মোঃ মুনজুর আলম,স্টাফ রিপোর্টারঃ

একসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল্যায়নে দেশের শীর্ষ ১০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে স্থান পাওয়া বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নানামুখী সংকট ও চরম অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তীব্র জনবল সংকট, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রটিকে ঘিরে স্থানীয় ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে বর্তমানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রোগ নির্ণয়ের (ডায়াগনস্টিক) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট রয়েছে। এর ওপর দোলাচল তৈরি করেছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চরম অভাব। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর এবং বিশেষ করে শৌচাগারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে সঠিকভাবে পরিষ্কার না করায় বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে তুলেছে। হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় মশার বংশবিস্তার বাড়ছে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​এলাকাবাসীর দাবি, এসব সমস্যা নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
​সচেতন মহলের মতে, অতীতে এই হাসপাতালটিতে রোগীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সাবেক কর্মকর্তা ডা. মুস্তাফিজুর রহমান কর্মরত থাকাকালীন সেবার মান উন্নত থাকায় দূর-দূরান্ত থেকেও রোগীরা এখানে ছুটে আসতেন। কিন্তু তাঁর বদলির পর হাসপাতালের চেইন অব কমান্ড ও সেবার মান দুটোই ভেঙে পড়েছে, যার ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যাও কমছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে রোগীর সংখ্যা হ্রাসের বিষয়ে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
​বর্তমানে হাসপাতালের এই বেহাল দশা থেকে উত্তরণে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। দ্রুত হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে সেবার মান ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *