• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
বগুড়ায় আহত সাংবাদিক সাইদ উল হক (রোমেল)-এর চিকিৎসা নিয়ে অবহেলার অভিযোগ নরসিংদী জেলা প্রশাসনের  উদ্যেগে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত  বাগেরহাটের রামপালে মাহেন্দ্র গাড়ি ডাকাতি ড্রাইভার কে মেরে আহত জগন্নাথপুরে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদুল আযহা পালিত জগন্নাথপুর সহ দেশবাসী সবাই কে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। মোহাম্মদ রুয়েল তালুকদার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কবিতাঃ ব্যথা মুছে যায়! মেয়ের চিকিৎসায় কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত মরিয়মের মায়ের মেধা আর সততার মেলবন্ধনে অনন্যা শিক্ষাবিদ রিফাত জাহান সোনিয়া বকশিবাজার দরবারে পবিত্র এগারো শরীফ মেহফিল ২৯ মে শুক্রবার জাতীয় ঐক্য ও সংহতি উন্নয়নের পূর্বশর্ত

জাতীয় ঐক্য ও সংহতি উন্নয়নের পূর্বশর্ত

Sabit Rizwan / ৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফ

মতবিরোধ মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। এটি মহান আল্লাহর একটি সৃষ্টি কৌশলও বটে। যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়, বরং গণতান্ত্রিক সমাজে তা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। তবে রাজনীতির ক্ষেত্রে মতবিরোধ অনেক সময় তীব্র আকার ধারণ করে এবং কখনো তা সংঘাতের পর্যায়েও পৌঁছে যায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের অংশ হলেও মৌলিক জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি ন্যুনতম ঐকমত্য বজায় থাকে। কিন্তু উন্নয়নশীল বা অনুন্নত সমাজে রাজনৈতিক বিরোধ প্রায়ই সংঘাতে রূপ নেয় এবং রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়। যখন কোনো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঐকমত্যের মাত্রা কমে যায় এবং বিরোধ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হারাতে থাকে। ফলে রাষ্ট্রপরিচালনায় স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ বাস্তবতারই প্রতিফলন। অথচ রাজনীতির প্রতিষ্ঠানিকীকরণ ব্যতীত জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একটি দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। বিপরীতে অনৈক্য, বিরোধ, স্বার্থপরতা, দেশপ্রেমের অভাব ও সঙ্কীর্ণ মনোভাব একটি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। বিশ্বের ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে জাতীয় ঐক্য একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, আবার বিভাজন ও সংঘাত অনেক রাষ্ট্রকে বিপর্যস্ত করেছে। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার উদাহরণ উল্লেখযোগ্য। মালয়েশিয়া একটি মুসলিম রাষ্ট্র যেখানে ৬৩.৫% মুসলমান। এছাড়া সেখাানে চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ বসবাস করে। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি অত্যন্ত দৃঢ়। এর কৃতিত্ব মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির ফল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। ফলে মালয়েশিয়া আজ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছে। এমনকি যখন মুসলমানরা জনসংখ্যার অনুপাতে তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তখনও জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ক্ষেত্রে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছিল। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝা যায় রাজনৈতিক বিভাজন, বিদেশী হস্তক্ষেপ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব একটি রাষ্ট্রকে দ্রুত অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও অনৈক্যের ফলে সেইসব দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যার জলন্ত প্রমাণ ইরাক। দেশটির জন্যসংখ্যার ৯৫% মুসলমান, ৪% খৃষ্টান এবং ১% অন্যান্য। ধর্ম ও ভাষার ক্ষেত্রে অনেকাংশে ঐক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত দেশটিকে দীর্ঘদিন অস্থিতিশীলতার মধ্যে রেখেছে। ফলে অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জাতি গভীর সংকটে পড়েছে।

পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ অতীশয় ক্ষুদ্র অথচ ঘনবসতি ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অমিত সম্ভাবনার দেশ। ধর্ম ও ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দেশটিতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করা ছিল খুবই সহজ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ দেশের কতিপয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের হঠকারিতা, ক্ষমতার লিপ্সা, অদূরদর্শিতা, সঙ্কীর্ণমনতা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে ছিন্নভিন্ন করে চলেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কিছু অগ্রগতি সত্ত্বেও রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক চাপ দেশের স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। কারণ বিনিয়োগকারীরা সবসময় স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশকে গুরুত্ব দেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের রাজনীতি নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুইদশক ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার পরিবর্তন স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। তবে এই পরিবর্তন তখনই জাতির জন্য কল্যাণকর হয় যখন সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই রাষ্ট্রের বৃহৎ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং পারস্পরিক সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আর এ জন্য দেশপ্রেম, সততা ও নৈতিকতার কোন বিকল্প নেই।

জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে কতিপয় রাজনীতিবিদ, আমলা, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের ভূমিকা। তারা মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুক ইস্যু বানিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান। অথচ তারা ও আমাদের রাজনীতিবিদগণ আন্তরিক হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ খুবই সহজ। কেননা আমাদের অতীত অর্জনে তাদের কৃতিত্ব কম নয়। রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্তরায়কে চিহ্নিত করতে হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করা যায় না। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্তর্গত জনসাধারণের বিশ্বাস, আচার আচরণ, মূল্যবোধ, অনুভূতি ও দক্ষতার সমষ্টিকে বোঝায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি মূলত সঙ্কীর্ণতামুখী, নিস্ক্রিয়, উন্নত ও অংশগ্রহণমূলক।

সঙ্কীর্ণতামুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে জাতীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও জীবন সম্পর্কে নাগরিকদের তীব্র উদাসীনতা এবং সচেতনতার অভাব। অনেক বিশ্লেষকের মতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখানো সংকীর্ণতা, পরমত অসহিষ্ণুতা, লেজুড়বৃত্তি, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রবণতা প্রবল। রাজনীতিকে মানি মেকিং মেশিনে পরিণত করার ফলে একদিকে যেমন রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে অন্যদিকে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের বদলে অসৎ, দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী ও কালো টাকার মালিকদের হাতে রাজনীতি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। কিছু কিছু নেতার দেশের সম্পদে নিজেদের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার মানসিকতাও এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ফলে পরমতের প্রতি অশ্রদ্ধাপ্রদর্শন, অপরের কন্ঠরোধের মত অগণতান্ত্রিক আচরণ বিস্তার লাভ করে। একইভাবে আমি ও আমার দল যা কিছু করে সবই ঠিক, অন্যরা যা করে সবই বেঠিক। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখানো পুরোপুরি এই সঙ্কীর্ণতামুখী রাজনীতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি।

জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রাজনীতিতে বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে। জাতি, জাতীয়তা, স্বাধীনতার ইতিহাসের ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক মতপার্থকের প্রশ্নে বিভাজন অনেক সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অথচ ইতিহাসের ঘটনাবলি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও তা যেন জাতীয় ঐক্যের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এখন পক্ষ বিপক্ষের বিতর্ককে দীর্ঘায়িত না করে জাতীয় উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী এবং অথনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি ন্যুনতম জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

জাতীয় ঐক্য ও সংহতি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সমানভাবে আইনের সুরক্ষা লাভ করে এবং বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষ ও কার্যকর থাকে, তখন নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। এই আস্থাই সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নয়নের সুযোগ ও সুবিধার সমতা নিশ্চিত না হলে সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উসকানিমূলক বক্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। তাই দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ, সত্য তথ্য প্রচার, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার চর্চা জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

দেশপ্রেম, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশও জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করে। ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক সংলাপের চর্চা একটি জাতির মধ্যে অভিন্ন পরিচয় ও সংহতির অনুভূতি গড়ে তোলে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে। এ প্রসঙ্গে একটি উপমার উল্লেখ করা যায়। ‘এক ব্যক্তি শখ করে একটি বেগুনের ক্ষেত করেছিলেন। সে মোতাবেক তিনি লোক নিয়োজিত করলেন। ক্ষেতটি সুন্দরভাবে পরিচর্যা করা হচ্ছিল এবং সেখানে প্রচুর বেগুন ধরে। একদিন ক্ষেতের মালিক দেখতে আসবেন শুনে কর্মচারীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলো। এক দলের প্রস্তাব ছিল মালিক আসার আগ থেকেই আমরা দাঁড়িয়ে থাকব এবং তাকে সালাম করব। তাকে যথেষ্ট পরিমাণ সম্মান দেখাব। আরেক দল বলল, আমরা বাগানের জরুরি পরিচর্যার কাজ করব আর বসে তাকে সালাম জানাব। দু’ পক্ষ তাদের বক্তব্যে অনড় থেকে এক পর্যায়ে মাঠে মারামারি করে ক্ষেতের সকল বেগুন গাছ মাটির সাথে মিশিয়ে দিলো। মালিক এসে অবর্ণনীয় দৃশ্য দেখে মাথায় হাত দিয়ে বললেন, তোমরা আমাকে সালাম না জানালেও ক্ষতি ছিল না, কিন্তু ক্ষেতটি তো রক্ষা পেতো’।

আমাদের জাতীয় জীবনেও এই উপমাটি গভীর তাৎপর্য বহন করে। যদি আমরা তুচ্ছ মতপার্থক্যে বিভক্ত হয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে ভুলে যাই, তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো দেশই। তাই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করা এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি সুদৃঢ় করা।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd