
স্টাফ রিপোর্টার
(ছবি: সংগৃহীত)
চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে নির্বাচন বয়কট বা প্রত্যাখ্যানের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলামোটরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমিন নির্বাচনের এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।
রাজধানীতে এজেন্টদের বাধা ও ব্যালটে সিল
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এনসিপি প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর পোলিং এজেন্টকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে পোলিং এজেন্টের অনুপস্থিতিতেই ব্যালটে দেদারসে সিল মারার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপি নেত্রী বলেন, “এই অভিযোগ সত্য হলে এর দায়ভার তারেক রহমানকেই নিতে হবে।” ঢাকা-১৮ আসনে উত্তরা হাই স্কুল কেন্দ্রে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে নির্দিষ্ট প্রতীকের কার্ড ঝুলিয়ে এজেন্টদের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
হাতিয়ায় রণক্ষেত্র: প্রার্থীর স্বজন ও সাংবাদিকের ওপর হামলা
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোটের পরিবেশ সবচাইতে নাজুক বলে দাবি করেছে এনসিপি। সেখানে এনসিপি প্রার্থী হান্নান মাসউদের স্ত্রী ও ভাইকে বেধড়ক মারধর এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনও। এছাড়া হাতিয়ার নলচিরা ইউনিয়নে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সারা দেশে ককটেল ও ব্যালট ছিনতাই
নির্বাচনী সহিংসতার আঁচ লেগেছে দেশের অন্যান্য জেলাতেও। গোপালগঞ্জ সদর ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ককটেল বিস্ফোরণে দুই আনসার সদস্যসহ এক শিশু আহত হয়েছে। শেরপুর-১ আসনে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের পর সিল মারা অবস্থায় শতাধিক ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সিরাজগঞ্জ ও ঢাকা-১৮ আসনের অনেক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পেরেছেন, তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল-৮ আসনে খোদ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল মারার অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের নীরবতা ও ‘ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং’
মনিরা শারমিন অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে বারবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, ভোট রিগিং এবং ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। বিএনপিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “মুখে ‘হ্যাঁ’ বললেও গোপনে ভোটারদের ‘না’ ভোট দিতে প্রভাবিত করছে একটি নির্দিষ্ট দল।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষে এনসিপি সতর্ক করে দিয়ে জানায়, তারা পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন যেকোনো সময় বয়কট করার পথে হাঁটবে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
