আয়াত উল্ল্যাহ,ঢাকা:
ইসলামের ইতিহাসের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মোড় পরিবর্তনকারী অধ্যায় ‘ঐতিহাসিক গাদীরে খুম’ দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আনজুমানে মুহিব্বীনে আহলে বায়ত (আ.) বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ১৩জুন ২০২৬ জাতীয় প্রেস ক্লাবে “মাওলা ইমাম আলী আ. আন্তর্জাতিক কনফারেন্স” শিরোনামে এই বিশেষ আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে।
ঐতিহাসিক গাদীরে খুম দিবস।
মাওলা ইমাম আলী আ. আন্তর্জাতিক কনফারেন্স।
ঐতিহাসিক এই মিলনমেলায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বরেণ্য আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন:
প্রধান অতিথি: হযরত মওলানা আল্লামা মোস্তাক আহমদ চৌধুরী (পীর সাহেব, চুনতী দরবার শরীফ ও সাবেক সদস্য, ইসলামী ফাউন্ডেশন)।
উদ্বোধক: শাহজাদা এনায়েত উল্লাহ খান (মোতাওয়াল্লী, হযরত শাহ আমানত রহ. দরবার শরীফ, চট্টগ্রাম)।
বিশেষ অতিথি:
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইয়াছিন আলী (ফার্মেসী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমান ভূঁইয়া (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
জাস্টিস ইমান আলী খান (সাবেক বিচারপতি)।
সভাপতি: আল্লামা শাহ্ সাঈদ আনোয়ার মোবারকী (পীর সাহেব, বখশীবাজার খানকাহ শরীফ, ঢাকা)।
আলোচকগণ:
হযরত মওলানা মুহাম্মদ আবু তৈয়ব চৌধুরী।
প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
স্বাগত বক্তা: মুহাম্মদ নূরুল আবছার তৈয়বী (সভাপতি, আনজুমানে মুহিব্বীনে আহলে বায়ত আ. বাংলাদেশ)।
কনফারেন্সে উপস্থিত বক্তারা ঐতিহাসিক গাদীরে খুমের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরে হযরত মাওলা ইমাম আলী (আ.)-এর মহান শান, জ্ঞান ও অনন্য মর্যাদার ওপর আলোকপাত করেন।
পবিত্র কোরআনের ঐশী নির্দেশ: বিদায় হজ শেষে মক্কা থেকে মদিনায় ফেরার পথে মহান আল্লাহর বিশেষ নির্দেশে (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৭) গাদীরে খুম নামক স্থানে মহানবী (সা.) এই ঐতিহাসিক সমাবেশ ডেকেছিলেন।
সেই সমাবেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলী (রা.)-এর হাত উঁচুতে তুলে ধরে ঘোষণা করেছিলেন— “আমি যার মাওলা (অভিভাবক/বন্ধু), এই আলীও তার মাওলা।”
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান ফেতনার যুগে পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচতে এবং ইসলামের সঠিক বার্তা ধারণ করতে হলে পবিত্র আহলে বায়তের আদর্শকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। মাওলা আলী ও আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসাই হলো ঈমানের প্রকৃত মানদণ্ড।
‘আনজুমানে মুহিব্বীনে আহলে বায়ত (আ.) বাংলাদেশ’-এর এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সটি ঢাকার বুকে গাদীরে খুমের ঐতিহাসিক শিক্ষাকে সুশীল সমাজ ও সাধারণ মুসলিম উম্মাহর মাঝে ছড়িয়ে দিতে অত্যন্ত সফল একটি ভূমিকা পালন করেছে। বিপুল সংখ্যক সুফি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে সালাত ও সালামের মাধ্যমে এই আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।