারাশিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. মনির শেখের বসতবাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ডিবি পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে মূল হোতাসহ চারজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বারাশিয়া মধ্যপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিন শেখের ছেলে মো. মনির শেখ (৪৭), মো. সবুজ মিয়া ওরফে সবুজ (৩০), মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা ওরফে হাফিজুল (৩৭) এবং তৌহিদুল ইসলাম শেখ তামিম (২০)।
গ্রেপ্তার পরবর্তী সময়ে তাদের দেহ ও ঘর তল্লাশি করে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে ফকিরহাট মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মনির শেখ এলাকার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক চোরাচালানসহ মোট ২৬টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতের একটি সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) কার্যকর রয়েছে এবং অপর একটি মামলা বিচারাধীন। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলাব্যাপী মাদকের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে ডিবি পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় গত সাত দিনে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের এমন সাহসী ও সফল অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাগেরহাটের সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ।