117

নিজস্ব প্রতিবেদক

(ছবি: ইউকিপিডিয়া)

​সুদীর্ঘ ৬০ বছরের রাজনৈতিক পথচলা। জেল-জুলুম আর রাজপথের লড়াই পেরিয়ে অবশেষে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ের মুকুট পরলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

​নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে লড়াই করেও তিনি জয়ের স্বাদ পাননি। সে সময় আওয়ামী সরকারের ‘ভোট কারচুপি’র কারণে তিনি হেরেছিলেন বলে দাবি করেন এই প্রবীণ নেতা।

​স্কুলছাত্র থেকে নীতিনির্ধারক: এক বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৫১ সালে কেরানীগঞ্জের মির্জাপুর রায় পরিবারে জন্ম নেওয়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ১৯৬৬ সালে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে। স্কুল জীবনেই প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এই নেতা ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সত্তরের দশকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) হয়ে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের মাধ্যমে বিএনপিতে নাম লেখান। ১৯৮৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটির’ অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য।

​প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু এমপি হতে সময় লাগল ৬০ বছর

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিবেশ ও বন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ সংসদ সদস্য না হয়েও তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন তাঁর মেধা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। কিন্তু সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ ভবনে যাওয়ার জন্য তাঁকে অপেক্ষা করতে হলো ২০২৬ সাল পর্যন্ত।

​‘ক্ষমতার লিপ্সা কখনো স্পর্শ করেনি’

বিজয়ের পর এক আলাপচারিতায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই দলের কাছে নমিনেশন বা মনোনয়ন চাননি। দলই তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষমতার লিপ্সা আমাকে কখনো স্পর্শ করেনি। সব সময় লক্ষ্য ছিল একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ হওয়া।”

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী হিন্দু নেতা হিসেবে পরিচিত গয়েশ্বরের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বিএনপির আরেক প্রবীণ নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর। এবারের নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরীও। দুই নেতার এই যুগপত বিজয় বিএনপির হিন্দু ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed