145

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

(ছবি: সংগৃহীত)

​নির্বাচনী মাঠে সাংবাদিক সেজে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে গিয়ে জনতার তোপের মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা। গলায় সাংবাদিকের পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে কেন্দ্রে ঢুকলেও শেষ রক্ষা হয়নি; স্থানীয় জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের জেরার মুখে পড়ে শেষমেশ তাকে কেন্দ্র ছাড়তে হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফটিকছড়ি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মো. রেজাউল করিম, যিনি ফটিকছড়ি থানা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

​ভোটকেন্দ্রে রহস্যময় প্রবেশ ও জনতার জেরা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটগ্রহণ চলাকালে রেজাউল করিম গলায় একটি রঙিন পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে বাইরে অপেক্ষমান ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ জাগে। উত্তেজিত জনতা তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে জানতে চান— তিনি কোন গণমাধ্যমে কাজ করেন? এ সময় তিনি সদুত্তর দিতে না পারায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

​কার্ডে কী লেখা ছিল? উত্তেজনার একপর্যায়ে তাঁর গলায় ঝোলানো কার্ডটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি নির্বাচন কমিশন থেকে ইস্যুকৃত একটি ‘পর্যবেক্ষণ কার্ড’ (Observer Card)। কার্ডে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা ছিল ‘দৈনিক আলোকিত সংবাদ’ এবং কার্ড নম্বর ছিল ৭৫২৩৫। কার্ডটিতে রেজাউল করিমের নাম থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, তিনি কখনোই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন না।

​রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, “রেজাউল করিম আপাদমস্তক একজন জামায়াত নেতা এবং সংগঠনটির যুব ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বশীল। আমরা তাঁকে কোনো দিন সাংবাদিক হিসেবে দেখিনি। সাংবাদিকতার আড়ালে কেন্দ্রে ঢুকে কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিলেন তিনি, তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।”

​সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি পুরো দৃশ্যটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, জনতার প্রশ্নের মুখে রেজাউল করিম আমতা আমতা করছেন এবং দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন।

​এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন দলীয় রাজনীতিক কীভাবে নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বা পর্যবেক্ষক কার্ড সংগ্রহ করলেন, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed