যে কথা হয়নি বলা
সাবিত রিজওয়ান
প্রেমহীন কেউ বাঁচে?’ বাঁচা-মরার উত্তর আমার কাছে নাই। তবে আমিতো বেঁচে আছি/ছিলাম। কেউ প্রেম করে ব্যর্থ কেউ সফল, এখানে আত্মহত্যার কোন প্রশ্ন আসেনা। এটার জানার পরেও কেনযে মানুষ ভুল করে। স্যার আপনি কি প্রেম করেছিলেন?’ জানিনা, ভালবাসতাম। আপনার কি মনে হয়েছিল কেউ ‘আমাকে’ (আপনাকে) ভালবাসে?’ জ্বি, কিন্তু ভুল ভাবেছিলাম! তারপর.. তারপর?’ আমি তার আচরণে ব্যথা (অপমানিতবোধ করেছি) পেয়েছি। যেমন?’ তার মা আমার মাকে অপমান করছে। এটা আমার ধারণা। দুঃখ জনক! সে আমায় ভালবাসে কি-না জানায়নি কিন্তু আমি জানাইছি। আপনার কি সন্দেহ তিনি অন্য কাউকে ভালবাসে?’ সন্দেহ এমন একটি রোগ, যা মাঝেমধ্যে মানুষের ঘুম কেড়ে নেয় এতে হার্টের সমস্যা হয়। সন্দেহ করা কি ঠিক না?’ অবশ্যই ঠিক, এটা অগ্রিম তথ্য জানার চেষ্টা কিন্তু অতিরিক্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমার সন্দেহ হয়েছিল কারো কথায় এবং নিজে নিজে। হুম’। আমি পরীক্ষা করতে গিয়ে বুঝি সে পাঙ্খা ছাড়া উড়তে চায়। ভালবাসা কি বংশ মানে?’ এটার উত্তর অন্য কেহ দিয়েছে। আমার উত্তরটা হচ্ছে পাঙ্খার কথাটা খেয়াল রাখবা। মানুষের রুচির কাছে ভালবাসার রঙ বদলায়। মাওলানা বলে থাকে এটা পরকিয়া, এতে আপনার অনুভূতি কেমন?’ এটা নিয়ে টানাটানি না করাই শ্রেয়, এই ব্যাপারে আমি জানিনা। তবে বলতে পারি ইসলাম যা বলে তাই সত্য। মন নিয়ে খেলা করা অপরাধ, যারা ব্যর্থ হয়েছে তাদেরকে বলব শিক্ষিকা আজকে বুঝাবে কালকে তোমায় প্রশ্ন করবে তুমি বুঝতে পারছো কি-না, তাই হতাশ হবার কারণ নেই। কবি বলেছেন একবার না পারিলে দেখ শতবার। এখানে কিছু অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হবে। ঠিক আছে সে তোমাকে ভালবাসেনা, প্রেম নিয়ে অনেক মাথা ঘামাইছো এখন একটু নিরব থাকো। তুমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবো, তুমি সফল হলে তার মনে প্রশ্ন জাগবে। হয়তো কাউকে জিজ্ঞেস করবে তোমার ব্যাপারে। আপনি ছ্যাকা খেয়েছেন?’ তার কাছ থেকে নয়। ‘হ্যা আর না’ এর মধ্যে বিশাল অর্থ লুকিয়ে আছে। শিক্ষার্থী ব্যাপারে কি বলবেন?’ প্রেমের বয়সি ওটা, পড়ালেখার পাশাপাশি করতে পার। প্রেম প্যারাতে আমিও ফেল করেছি। স্যার আপনি স্কুলে কোন বিষয়ে দক্ষ ছিলেননা?’ গণিত চলার সাথি, কিন্তু আমি গণিত, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে দক্ষ নই, গ্রামারও একটু। প্রেম কি এক তরফা?’ না, আর এই ব্যাপারে আমার চেয়ে পাঠকি ভাল জানে। স্যার আপনার কে সাহিত্যিক জীবনকে পছন্দ করেনা?’ এটা বলা মুশকিল। তবে অনুমান করে থাকি নীলাঞ্জনা বুজি পছন্দ করেনা। কে আমায় কেমন ভাবে বুঝেছে সেটা বলতে পারছিনা, আমার প্রেমটা কল্পনার মত হয়ে গেছে। আমি তাকে ভুলে যেতে চাইছিলাম। স্যার আপনার স্বপ্ন কি?’ সেনাবাহিনী হওয়া। অন্য সাহিত্যিকদের সাথে আপনার তুলনা?’ এটা আমি বলতে পারব না, আমি কার কাছে কেমন সেটা পাঠক বলে দিবে। স্যার প্রেমের সাথে রাজনীতির কথা বলা যাবে?’ বিবাহের জন্য ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে কার্যক্রম হয় এটাই শুধু প্রেম নয়। তুমি তোমার ভাইকে ভালবাসো তোমার ভাইও তোমাকে ভালবাসে এটাই হচ্ছে প্রেম। তিনি এখন কেমন আছে, কোথায় আছে? জানতে পারি’ সেই ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। সে ভেবেছিল আমার কাছে সুখ নেই, তাই সে সুখের তালাশ করুক। আমি স্বপ্নবুনতে পারি। স্যার দাসত্ব নিয়ে বলুন।’ আমি দাসত্ব পছন্দ করিনা। আমি অহেতুক মাথা নত/মাফ চাইতে যাব কেন!
কবিতা: স্মার্ট রাষ্ট্রে অসভ্য কাজ
সাবিত রিজওয়ান
বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণ,
স্যারের গায়ে ছাত্রী হাত তুলেছে!
ভুল চিকিৎসা দিচ্ছে ডাক্তার
হারিয়ে যাচ্ছে রোগীর প্রাণ।
উল্টো পথে চলে গাড়ি
বাঁধা দিলে কে শুনে,
বিয়ের আসর থেকে রে হায় পালিয়ে যায় কনে।
গর্ভবতী মহিলাদের উপরও হচ্ছে নির্যাতন,
স্মার্ট রাষ্ট্রে অসভ্য কাজ!
ঘুষখোর প্রশাসন।
যুবকের আত্মা হত্যা
“যার বউ ভাল তার দুনিয়া ভাল” লেখে,
এদিকে ভূয়া কাগজে লুট হচ্ছে ব্যাংকে।
বোবার মত হয়ে গেছি
পাইনা স্বাধীনতার গান গাইতে,
দিনের বেলা সাধু তিনি
গুমখুন করে কাউকে রাইতে।
গুজব ছড়াচ্ছে কেউ দেশ-বিদেশে,
তাঁরা তাঁদের খাস লোককে নিয়োগ দেয়!
গরীবের কাছে চা-নাস্তা খেতে চাইছে।
ষড়যন্ত্র করছে কেহ বিপক্ষ দলের নামে,
তাঁরা হতে চাচ্ছে এক পক্ষপাতিত্ব!
মোকাবিলা করব কেমনে
চিঠি লিখব কারে নীলখামে।
কবিতা: রাঙ্গামশাল
সাবিত রিজওয়ান
চা’এ ফু দিচ্ছে পুলিশ পায়ের উপর পা রেখে,
চিন্তা কী খাই আর ঘুম যাই!
বেতন দিবে সরকার আরো পাব ঘুষ থেকে।
আসামি গ্রেফতার হয়না
কারাগারে বন্দী হয়রে গরিব-অসহায়,
মাদক কারবারিরা পার পেয়ে যায়।
নির্বাহী, আইন, বিচার সমাজসেবা নয়,
টাকা মেরে পেটুক তাঁরা ঘুষ দিলে কারো চাকরি হয়।
ন্যায় চাইয়া পাই হুমকি,
দূর্নীতি দেশে যুক্ত হচ্ছে, দূদক কবে এগুলোতে নজর দিবে!
উচিত কবে জানবে তারা, বই পড়লেই কি জ্ঞান অর্জন হবে?
কেউ কাউকে শিকার করছে হয়রানির অকারণে,
ফাঁসানো হচ্ছে কাউকে প্রতিহিংসার মামলায়!
দেউলিয়া হচ্ছে রে কেউ ষড়যন্ত্রের হামলায়।
কেউ বিলাসিতার জীবন পাইছে
কেউ পেটের দায়ে চোর,
কেউ হয়েছে বাটপার
আমারাই পণ্য, ক্রেতা-বিক্রেতা
নিত্যদিন আজগুবি ঘটনা ঘটছে!
সরকার হয়েছে নেশাখোর;
চাটুকারের লোভ বড় পদ,
চরিত্রহীন হয় ক্ষমতাসীন
করতে চায় দেশের ক্ষতি।
মরি-মারি, দোষ করি, সাধু সাজি যমদূত লাগেনা,
পরিবর্তন হলো কীরে স্বাধীনতা পেলাম না।
নিরাপদ চাই জনপদ,
কোথাও মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির বানা হচ্ছে
এগুলো কি নয় অপরাধ?
র্যাব সমাধান করবে কখন
যাচাই করবে কবে কে এই মামলার দোষী,
দিবা রাতি নানান নির্যাতন।
কেউ কৌশলে করতে চায় এই দেশকে ধ্বংস,
তাই জাগ্রত কর বাংলার বীর সন্তানেরা সাহস।
কবিতা: তিমির উৎখাত
সাবিত রিজওয়ান
আমি দেখেছি কত প্রাণ হারিয়ে যেতে,
গরিব-অসহায় অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে।
কেউ ধোকা খেয়েছে,
কেউ অভিশপ্ত জীবন পেয়েছে।
কেউ বলছে টাকাতে সুখ,
তবু উজ্জ্বল নয় চাহিদার মুখ।
স্বাদ পেলেই কেউ পেটের মধ্যে সব রাখতে চায়,
অনাহার পেটের দায়ে ঘাস চাবিয়ে খায়।
কেউ শুনতে পারেনা কারো আর্তনাদ,
হেসে হেসে বিদ্যুৎ চমকিয়ে ভরে গেল নদ।
মানুষ কেন এত নির্দয়া,
বুঝেনা এটাই জীবন নয় একদিন হারিয়ে যাবে তার ছায়া।
কলসে জল রেখেছি বেঁধে
দুঃখ কোথায় রাখি,
আমি বেকার, পরিবার থেকে দূরে এসে হয়েছি বিক্রেতা-হকার!
কত জনপ্রতিনিধি করছে অন্যায়-অবিচার
‘স্বাধীন বাংলায় এসব হচ্ছে টা কি?’
বাজারে লেগেছে আগুন উড়ছে না কোন ধোঁয়া,
এ কী খেলাম
বাছার জন্য নাকি মরে গেলাম!
চলছে কত পরকিয়া।
ষড়যন্ত্র আর পারিবারিক অশান্তি,
এতে কেউ নিজেকে মৃতঘোষণা করে হয়ে যায় ক্লান্তি।
ছোট মুখে বড় কথা,
ভেঙে দিব তোর দাঁত যদি হয় অযথা।
অসাধু চাউল ধুয়া পানি দুধে মিশাল,
স্টোল করতে তারা মসজিদ-গোরস্থান আনন্দ মেলায় ভাড়া দিল।
ক্ষুদার কষ্টে কেউ চুরি করে,
ক্ষমতাসীন লুটে নেয় ভিক্ষা করে!
যা দেশের কল্যাণে লাগার কথা ছিল
তা তাঁরা চুষে নিয়ে করে বাহানার হট্টগোল।
কবিতা: জাগরণ তেজস্ক্রিয়
সাবিত রিজওয়ান
প্রেমিক হতে চেয়েছি,
আমি ভালও বেসেছি
কী পেলাম কপালে লাথি!
অবহেলার পাহাড়
পাইলাম না কোন সমান অধিকার,
পাইলাম না কোন সাথী।
বিদ্রোহীর স্বাদ কলিজায় লেগেছে
অভাবে ঘুম হারায়,
কেউ নিখোঁজ ভাল-মন্দ কে জানে!
কেউ সমাজের চোখে অপরাধী,
আসলে কি তাই?
অন্যায় করে আমাদের নিয়ম-কানুন
যেখানে স্বার্থপরের রাজত্ব হায়।
তুই আসামি! সাজিছো সাধু,
ঠসা করে করেছিস প্রশাসনের কান!
দেহ আর ধন দিয়ে ভীনদেশীদের বানাইছিস স্বজন।
চেয়েছি ধ্বংস করতে অশোভন-অশ্লীল,
দূর হউক দেশ থেকে অনিয়ম-জঞ্জাল।
র্যাব অকারণে কাউকে করছে অত্যাচার হায়,
সরকারি অনুদান কে পেলো না! কে পায়।
ভূলন্ঠিত স্বাধীনতা!
বিছুটি দিয়ে বলে কচুর পাতা,
ফায়দা লুটে নিচ্ছে কেহ মুখোশের আড়ালে
মানচিত্র খাইখাই!
ভেজাল মাখিয়া আজ হেব্বি রূপ
একজনাতে মিটেনা চাহিদা,
যদি ভাবত দুদিন পরে হবে কী!
শিক্ষাতেও মরিচা ধরছে কে নিবে এর দায়?
টাকলা মুরগীকে রঙ করিয়া বানায় দেয় উট পাখি;
পুলিশ দেয় সন্ত্রাসী করার সুবিধা।
বালিকা স্কুলের ছাত্রীটির ইজ্জতের ক্ষতি করল কে!
কি কারণ?
চোখ সুস্থ কার কে অন্ধ কেমনে হটাৎ যাচাই ছাড়া সুদখোর বলছে চশমা দেখে।
সাদা-কালা কী আসে যায়
মনের সম্পর্ক নিবিড়,
সামনে, পিছে প্যাঁছ লাগিয়ে ডানে, বাঁয়ে দেয় শিয়ালের হুংকার।
কাঁচা লোকে বুঝবে কী মানুষ বানরের অভিনয়,
রেইনফরেস্টের বানর এই বুঝিয়া লুকাকি রাখে নিজের পরিচয়।
লেজ গুটিয়ে আসছে তেরে হায়নাদের দল,
এর কী প্রতিবাদ হবেনা!
কে আসল কে নকল।
আমরা বুঝিনা ছলনার কান্না, বুঝিনা হাসিটা কেমন,
বাঁশের চাইতে কঞ্চি যেমন।
কবিতা: জাগরণ চেতনা
সাবিত রিজওয়ান
আমি কারে দিব দোষ,
কোথায় গেলে পাব তার খোঁজ!
কী করে আজ হইল ক্ষতি,
চিনবো কী তার চোখ দুটি।
আমি পথ চিনি নাই!
নাকি সে ছিল অন্ধ,
তার সঙ্গ নিয়ে ভঙ্গ জীবন!
ধরিল কেমনে ফাঁটল
কোন পথে আছে শান্তি,
এত অবহেলা করল কেন
কী ছিল মোর কমতি!
মাখিলাম কোন গন্ধ।
আমি বুঝিনা নাকি জগৎ বুঝেনা,
আজ তা হয়নি জানা!
কার মাথায় কোন ব্রেইন,
হবে কবে মূল্যায়ন।
বেঁচে আছি খবর নাই
মরে গেলে দশ-জনতা আসে,
শাঁক দিয়ে কারে বুঝাও মাংস ভাত
এ দেহে কী আত্মা আছে।
আপন মনে নিজের মত
কেন পারিনি চলতে,
তুমি মানুষ রত্নের মত
আমি কী মানুষ ছিলাম না!
পেরেছি কোন কথাটি বলতে।
মানুষ ও পশু এর মাঝে তফাৎ কী,
জীবনতো তার, আমার
নৈতিকতা পৌঁছাইছে কী।
রক্তের বাঁধনে চাকু কে লাগায়,
কে লাগায় রে আগুন!
কিছু কারণে হয়ে যায় আন্দোলন;
ভাগ্য গাছে ফল পাঁকেনি
পাঁকার জন্য টেপাটেপি,
টাকার পাগল সবে
পচে গেলে মান নাইরে এ ভবে।
পাখিটি যায় উড়ে খাবারের দিশায়
আজকেরটা আজকে খায়,
খোদার উপর বিশ্বাস রাখে
জীবনটা সংগ্রামের তাই ছুটে চলে!
নাই টাকা, ধন-দৌলত কমানোর ভয়।
ছোট্ট ঘরে আলোর মিছিল,
কোন কারণে হলো পিচ্ছিল!
রেজন চায় মিলেমিশে থাকা,
কোন আদালতে ন্যায্য বিচার দিবে নাকো ধোঁকা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীসের শিক্ষক যাঁর ধৈর্য নাই,
শিক্ষার্থীকে বুঝাতে পারে না!
নিজের সু-নাম নিজেই করতে পারে
আলো ফুটাতে জীবন দেওয়ার সাহস করেনা।
ঝড়ে পড়া কবি সাহিত্যিকদের গড়ে তোলার কারিগর সাংবাদিক আহমেদ হোসাইন ছানু
সাবিত রিজওয়ান
পানি, আরশ, কলম এগুলোকে সর্ব প্রথমের সৃষ্টি বলা হয়। কলম সৃষ্টির পরে আল্লাহ কলমকে বলেছেন, কেয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুর তাকদির লিখতে। এটি আরবি ভাষার এক বচন আর বহু বচন আকলাম। কলমের রঙ্গের প্রকার ভেদ থাকে, কলমেরও প্রকার ভেদ থাকে। বাক্/মত প্রকাশ করাটাও স্বাধীনতার অংশ। ক্রিয়াবিভক্তি সামঞ্জস্য রেখে আমরা মৌখিক ও লিখিত আকারে কোনটা ভুল, কোনটা ঠিক, বিনোদন, হাসি-কান্না, শিক্ষানীয় এই ব্যাপারে কথা বলতে পারি। শুনে, দেখে, জেনে, অনুমান করে পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি। কখনো বিপদে পড়েও তা সমাধান করতে চেষ্টা করি। অনুভূতিটা আমাদের নিজস্ব সত্তা। কাল্পনিক আর মিথ্যার মধ্যে তফাত রয়েছে। জবান (কথা) এটিও এক প্রকার আমানত, কথার সাথে কাজের মিল থাকাটা আবশ্যক। সংবাদ, সাহিত্য, সংস্কৃতি-সাংস্কৃতিক এগুলোতে কথা/শব্দ (মনের ভাব) ব্যবহৃত হয়, এটিও শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। সংবাদ হচ্ছে রাঙ্গা মশালের মত (ইত্যাদি প্রকার সংবাদ রয়েছে), যা আমাদেরকে অন্ধকারে আলোর পথ দেখায়। আলোর প্রদীপের প্রাণ আলোয় পুড়ায় তাকে (বাংলা টু বাংলা ডিকশনারি: সরু করে পাকানো কাপড়ের ফালি/সলতে করে যার এক প্রান্ত প্রদীপের তেলে ডুবিয়ে রেখে অন্য প্রান্ত প্রজ্বালন করা হয়, এখানে সলতে ও তেলকে প্রাণ বলা হয়েছে।) অর্থাৎ সংবাদ হচ্ছে খোলা চিঠি আর সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে দেশ-বিদেশে পাঠিয়ে দেয় সমাজের পরিস্থিতির কথা। এখানে থাকে সুখ-দুঃখের সংবাদ। আমাদের মনের খোরাকও আমরা এগুলো থেকে পেয়ে থাকি। সাংবাদিকের মধ্যেও প্রকার ভেদ থাকে: কেউ সৎ, কেউ হলুদ সাংবাদিক ও কেউ ভূয়া। স্বৈরাচার আমলগুলোতে আমরা দেখেছি বাক্ স্বাধীনতার নাক চেপে ধরা হয়েছিল/হচ্ছে। তবুও কেউ সাহসের সঙ্গে আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছে ন্যায়-অন্যায়ের কথা, প্রকৃতির বর্ণনা। সংবাদের সাথে সাহিত্যের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাইতো কলম সৈনিকেরা লিখে যাচ্ছে ভাল-মন্দ, প্রেম-বিপ্লব বা চারপাশে যা ঘটে। কেউ নোংরা রাজনীতি করে জনপ্রিয়তা পায়, আবার কেউ নিজেকেই ভুলতে বসে জীবনের সাথে সংগ্রাম করতে। কেউ আকাশের নক্ষত্র আর্ট করে কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তা কাউকে জানাতে পারেনা। কেউ বেঁচে থাকতে মূল্যায়ণ পায়, কেউ কেউ পায়না। কেউ স্মৃতিতে গেঁথে থাকে, কেউ স্মৃতি থেকে ছিটকে পড়ে যায়। মরার পরে কেউ তাকে অস্বীকার করে, কেহ ফের সন্মানের স্বীকৃতি পায়। কার পরিবার কেমন আছে/ কারো পরিবারের খোঁজ নেওয়ার কেউ আছো আবার কারো ফের তা নাই। যেমন- অনেকের মেধা/পরিশ্রমের কদর করার কেউ থাকেনা। এমনো হতে পারে কেউ লঞ্চে উঠে সাগরের মাঝপথে আটকিয়ে গেছে। সমস্যা জিনিসটি সবার জীবনে থাকে। কেউ অবহেলিত হয়, জীবদ্দশায় কেউ সমাজের আড়ালে চলে যায়। আজকে একজনের কিছু মহাত্ব মুহুর্ত শেয়ার করতেছি যিনি ঝরে পড়া কিছু কবি সাহিত্যিককে গড়ে তোলার কারিগর। তবে নিজেকে পরিশ্রমী হতে হবে, এটি একটি সত্তা। নিজের মেধা খাটিয়ে লিখতে হবে (উস্কানি বা হেয়মূলক না)। অসাধুরা এই প্লাটফর্মে স্থান পাবে না। আজকালের আলোর প্রকাশক ও জাতীয় পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক আজকের জনকথা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আহমেদ হোসাইন ছানু ভাইকে নিয়ে এই কলাম। তিনি মিশুক ভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতেও দক্ষ। তিনি সকল প্রকার হালাল রুজিকে সন্মান করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের অনেকেই তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে তাঁর অবদানের সুনাম। এতে আমরা গর্বিত, এ যেন সিলেটের এক নক্ষত্র। তাঁর পত্রিকার পাঠক ঢাকার পাশাপাশি সারা বাংলা ও বিভিন্ন দেশে রয়েছে। তিনি সবাইকে আহবান করে সুন্দর পরিবেশের সমাজগড়ার, যেখানে থাকবেনা কোন ভেজাল মুক্ত বাতাস! সবাই মুক্ত ভাবে নিশ্বাস নিতে পারবে। নিজেদের শিল্পে অন্যরা মুগ্ধ হবে, অন্যদের শিল্পে আমরা মুগ্ধ হব (++=+)। সবার প্রতি লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছানু ভাইয়া।
ছড়া: দেহ ইঞ্জিন
সাবিত রিজওয়ান
দেহ ইঞ্জিন চালার জন্য
লাগেনা কয়লা, বিদ্যুৎ, অকটেন পণ্য।
টক, তেতো, লবণ, মিষ্টি, ঝাল
আরো লাগে কাঁচামাল
হাওয়ার উথাল-পাতাল।
এক দিকে নিব আমরা আরেক দিকে দিব,
জীবনে প্রেম-ভালবাসা এইতো তব।
বেশি বসলে অবস
আর বেশি খাঁটলে ব্যথা-বিস।
কর্ম-ধর্ম দিয়ে মর্মের তরী,
দুই দিনের দুনিয়ায় চলে জীবন গাড়ি।
ছোট্ট সোনা বড় হবে, বড় একদিন বিধায় নিবে!
এই আছি এই নাই এইতো তবে।
ছড়া: ঠেলি কিন্তু টানি না
সাবিত রিজওয়ান
তাই নাই হায়,
চাই, চাই আরো চাই।
অন্ন-বস্ত্র, অস্ত্র, চাই অর্থ,
মনুষ্যত্বের স্বাদ না পেলে এই জীবন ব্যর্থ।
ঠেলি কিন্তু টানি না,
তাইতো উপরে উঠতে পারি না।
আমরা সবে বেড়ি
হামেশা বলি দেরি,
ভাঙ্গিনা অন্যায়ের কারাগার
হচ্ছে সব আধার ধইরাছে আমাদের ডর।
হইছে জগৎ ফতুর,
ডিম পেয়েছি ভিতুর।
কে গরিব, কে ধনি
কে নির্গন ফের কে গুণী!
এক আল্লাহর সৃষ্টি সবে,
এত ব্যবধান কেন তবে।
কবিতা: টাকা^৩
সাবিত রিজওয়ান
টাকা, টাকা, টাকা
আমার হইল বাড়ি ফাঁকা,
টাকা ছাড়া জীবন হলে নিঃস্ব বেঁচে থাকা।
যার ঘরে নেই তা
সে বুঝে ব্যাথা,
দিন কেমনে যায় বন্ধু হয়না বাড়ি থাকা।
ওরে বেকার লোকে বুঝে টাকা কাকে বলে,
টাকার জন্য এখন মানুষ অসৎ পথে চলে।
সামনে-পিছে, ডাইনে-বায়ে শুধু টাকা,
চার দিকে যে ঝাকানাকা।
টাকার জন্য ভাইয়ে ভাইয়ে হয়রে খুনা-খুনি,
টাকা হলো সবার কাছে সোনার মনি।
টাকা থাকলে আইন, বিচার কিনতে পাওয়া যায়,
ওরে টাকায় করে কাজ
মানুষের নাম আজ।
কবিতা: পানসে প্রীতি
সাবিত রিজওয়ান
বাঁশের আড়ালে কেরে
আউআহ ধ্বনি পাচ্ছি ধিরে ধিরে,
এই পথ ধরে গিয়েছিলাম বন্ধুর বাড়ি পাইনি ত তার দেখা!
মুড়ায় কে সিগারেটের মোথা ফেলছে,
গন্ধ পাচ্ছি কেউ এখানে আছে
ঘুগরি চিঁচিঁ… বাজনা দিচ্ছে
কিন্তু এখানে ত আমি একা।
আমায় দেখে ব্যাঙ লাফ দিল,
উড়ে এসে ঘাড়ে প্রজাতি বসল
জেটি টিকটিক আওয়াজ তুলল।
উড়ে যাচ্ছে বনটিয়া,
কোকিল কইঞ্চা ধরছে আকঁড়িয়া।
গাঁয়ে যাওয়ার ক্ষুদ্র পথ এটা,
প্রায় দেড়শ বাঁশ নিয়ে এই থোপ
পথের কাছে দশ-বারোটা!
ভূত কি করছে ধুপধাপ?
তিনটি কুকুর এ পথ দিয়ে চলছে কোথা,
শিয়াল কি পড়ছে গীতা?
ধানের ভূই থেকে কী ফিসফিস করছে বেজি!
না তা ক্যামনে শব্দ করছে বিড়াল বুজি।
কীরে প্যাকেটে এটা কিসের কলার ছবি, নতুন ব্যান্ডের ম্যাচ এটা?
মাদকে কী সন্তোষ পায় ইয়ং জেনারেশন কটা!
মুক্ত অক্সিজেনের এভাবে হচ্ছে হ্রাস
অদৃশ্য কারাগারে বন্দী মানবতা, কবে তার খালাস।
ল্যাটার মাছতো আয়-য়ূহ করবে না,
এখানে কচ্ছপ আছে কি-না জানিনা;
যেহেতু এসেছিলাম সময় কাটাতে বন্ধুর বাড়ি!
যাব না কোথাও এখন যতক্ষণ সন্দেহ না মিটাতে পারি।
একটি বক উড়ে আসিল,
এদিকে মোরগ-মুরগি প্রতিধ্বনি দিল।
যা আছে কপালে একটু ভিতরে যাই,
গিয়ে দেখি একটি ছেলে ভিডিওর ধান্দায়!
ফুটে রয়েছে তার চেহারায় ভয়-খুশির বিস্ময়।
চারদিকে নজর দিচ্ছে আড়ায় কেউ ঢুকে নাকি,
এতক্ষণ শব্দ করছে এ কি?
বয়সে বুজি মোদের মত,
চোখে রয়েছে ঘুমের খত!
হয়তো রাতে কম ঘুমায়
সে আমায় দেখে আমায় বলল, কি চাই?’
ঝোপে কি যেন নড়ে আবার নিরব হলো,
আমি তাকে বললাম, ভাই এখানে কাঠবিড়ালি ছিলো!’
“এখানে নাই কোন কাঠবিড়ালি,
যেখান থেকে এসেছো চলে যাও সেখানে!”
“একটু ভিতরে যাব কাজ হলেই আসব চলি”
“এখন ঢুকা যাবে না অরণ্যে।”
লোকে বলে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি সবার আকর্ষণ বেশি,
ছেলেটি যেহেতু ভিতরে যেতে নিষেধ করল তাই ঢুকে দেখতে হবে কীসের এত কষা-কষি।
“আমি গিয়েই ঘুরে আসব, তোমার কোন ক্ষতি করব না!”
সে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলছে, বলছি ত যাওয়া যাবেনা।’
“প্রসাব করতে যাইতে দেন”
“ভাই বিরক্ত করেন নাতো সেখানে বসাইছি ফাঁন।”
সে যত নিষেধ করছে ভিতরে না যেতে,
তত যেতে ইচ্ছে জাগে অন্তরেতে।
আমি বার বার যেতে চাইলে মোরে হুমকি দেয় সে মারের,
রহস্য আজ উদঘাটন করতে হবে দেখি কত সাহস তার।
আমি দুকদম এগোতে সে আমায় আঘাত করল কইঞ্চা দিয়ে,
লোহা দিয়ে লোহা কাটতে হয়! আমি অস্ত্র বানাইলাম কাঁচের বোতল ভাঙ্গিয়ে।
সে বলে উঠল, নবিনের গায়ে যদি পরে হাত
তোরে করব কপোকাত।’
ঝাপসা চোখে দেখছি আমি একটি ছেলে, একটি মেয়ে আড়া থেকে যাচ্ছে ছুটিয়া,
কি কারণ?
তাঁদেরকে ডাকার পরেও তাঁরা সাড়া নাহি দেন!
তাঁদের পিছু ছুটতে গিয়ে ধান ভূইয়ে গেলাম পরিয়া।
বাঁশের আড়া থেকে উধাও নবিন কঞ্চি পালোয়ান,
নজরে পড়ল ধান ভূইয়ে পড়ে রয়েছে রিফাতের মুঠোফোন।
তাহলে কী ছুটল রিফাত!
মেয়েটি কেন নিয়েছে তার সাথ।
দুজনে কোথায় গেলো এমন ভাবার সময় কে যেন আমায় লাথি দিয়ে আঘাত করিল,
চেয়ে দেখি রিফাত এসে আমায় থাপ্পড় মেরে ফোন নিয়ে উধাও হইল।
বুঝলাম না সে আমায় মারিল কেন,
বাড়িতে চলে গেলাম।
বিকালে দেখি মাতালে করে মাদকবিরোধী আন্দোলন,
কারো কাছে ট্যাটু হয়েছে নকশা
এ কেমন ফুল আর ভ্রমরের কানন।
মেথর টয়লেট সাফ করে বিধায় কেউ করতে চায় না সন্মান,
মেথর যদি তা সাফ না করত তবে পড়ে রইত গু-পেটের ময়লার উদ্যান।
এক মাস পরে একদিন এক গ্রামে শুভ সহ ঘুরতে গিয়ে এক বাড়িতে শুনি গুনগুন
তাসমিন নামের একটি মেয়ের বিয়ে হয়নি তবু বাচ্চা পেটে এমন,
কেন নোংরা কাজ দেখাচ্ছো প্রভূ আমার হয়না কেন মরন।
বুঝিনা সবাই আমায় কম-বেশি চিনে,
তবে কেন নাহি মানে?
তখনি শুভ’র কাছে থাকা আমার ফোনে চয়ন কল দিয়েছে,
শুভ তাকে বলল তুফান আমার সাথে রয়েছে।
তুফান নামটি শুনে এক ছেলে এসে আমায় বলল, আপনি কি নবিনকে চিনেন?’
“না, কিন্তু আমায় প্রশ্ন করলেন কেন?”
“আপনি কি তুফান?”
“হ্যা, তাতে কী সমস্যা বলেন!”
“সেদিন বাঁশের আড়ায় কী হয়েছিল বলতে পারো!”
“আপনি থেকে তুমি? আমি ইন্টারভিউ দিতে পারব না কারো।”
তাঁরা আমাদের তাঁদের আঙিনায় নিয়ে গেলো,
একটি মেয়ে ঘরের কোনে! আরে এটা না সেই মেয়েটা
ঝাপসা দেখেও বুঝতে পারলাম সেদিন বাঁশের থোপ থেকে যে আমায় দেখে দৌড়ে ছিলো।
শুভ বলল, কী ব্যাপার আমরা পথিক, আমাদের এখানে নিয়ে যে আসলেন!’
ছেলেটি আমায় বলল, মেয়েরা হলো মা-বোনের জাতি করিস তাদের ইজ্জতকে সন্মান।’
আমি বললাম, বুঝলাম না’
“বাঁশের আড়ায় কি করেছিস সেটা বল নইলে ছেড়ে দিব না।”
“বাহ্ উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে,
মেয়েটির কী দোষ ছিলনা!
সে দেখতে গেলো কেন বাসর ঘরে বিড়াল ক্যামনে মারে।”
শুভ বলল, এরা নিজের কলঙ্ক নিজে মাখে
বাঙালি মাংস বুঝেনা হাড্ডি জন্য চেয়ে থাকে।
হায় হায় কুত্তা বান,
করে নাকি সমাধান।’
আমি দোষ দিচ্ছি না সবার,
আপনি দোষ গায়ে মেখে নিলে সেটা আপনার ব্যাপার।
তোরা ধ্বংস করলি শিক্ষাটাকে,
পরকিয়া ছড়াই দিলি দিকবেদিকে।
এ জাতিটা পুরো উলঙ্গ,
বুঝেনা মানব সত্তা! বুঝে লাভ-ক্ষতির অংক।
তবে কী সেদিন তাসমিনের সাথে রিফাত ঝোপে ছিলো,
নবিন তখন কেন অরণ্যে ঢুকার নিষেধ করল!
কেন তারা আমায় দেখে নাহি থামলো,
তবে কি রিফাতের কারণে তাসমিন প্রেগন্যান্ট হইল?
ছড়া: অভিমান, কিছুটা প্রেম
সাবিত রিজওয়ান
করুক-না করতে দিন,
মরুক-না মরতে দিন,
পাউক-না পেতে দিন,
খাউক-না খেতে দিন,
দেশতো শুধু আপনার-আমার না!দেশটা সবার জন্য স্বাধীন।
কেউ শয়নে বাঁচুক,
কেউ স্বপ্ন দেখুক,
কেউ হৃদয়ে আঁকুক ভালবাসাকে,
কেউ কান্না করে এদিকে-সেদিকে।
মনখুলে কাঁদতে দিন,
কেউ মঙ্গলের জন্য করে আন্দোলন।
ছোটগল্প: জলন্ত আর্তনাদ
সাবিত রিজওয়ান
গভীর রাতে তুফানের ঘুম ভাঙ্গল। চাঁদনির আলো। মৃদু হাওয়া বইছে। বাড়ির পাশেই পুকুর পাড়। এবার তেমন মাছ ছাড়া হয়নি—টাকার সংকট, ছাড়বেই-বা কিভাবে? চোখ থেকে যেন ঘুম হারিয়ে গেছে, বিছানায় আর গা ঘেষতে ভাল লাগছে না। ইচ্ছে করছে—টংগে বসে ডিপ্লোমা বইগুলো ছিড়ে ফেলে, আগুন লাগিয়ে দিতে! কেননা এখন তার কোন প্রয়োজন নেই।
চাকরিটাকে দাসত্ব মনে হয়। বর্তমানে এই দাসত্বটাতেও টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয়, এটা যেন নিজের চেতনাকে অন্যের বোতলে বন্দী করে রাখার মতো; অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া। জানি দেশে আর কোনো উদ্যোগক্তা তৈরি হবেনা, এটা মেনে নিয়ে প্রতি নিয়ত প্রার্থনায় মরনকে ডাকে। কবে মৃত্যু হবে আমার, কবে মুক্তি পাব। কতই আর পারিবারিক অশান্তি, খোটা সহ্য করব বলো? ছোট ভাইটা ম্যাট্রিক ফেল। দিনে দিনে বাবার বয়সটা বেড়েই চলেছে, কতই আর বাবার কাঁধে ভর করব?
তুফান এখনো বিয়ে করেনি, নুন আনতে পান্তা ফুরায় সংসারের অবস্থা। সাটিফিকেটটা কি বাক্সে তুলে রাখা পর্যন্তই থাকবে?
হটাৎ মনে হলো কেউ পুকুর পাড়ে আসছে পা টিপেটিপে, তিনিও প্ল্যান করল চুপিচুপি পা টিপে টিকে সেখানে যাওয়ার, ঠিক যেমন ভাবা—তেমন কাজ। তিনি পুকুর পাড়ের কাছাকাছি আসতেই তাঁর নজরে পড়ল প্রতিবেশী সুমনের হাতে কোদাল, ঘাড়ে একটা বস্তা। সুমন এখন, এখানে কি করছে? বস্তায় কি? কোদাল দিয়ে কি করবে? সুমন তো গতবছর ছাগল চুরি করতে ধরা পড়েছিল। তাই সন্দেহ তো একটা থাকবেই, স্বাভাবিক।
তুফান সজনা গাছটার আড়ালে লুকিয়ে তার (সুমন) দিকে নজর দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর থেকে দেখছে সে নিখুঁত ভাবে মাটি খুরছে, এমন ভাবে খুরছে যেন এখন শব্দ না হয়, আর দিনের বেলা কেউ যেন বুঝতে না পারে মাটি খুরা বা মাটিতে কিছু নেই। যেহেতু পুকুর পাড়, মাটি অল্প স্যাঁতস্যাঁতে, তাই মানুষ যদি মাটির দিকে দেখে তাহলে ভাববে মাটির চলটে উঠে গেছে! হয়তো তেমন একটা সন্দেহ করবে না।
সুমন টের পেয়ে আতঙ্কে মালপত্র রেখেই দৌড় দেয়। এভাবে চোরেরা চুরি করা জিনিস কিছু দিনের জন্য গায়েব করে রাখে। পরে গুঞ্জন থেমে গেলে মালপত্রগুলো তাদের হয়ে যায়। আসলেই কি সেগুলো তাদের? ওগুলো তো অন্যের মালপত্র চুরি করে আনা। ব্যতিক্রম থাকতে পারে। আইন এটাকে কি বলে সেটা আমার (তুফান) জানা নেই।
খাদে পড়ে রয়েছে খাদ্য সামগ্রী। পেটের ক্ষুধা তাদের চোরে রূপান্তরিত করেছে। এবং এটা আস্তে আস্তে অভ্যাসে পরিণত। যার পেটের সাথে মনের ক্ষুধা রয়েছে সে কি করবে? মানুষকে ভালবাসা দিয়ে অসৎ পথ থেকে দূরে আনতে হবে, যদি তা দিয়ে না হয় তাহলে ব্যতিক্রম উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।
তিনি সুমনকে ডাক দিয়ে বলল,”এ এখানে আয়, আজকে তোকে একটা সুযোগ দেওয়া হলো। আমি কাউকে আজকের ব্যাপারে কিছু বলব না, তবে এমন ভুল আর কোন দিন করিস না। যাঁর মালপত্র চুরি করেছিস! যেদিন স্বাবলম্বী হবি, সেদিন তাঁর মালপত্র কিনে দিবি; তিনি না থাকলে তাঁর ছেলে-মেয়ে কিংবা নাতি-নাতনিদেরকে দিয়ে আসবি। তবে চেষ্টায় থাক অল্প কিছুদিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার।” এমন বলা হয়তো সহজ, কেননা সে আমার পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারবে না, আর আমি তারটা পারব না।
আমাদের দেশের আয়তন যতটুকু, জনসংখ্যার তুলনায় কর্ম, কর্মসংস্থান কম। যেমন- শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি, ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি।
কত আর কাউকে/নিজেকে বুঝ দিব আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে, ফলাফল পরকালে। যদি সবাই মিলেমিশে থাকত, তাহলে একটি চুলের মত আয়তন গলি দিয়ে হেটে যাওয়া যেত। আসলেই কি দেশে অকাল নাকি এই সমাজটাই অকাল এনেছে? বিচ্ছিন্ন হয়ে কখনো আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করা যায় না।
হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত,”ক্ষুধার জন্য কেউ যদি রুটি চুরি করে তাহলে চোরের নয় বরং রাষ্ট্রপ্রধানের হাত কেটে দাও।” চুরি পথকে বেছে নিতে বাধ্য করে মানুষের নিষ্ঠুর মায়াজাল। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,”যখন অযোগ্য লোকদেরকে রাষ্ট্রীয় কাজ কর্মে নিযুক্ত করা হবে গখন কিয়ামতের অপেক্ষা কর।”
ছোটগল্প: এখন কতটা মজবুত মেরুদণ্ড শিক্ষা
সাবিত রিজওয়ান
আমার চাচা মজা করে বলেছিল, খাওয়ার পরে পড়বা নইলে খাদ্য উপরে থাকবে আর পড়া নিচে থাকবে! টয়লেট গেলে সব পড়া টয়লেটে জমা হবে। ভাত খাইছো কি দিয়ে? কেউ স্টাইল করে চামচ দিয়ে খায়, আমরা গরীব মানুষ হাত দিয়ে খাই। শীতে পড়ার সময় শরীরে জ্যাকেট/ছুইটার দিয়ে রাখতে হবে, নইলে জ্বর/কাশ হবে। তুমি কোন ক্লাসে পড়? “দশম শ্রেণি”। তাইলে দশ তলা। আর দশ তলা থেকে পরইা গেলে হাড়-হাড্ডি গুড়মুর হবে, শরীরে জখম হবে, স্কুলের মাটি কেঁপে উঠবে। তোমার শরীরের ক্ষতি হবে, এমন যেন না হয় যেন কষ্ট না পাও। গরমে এমন ভাবে পড়বে যেন ধুলাবালি শরীরে স্পর্শ না করে। আমরা যখন স্কুল যেতাম। আমরা যদি স্যারকে পড়া না বুঝিয়ে দিতাম, কীভাবে কী হলো! কতখানি বুঝেছি অথবা কোন দোষ করলে স্যার আমাদেরকে মাইর দিত। আমরা যদি পড়া না বুঝি তাহলে স্যার আমাদেরকে পড়া বুঝিয়ে দিত বারবার, শতবার, হাজার বার বুঝিয়ে দিত। আমরা অনেক বার পড়া বুঝিয়ে নিয়েছি। স্যার আমাদেরকে আলোর সন্ধান করা শিখাইত, আদর করত। বর্তমানের স্যারেরা এমন করবে না। একটি বিষয় ছয়-সাত বার অথবা দশবার বুঝাই চাইবা দেখবা স্যার বিরক্ত হইছে। তাঁদের ধৈর্য কম, তাঁরা শিক্ষাটাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে। শিক্ষা এখন মৃত্যুদণ্ডের মত। আমাদের আমলের নীতিগুলো যদি এখনো থাকত, থাকত সেই শিক্ষা ব্যবস্থা তাহলে আবার শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হইত। আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেগুলো কোথায় যে হারিয়ে গেল খুঁজে পাচ্ছি না।-
দেশ রক্ষী
গণিতে ফেল করা ছাত্রটি একদিন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করবে। গ্রামারে ফেল করা ছাত্রটি একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিয়ে অগণিত মানুষের সমর্থন পাবে, পাবে অনুপ্রেরণা-সন্মান। পদার্থে ফেল করা ছাত্রটি একদিন সেনাবাহিনী হবে। রসায়নে ফেল করা ছাত্রটি ডাক্তার হবে। কৃষকের ছেলে জীববিজ্ঞানী। গরীরের ছেলেটি দেশের সরকার। শ্রমিকের ছেলে হবে রাষ্ট্রদূত, যে সবার মাঝে শেয়ার করবে দেশ-বিদেশের পরিস্থিতি।
হুট করে বড় হওয়া আমাদের বৈশিষ্ট্য নয়, আমাদের শিখিয়ে দেওয়া হত একবার না পারিলে দেখ শতবার।
শিক্ষার নাক চেপে ধরা হয়েছে
এখন তুফানের ধারণা ও চারপাশ নিয়ে আলোচনা। তোমাদের টাকা আছে বিধায় তুমি কোচিং এর পাশাপাশি প্রাইভেট যাওয়া আসা কর। যেন বুজতে পার ভাল ভাবে আর শিখতে পার কিছু। আমাদের টাকা অল্প তাই প্রাইভেট যাইতে পারিনা শুধু কোচিং যাই। কোচিং এর মাসিক বেতন ঠিক সময়ে দিতে পারিনা। আমাদের স্বাদ্ধ কুলায় না বিধায় তো। কোচিং রুমে স্যার প্রবেশ করে এক লাইন অংক তুলতে না-তুলতেই তুমি স্যারকে বলছো পরের অংশে, পরের লাইনে কী লিখতে হবে। কেন স্যার কি জানে না? আমরা তো স্যারের কাছে বুঝে নিতে আইছি। তুমি প্রাইভেটে অংকগুলো শিখছো বিধায় পন্ডিতগিরি করছো। এখন স্যার চাইবে অতি শিগগিরই বই পড়ালেখার মাধ্যমে কমপ্লিট/শেষ করতে। তোমাদের মত শিক্ষার্থীর কথায় কান দিয়ে স্যার ভাবতিছে সকলে বুঝি এই অংকটা বুঝেছে। কারণ দু-একজন যেহেতু বলতে পারছে কোথায় কী বসবে। ভাতের একটি দানাতে চাপ দিয়ে পুরো ভাতকে চেনার চেষ্টা। স্যার এখানে কোন মত ভাজুং-ভুজুং (বুঝিয়ে) দিয়ে অংকটা শেষ করবে। ফলে কতজন তা বুঝতে পারল? হয়তো স্যার সকলকে বলবে বুঝেছ! আমি অথবা কেউ বলতে পারে বুঝিনি। স্যার আর একবার গুরুত্বহীন হয়ে ভাজুং-ভুজুং দিবে। কিন্তু সেটা আমার অথবা কারো মাথার উপর দিয়ে উড়ে চলে যাবে। এখানে তুমি পন্ডিতগিরি করলা বিধায় আমি বা আমরা কয়েক জন অংকের বিস্তারিত ভাল ভাবে বুঝতে পারলাম না। স্যার এসে হোয়াইট ব্রোডে অংক তুল, একবার বক্তব্য দিল। তার মানে এক পলকে কি আমরা বুঝে গেলাম? নিজেকে হয়তো বুঝ দিব টাকার কাছে পরাজিত হলাম। শিক্ষা ত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, কোচিং এ বেতন দিয়েও কিছু শিখতে পারলাম না। এখানে কেউ যদি আমাকে বলে,”তুমি আবার স্যারকে জিজ্ঞেস করতে, অংকটা তুমি বাদে সকলে বুঝেছে।” তাহলে আমি উদাহরণ হিসেবে বলি, এ বছর আমাদের বোর্ড থেকে এসএসসি ৭২% পাশ করেছে। তাদেরকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা হিসাবে উল্লেখ করা হয়। ২৮% ফেলের মধ্যে সর্বনিম্ন ১১% আমার মত পরিস্থিতির শিকার। কোচিং এ তোমাদের মত পণ্ডিত ছিল বিধায় আমরা গুরুত্ব পাইনি স্যারের। অনেকে আমাদেরকে অপমানও করে, পরিবার থেকে আদর পাইনা। তুমি যদি তখন পন্ডিতগিরি না করতে তাহলে স্যার হয়তো ঢেলে সাজিয়ে A টু Z বর্ণনা দিত। তোমরা কেন এই বিষয়টি বুঝতে পার না? কোথায় কীভাবে থাকতে হবে, এটিই আগে বুঝতে হবে। বই পড়লে জ্ঞান অর্জন হয় তবে আরো একটি কথা, কোন জ্ঞানীগুণি বলেনি বইয়ের মধ্যে সব জ্ঞানই থাকে। আমি দেখেছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুখস্ত বিদ্যার প্রচলন। আমি দেখেছি পরীক্ষায় নকলের কারবার। আমরা শুনেছি কেউ টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিনেছে। আমি দেখেছি কোটা পৃথা। শিক্ষার্থীদের টাকা স্যার-কমেটি দূর্নীতি করে মেরে খাচ্ছে। আমরা দেখতেছি-জানতেছি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ধর্ষণ, আবার কারো কারো প্রেম। আমি দেখেছি পথেঘাটে শিক্ষার্থীদের বেহায়াপনা আচরণ। আমি দেখেছি স্বার্থের লোভে কেউ ছুটে আসে। কিছু স্যার অল্পতে হাঁপিয়ে যায়, বারবার বুঝাতে বললে বিরক্তবোধ করে! পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে তাকে ধমক/গালি-বকা, মাইর দেওয়া হয়। (তবে কিছু কিছু স্কুলে দেখেছি শিক্ষার্থীরাই শিক্ষককে ধমক দেয়, ন্যায়-অন্যায় নিয়ে।) সে যে স্কুলের ছাত্র সেই স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ালেখা করে আর আর স্কুল পরীক্ষায় তার রেজাল্ট তিনি পাশ করে এগিয়ে দিলেন। যেমন সে প্রকৃত নম্বর পাবে ৪০, তাকে ৪৫-৫০ নম্বর দেওয়া হয়েছে। এটা কি কোন স্যার ও ছাত্রের বৈশিষ্ট্য?
[কোন প্রকার ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন]
শিশুতোষ ছড়া: শীতের হাওয়া কনকনে
সাবিত রিজওয়ান
শীতের হাওয়া কনকনে
বৃদ্ধটি ঝঁকছে ঠান্ডা কাঁপনে,
কার হবে রক্ত সঞ্চালন!
টইষ্সা থেকে রেহাই পেতে
যাই হাত-পা ছ্যাকতে
একটু খড়-খড়িতে দিয়ে আগুন।
জ্বর হয়েছে বাচ্ছাটিরো,
জল-সর্দি নাক বয়ে পড়ছে কারো।
কেউ লাগাইছে খেজুর গাছে ঠিলা,
মা করেছে বরই ঝালা।
কভূ খোদার রহমে সূর্যি মামা উঠে,
মিষ্টি রৌদ্র বলে যাই ভিটামিন-সি নিতে।
গোয়াল পিছলে গরুর পায়ে হইছে জখম,
খালা আইছে ঢেকিতে ছাতু করতে গম।
ঘাঘটে পাথরের বাচ্চা করছে হাটাহাটি,
তীরে ঢোঁড়া সাপ মেরে আছে ঘাপটি।
রাছেলদের দিঘিতে জেলে জাল খেওয়ায়,
দূরের কিছু ঝাঁপসা শিশির-কুয়াশায়।
ট্যাক থেকে ঘুঘু ডাকে,
খুফরি থেকে মোরগ বাঁকে!
কেউ করে ঠাট্টা
রংপুরে তেরোটি কুকুর মরছে,
মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে কয়
এ আজিজ বিড়ি টাইনছে।
ক্ষের কুঁড়ে ঘরে সাইফুলরা কোকরা লেগে কখন মরে মরে,
ইউপি অবৈধ প্রতিনিধি সেবা দিল কই!
আমরা কী তাঁগো পাঁকা ধানে দিয়েছি মই।
কেউ গাড়ে আলু
কারো ভূইয়ে শিম-পাট,
কৃষি দ্বারা আমরা বাঁচি
খেয়ে তরকারি আর ভাত।
পিঠাপুলির দিনে রোকেয়া মেলা আসে,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পালন বিজয় দিবসে।
শব-ই মেরাজ প্রার্থনার করার সময়,
করি ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
খালি পায়ে শহিদ মিনারে হেটে যাই।
সুপারি গাছে সবুজ-হলুদ গোলগাল,
পিয়ারা গাছে ধরছে ফুল।
ভোরবেলা ছেলেমেয়েরা যাবে মক্তবে,
দুখুর মত সুর তুলে-
আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে।
ছোটগল্প: দৈত্যের শহরে
লেখক: সাবিত রিজওয়ান
নদের তীরে এসে দেখি—জলের চেয়ে আবর্জনাই বেশি। কোথাও টলটলে জল নেই, আছে শুধু নোংরা গন্ধ আর নষ্ট জীবনের ছাপ। দূরগন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে, মশারা গান গেয়ে গেয়ে মাথা খাচ্ছে! মনে হচ্ছে আমি কোনো যুদ্ধের ময়দানে, ট্যাঙ্কের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।
না, এখানে আর এক মুহূর্তও থাকা যাবে না। পালাতে হবে—নইলে দেহে জ্বর উঁকি দেবে।
সন্নিহিত কে-জি স্কুলটার সামনে গিয়ে দেখি—কয়েকজন অদ্ভুতদর্শন মানুষ নয়, কী যেন! যেন ভয়ংকর প্রাণী।
তারা এক মৃতদেহকে কাবাব বানিয়ে খেতে ব্যস্ত। খাচ্ছে, হাগছে, থু থু দিচ্ছে—সব একসাথে।
তারা একটি তরল পদার্থ পান করছে, যার গন্ধ প্রস্রাবের মতো।
তাদের মাথায় যেমন চুলের কাটিং, যেন চুল নয়, সাপের গুচ্ছ।
চোখের রঙ প্রকৃত নয়—চোখের মাঝে অর্থাৎ চোখের তাঁরাও বিকৃত। এগুলো কি শিল্প? কারো কারো ভ্রু, পাতায় আঁকা বিভিন্ন প্রতিচ্ছবি, যেমন— মোটরসাইকেল, সিগারেট, রংধনু, জীবজন্তু ইত্যাদি। কারো চোখে চশমা, লেন্স দেখলাম, তারা অন্ধ নাকি? মনের মাঝে বলক উঠলো, তারা কী সুশীল?
কারো সারা গায়ে অদ্ভুত আর্ট—
বুকজুড়ে অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক পাখির অবয়ব, পিঠে খোলা মুখ—জিভ বেরিয়ে আছে। কারো সারা গায়ে চোখ আঁকা, যেন সর্বদ্রষ্টা।
কারো হাতে হাতি, পায়ে শয়ূর, পিঠে পেঁচা! দেখলাম একজনের চেহারায় গলা কাটার প্রতিচ্ছবি, দেখে মনে হবে বাস্তবে তার গলা কাটা। কারো জিভে বিচ্ছুর প্রতিচ্ছবি, বা প্রাণীটির মতো আকৃতি। কারো নাক চেরা, কারো নাকে ঈগলের প্রতিচ্ছবি। কারো কান নেই, কারো কান গাজরের মতো লম্বা, কারো কানে পেঁচার প্রতিচ্ছবি ইত্যাদি।
এসব কী? ফ্যাশন না বিকৃতি?
কারো দেহের অঙ্গ একটির সঙ্গে আরেকটির মিল নেই—ভঙ্গুর, বিকৃত, ভয়ের।
শুনেছি একসময় এই নদে জাহাজ চলত।
এখন নদে দুই-তৃতীয়াংশ জল শুকিয়ে বালুচর হয়ে গেছে। কোথাও কোনো মানুষের ছায়া নেই।
আমি পাশের বটগাছের দিক দিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হলাম।
বটগাছটার নিচে বসে আছে এক ফণা তোলা সাপ। আমার দিকে ফোঁস ফোঁস করে তাকিয়ে আছে।
মনে হয়, সে ইশারায় বলতে চাইছে—
“তোর পায়ে ব্যথা, আয় (এসো), মালিশ করে দিই।”
উহ্! গাছ থেকে পুঁজের মতো কিছু ঝরছে।
বামপাশের রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। সেখানে একটা গ্রাম আছে,
সেখান দিয়ে আমাদের গ্রামে যাব হয়তো ফিরতে দেরি হবে,
তবুও কী আর করার আছে?
সূর্যি মামা যেন লুকোচুরি খেলছে, আবছা আলো।
এমন সময় হঠাৎ আবির্ভাব হয় বিশাল এক দৈত্যের।
সে বারবার পিষে ফেলতে চায় আমাকে—
আমি তার পায়ের নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছি!
মনে পড়ে গেল শাহজালালের সেই কথা—
“মশার চাইতে মানুষই বেশি বংশবিস্তার করে।”
কিন্তু এই শহরে কি দৈত্যরাই বেশি বংশবিস্তার করছে?
ওরা, যারা মৃতদেহ খাচ্ছিল, এবার আমার সামনে এসে হাজির।
তারা আমাকেই খেতে চায়!
সবাই বুঝি দৈত্য কমিটিতে নিযুক্ত।
তাদের কণ্ঠে ভেসে আসে এক কুৎসিত ঘোষণা—“যে আমাদের ফ্রেন্ডসের কাজে বিঘ্ন ঘটায়, তাকে আমরা বাঁচতে দেব না!”
কারা তাদের ফ্রেন্ডস? আমি কোন কাজে, কবে বিঘ্ন ঘটালাম? তারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল নাকি?
আমি পালাতে চাই, কিন্তু শরীর যেন পাথর হয়ে গেছে।
পাহাড়ের মতো ভারী লাগছে নিজেরই দেহ।
হঠাৎ কোথা থেকে আমার দিকে ঢিল ছোঁড়া শুরু হয়।
একটা ঢিল এসে মুখে লাগে—
একটা দাঁত পড়ে যায়!
প্রচণ্ড ব্যথা।
মাথাটা ঝিমিয়ে আসে, চারপাশকে ঘোলাটে মনে হয়। শরীরটা হেলে পড়ে, অনুভব হয় পায়ের নিচের মাটিগুলো সরে যাচ্ছে কিন্তু আমি নড়তে পারছিনা। চোখের পল্লব দুটো ধীরে ধীরে নেমে আসে।
• কে যেন কানের কাছে এসে অনবরত ডাকছে—”তুফান, সবাই যদি হাল ছাড়তে বসে তাহলে সমাজকে দূরাবস্থা থেকে মুক্ত করবে কে? এই অসচেতন সমাজ থেকে ভ্রষ্টতা-অবিচারের বিরুদ্ধে কে দাঁড়াবে? কে গড়ে তুলবে সমাজে ঐক্যতা? মানুষ প্রযুক্তিতে এতটাই আসক্ত যে, নিজের চেতনাটাকে জাগিয়ে তুলতে পারে না।”
আমরা স্বাভাবিক ভাবে কতখানি জীবন-যাপন করি? মানুষ তার মনুষ্যত্ব ভুলে যাচ্ছে,…বা হয়তো মানুষ আর মানুষ নেই।
কবিতা: বেকারের আর্তনাদ
সাবিত রিজওয়ান
পথে পথে ঘুরি চাকরির দিশায়,
পেটে ভাত নাই
ইচ্ছে করে এক গ্লাস জলে সার্টিফিকেট ভিজিয়ে
এখনের তৃষ্ণা মিটাই।
হয় ধুলাবালিতে জামাকাপড় জর্জরিত,
চটি জোড়া ক্ষয়,
মায়ের হয়েছে অসুখ—ওষুধ কেনার টাকা নাই।
ব্যবসা করব কোথায় পাই পুঁজি?
পণ্যের দাম, গাড়ি ভাড়া, দোকান ভাড়া, কারেন্ট ভাড়া,
দিতে হয় চাঁদা—
পথের ধারে হকারি করতে প্রশাসনকে দিতে হয় জরিমানা!
বলো শান্তি কোথায় খুঁজি।
হ্যা, আমার মতে-বিপরীতে কেউ যুক্তি দিবে,
বেকারের এই দেশে সবাই যদি ব্যবসা করে ক্রেতা কে হবে?
রাস্তায় দেখো প্রচুর গাড়ি, যাত্রীর নাই খোঁজ,
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি জিন্দা মরি রোজ রোজ।
ভালবাসার ক্ষুধা
সাবিত রিজওয়ান
ভালবাসা এমন যে, কেউ পায়, কেউ হারায়, কেউ পায়না ইত্যাদি। আমারও হৃদে স্বাদ জাগে কেউ আমাকে ভালবাসবে; আপন ভেবে বুকে টেনে নিবে। কেউ আমাকে ভালবাসেনি, হয়তো কারো প্রত্যাশার সাথে মিল ছিল না। কেউ আমার দ্বারা আনন্দিত না, আমি কতটা যন্ত্রণায় ভুগি হয়তো আমার আচরণে তা কেউ দেখতে পায়নি। অনেকে ভাবতে পারে আমি সুখী, কিন্তু আমি অনুভব করি একাকিত্ব।
নাটিকা: কোকিলের প্রেম সুর
সাবিত রিজওয়ান
[গত সপ্তাহে তাজুল স্যার বলছিলেন,”আরএম তুফান, ম্যাট্রিক আর বেশি দূরে না। পড়ালেখা করতে হবে তো, নিয়মিত কোচিং ও স্কুলে যেতে হবে।” তাই কিছুদিন থেকে নিয়মিত কোচিং যাওয়া শুরু করেছি। আমিতো অমনোযোগী ছাত্র তবু পড়ালেখা করার চেষ্টা করতেছি। আমাকে সবাই তুফান নামেই ডাকে। আমি একটু জেদি ছেলে। কাননসহ সাইকেলে চরে স্কুলে আসলাম। কানন দোতলায়। আমি টিউবওয়েলের ওখানে আছি। সাথে রয়েছে রাছেল ও শাহজালাল। রাছেল অবশ্য এখানে পড়ালেখা করেনা। আমরা শাহজালালকে জালাল বা পল্লব নামে ডাকি। গাইবান্ধা থেকে শাহজাহান আমাকে কল করেছে।]
শাহজাহান: কিরে কেমন আছিস?
তুফান: আলহামদুলিল্লাহ।
শাহজাহান: তুফান আজকে গাইবান্ধায় আসতে পারবি?
তুফান: কেন! কিছু বলার থাকলে বল।
শাহজাহান: কয়েক বন্ধু মিলে আড্ডা দিতাম, ঘুরাফেরা করতাম। আসলে ভাল হত।
তুফান: বুঝলামনা কী ভাল হত, আমিতো এখানে ঘুরাফেরা করি। তোরাতো থাকিস দূরে দূরে।
শাহজাহান: গতকাল একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছি বিয়ে বাড়ির। তুই যদি আসিস তবে আজ রাত্রিবেলা ছেলে পক্ষের সাথে আমরা যেতাম।
ছেলের সাথে তুই, আমি আর কয়েক জন লোক থাকত।
তুফান: আমি একজন না গেলেও সমস্যা হবেনা। পড়াশোনা করতে হবে, বেশিদিন নাই পরীক্ষার।
শাহজাহান: বেশ তো। বন্ধু নাটের গুরু মিলন।
তুফান: মাফ কর, অন্য কাউকে নিয়ে যা।
শাহজাহান: আরে আয়না দেশের বাড়িতে! তিনটা দিন থেকে যা।
তুফান: আমি কী বিদেশে আছি! রংপুরও ত বাংলাদেশের 🇧🇩 মধ্যে। এমনভাবে বলতিছিস যেন তোর বিয়া। তুই বুঝতেছিস না আমার কাছে টাকা নাই। থাকলে যাইতাম।
শাহজাহান: আমি কিছু টাকা দিতেছি আর তুই কিছু সংগ্রহ কর এই মুহুর্তে। তোদের বিয়েতে আমি যাব, আমার বিয়েতে তুই/তোরা আসবি।
[শাহজাহানের সাথে কথোপকথন শেষ হলো। রশিদ ভাইকে কাছে কল করলাম।]
তুফান: মন্ত্রী তোর কাছে কিছু টাকা ধার পাওয়া যাবে?
রশিদ: গতকাল বললে চেষ্টা করতাম। এখন সাথে সিগারেট খাওয়ার সামর্থ্য নাই। সাজু মিয়ার কাছ থেকে ৫টাকা নিছম ব্লাক ডায়মন্ড কেনার জন্যি।
তুফান: কই আসিস? ৫টাকায় ডায়মন্ড পাওয়া যায় (অবাক কন্ঠে)।
রশিদ: সাজু মিয়ার সাথে গটিয়ায় আছি, আজ এক মেয়ের বিয়ের আয়োজনে।
তুফান: তোরা শশুর (চাচা শশুর) জামাই বন্ধু বন্ধু তাই না। তোর ফার্মের কি খবর?
রশিদ: ভাল, আয় এখানে ঘুরে যা।
তুফান: যাওয়ার জন্যিই টাকা চাচ্ছি। ওখানে এত কীসের ঘন গন বিয়ে রে। আমাকেও আমার বন্ধু ডাকল বিয়ে খাইতে।
রশিদ: য্যাটে (যেখানে) নৌকা ⛵ বাইচ হছিল, অ্যাটে (ওখানে) রে।
তুফান: কোটে ব্যান (কোথায় যেন জানিনা)।
রশিদ: তা কখন আসবি?
তুফান: জানাইম আলা। তোর বন্ধুর সঙ্গে মেয়েটার বিয়ে!
রশিদ: হ মোক বঙ্গবন্ধু বানাবি নাকি; তোর নামের মত নাম ছেলেটার (বরের)।
[কথা শেষ হলো। স্কুলে দোতলায় উঠলাম। মাহিন আমাকে নিয়ে মজা করতিছে। গ্রামের ভাষায় ইয়াররি। ক্লাস শুরু হওয়ার আরো অনেক দেরি। তাই সব ছাত্র বারান্দায় আছি।]
মাহিন: কোন মাইয়ারে এটা! কামটাম করবি নাকি?
নাইম: তুই প্রেম করতে পারিস না বিধায় অন্য কেহ করবেনা!
তুফান: আরে বোন, ওহ সরি ব্রাদার বুঝার চেষ্টা কর। আমি আমার এক চাচাতো ভাইয়ের সাথে কথা বল্লাম।
মাহিন: একটা কলা (সিগারেট) খাওয়াইতে হবে, তাইলে কাউকে বলব না।
মাইদুল: মাহিন তুই ভাল হইলিনা, মানুষের কাছে সব সময় টাকা থাকে রে!
তুফান: আচ্ছা দুটি সিগারেট (কলা) চারজন খেতে পারব? আগে একটি সিগারেট ছজন টানতাম।
[স্কুলগেটের সামনে দুটি ছেলে আমরা ফল নিয়ে ‘আমরা-আমরা’ করছে/হাক দিচ্ছে। জোবাইদের ছোটভাই জাহিদের হাতে কাঠের স্কেল। জাহিদ তাদেরকে বলছে,”তোদের হাতে ছুরি আছে বলে (তাই) ‘আমরা আমরা’ কয়া ভয় দেখাস। আমার হাতে কিন্তু স্কেল আছে, পিটুনি দিয়া ‘তোমরা তোমরা’ বানাই দিমু।” আমি জাহিদকে বললাম,”এ কিয়া বলতা হে! তুইতো মাহিনের চেয়েও অধিক বুদ্ধিমান। ‘আমরা’ ফলকে ‘তোমরা’ বানাই দিলি। আমরা শালমারা সবজি হাটের ওখানে গেলাম সিগারেট কিনে।]
তুফান: আমার ব্যাগটা একটু এনে দিতে পারবি! পালাব। মতলিবুর স্যারতো আমায় এখন ছুটি দিবে না।
মাইদুল: বাড়িতে যাওয়া লাগবে কেন?
তুফান: এখনি পায়রাবন্দে গিয়ে রেডি হয়ে গাইবান্ধা যেতে হবে।
নাইম: ওকে আমি ব্যাগ এনে দিচ্ছি।
[নাইম ব্যাগ এনেদিল। আমি পায়রাবন্দে যাওয়ার পথে বায়জিদকে কল করলাম। বায়জিদের কাছে টাকা হাওলাত/ধার চাইলাম, সে বলল এখন নাই বিকালে দিব। রেডি হয়ে পীরগাছা গেলাম, হাত টান বিধায় ট্রেন দিয়ে যাব। স্টেশনে ট্রেন আসিল, যাত্রীরা নামা-উঠা করতিছে। আমিও গাড়ীতে উঠলাম। স্পেশাল ট্রেন দিয়ে বেশিক্ষণ লাগল না পৌঁছাতে, লোকালের তুুলনায়। বোনারপাড়া পৌঁছে শাহজাহানকে কল করলাম।]
শাহজাহান: কইরে তুই?
তুফান: বোনারপাড়াত।
শাহজাহান: আমরাও ওখানে। রাকিব নামের এক বড় ভাই সহ আলছি (এসেছি) মার্কেটে। এখানে আয়, শহিদুল ও রহমান আছে।
[মার্কেটে গিয়ে দেখি তাদের সাথে একটি ছেলে ও একটি মেয়েও রয়েছে। ছেলেটার নাম বুজি রাকিব। আমি ভাবলাম বিয়ে খেতে যাবে তাই বোধহয় শপিং করছে, নয়তো রাকিবের বিয়ে। বরের পোশাক কিনতেছে না বরং কনের পোশাক কিনতেছে, মেয়েদের শপিং করতে যা লাগে আরকি। মাঝেমধ্যে আমাকেও বলতিছে দেখতো কোনটা সুন্দর, কোনটা দিয়ে সাজ ভাল হবে। বিল যা হচ্ছে সবাই ভাগাভাগি করে পরিশোধ করছে, আমিও সেই ভাগাভাগির মধ্যে। বিকাল হয়ে আসিল তাই আমরা সবে ভরতখালীতে রওনা দিলাম। শাহজাহান ও রহমান ভরতখালী হাটে নামল এবং আমি ও শহিদুল উল্যাবাঁধে আসলাম। দেখতেছি শহিদুলের মুখে রহস্যের ছাপ।]
তুফান: কি হয়েছে?
শহিদুল: তোমার কিছু হবে! আমার কিছু হয়নি।
তুফান: ক্লান্তি থাকলে রেস্ট নেও, তাতে আমার কী হবে।
[আমার দাদি আমাকে ডাকতিছে। ভাত খাইতে বলল, আমি বললাম পরে খাব। শহিদুল আর আমি গান ♪ শুনতেছি,হেঁটে হেঁটে উল্যায় আসতেছি ও গল্প করতেছি।]
তুফান: আচ্ছা তোমরা থাকতে আমার আসা লাগবে কেন?
শহিদুল: তোমায় ছাড়া যে কোন কাজ হবেনা।
তুফান: এই এলাকায় আমি আসতে চাইনা, তোমাদের কথায় আসলাম।
শহিদুল: কেন আসতে চাও না!
তুফান: না কিছু না, এমনিতেই।
শহিদুল: প্রেম বিষয়ক।
তুফান: আমি একটি মানুষকে কোকিল ভাবতাম, বেইমান পাখি কলিজা কেটে খাইছে আমার।
শহিদুল: সে যদি তোমার কাছে ফিরে আসতে চায় তাহলে তুৃমি কি করবে?
তুফান: এসব নিয়ে কথা বলিও না মাইয়াগো প্রতি আমার রুচি হারাইছে। তুমি চর থেকে কবে আইছো?
শহিদুল: ভালবাসার মানুষকে কী কেউ ভুলতে পারে! গত একদিন আগে, এসে পড়েছি এক ভেজালে মিলনের জন্যি।
[শহিদুলের কাছে জানতে পারলাম সেই ছেলেটির নাম রাকিব। ভ্যানে করে ভরতখালীতে আসলাম রহমানদের ম্যাসে। আমি ভাবলাম রাকিবও বুজি এই ম্যাসে থাকে।]
তুফান: সন্ধ্যা হচ্ছে প্রায়! বিয়ে খেতে কখন যাব;
রহমান: ভাই একটা কথা বলতে চাই মন খারাপ করিস না! এক তরফা অনুষ্ঠান তাই সেটা একটু ছোট হবে। তবে বিশাল আনন্দ হবে।
তুফান: এই কথার জন্যি মন খারাপ করব?
রহমান: তোমার টাকা যখম হবে তখন তুমি চাইলে বড় করে আয়োজন করতে পারো।
তুফান: তুমি বিয়ে করতিছো? আমার গাড়ি ভাড়ায় শট (কম)। বুঝলামনা উনাদের বিয়ে নিয়ে আমার সম্পর্ক কী।
[রহমান ভয়/আতঙ্কে, তার মুখটা লাল বর্ণের হয়েছে। আমি বললাম, ভয়ের কী আছে তোমার বয়স হয়েছে তাই বিয়ে করতিছো। যাক আমি বন্ধু হিসাবে তোমাদেরকে একদিন ট্রিট দিবানি।’ আমাদের কথার মাঝে রাকিব বলে উঠল,”বিয়েটা আপনি করতিছেন।”]
তুফান: হ রহমানের শালীরে বিয়ে করমু।
রহমান: তুফান উনি মেয়ের ভাই।
তুফান: ওহ তাহলে আমাগো বিয়াই। তা কর বিয়া।
রহমান: করমুতো কদিন দেরি আছে, আগে তুমি কর।
তুফান: তাহলে আমায় কথা বলার জন্য রংপুর থেকে আনলে। ভিডিও কল দিলেই ত আমাকে দেখতে ও কথা বলতে পারতে।
[রাকিব অবাক দৃষ্টিতে আমাকে দেখছে।]
রাকিব: রূমে কাপড় আছে যান কাপড় পরে রেডি হয়ে নিন। শুভ কাজে দেরি করতে নেই।
তুফান: আমিতো রেডিই আছি। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে বর-বউকে দোয়া করমু এই ত।
রাকিব: আর্চয্য তো, শাহজাহান কি আপনাকে কিছু বলেনি?
তুফান: ও বলল ওর কার যেন আজ বিয়ে। তাই বিয়ে খেতে আমাকেও ডাকল। তাহলে কি শাহজাহানের বিয়ে।
[রহমান এই আলাপনের মধ্যে আমাকে বলল,”তোমার লগে কণিকার বিয়া।” আমি বলল,”ইয়ারকি বাদ দেও। এত বিভ্রান্তি করছো কেন! কীসের সারপ্রাইজ?” প্রথমেই শহিদুলের ইঙ্গিতে বুঝলাম ভেজাল আছে, কিন্তু কী ভেজাল সেটাই বুঝে উঠতে পারছিনা। কেননা চিন্তাধারা অন্য রকম।]
শাহজাহান: বিয়েটা তুই করতাছোস, যারে ভালবাসছিলি।
তুফান: কারে ভালবাসছিলাম! তোর বোন রে?
রাকিব: কণিকা
তুফান: রহমান আমি কিন্তু এখনে রংপুর চলে যাব। আমার মাথা গরম হচ্ছে।
[আমার চোখ লাল হয়ে গেছে। দেখলাম ম্যাসের বাহিরে মিলনের ছায়া। মিলনকে শহিদুল কল করে বলতিছে এখন আসিস না। আমি একা একা টিউবওয়েলে গেলাম হাত-মুখ ধুইতে। ধোয়ার পরে রশিদ ভাইকে টেক্সট করতেছি।]
তুফান: তুই যেয়ে মেয়েটার বিয়ে খেতে গেছিস, যাবি তার নাম কি কণিকা?
রশিদ: হুম, কীরে তুই নাম জানলি কীভাবে।
তুফান: আমি ভরতখালী আছি, এখানে এসে ইট দিয়ে আমার মাথায় বারি (আঘাত) দিতো।
[শাহজাহান আমার কাছে ভয়ে ভয়ে এসে মাথার চুল বুলিয়ে দিচ্ছে। আমি তাকে বলছি,”তুই বিয়ে কর নয়তো আমায় বিষ এনে দে।” সে বলল,”মোক মাফ করি দে বন্ধু! তুই চাইলে আমাক মারেক, কাটেক তবু কিছু বলব না। তবু তুই বিপদটা থেকে উদ্ধার কর। রাকিব আমি কাছে আসিল।]
রাকিব: ভাই আসলে আপনার বন্ধুদের কোন দোষ নেই। এখানে দোষেরও কিছু নেই। আমরাই ভুল করেছি তবে আপনিও এই ভুলের ভাগিদার।
তুফান: আমি কি করেছি হা, আপনারাই মনকে ভাঙ্গবেন আবার আপনারই টেপ নিয়ে আসবেন জোরা দিতে। এত ঝালাই ত ভাল লাগেনা।
রাকিব: ভাই কথাটি একটু বুঝুন।
তুফান: আমি কি বুঝব? আপনার বোনকে বিয়ে করতে হবে এটাই বুঝতে হবে।
রাকিব: বিষয়টি না শুনলে বুঝবেন কীভাবে। আপনি কণিকার সাথে প্রেম করেছিলেন এটা প্রথমে আমরাও জানিনাই। তবে আমরা বুঝতে পারছিলাম সে কাউকে ভালবাসে। আমরা মাঝেমধ্যে দেখেছিলাম সে কার সাথে যেন কথা বলে। তার বোন এসব জানে। তাকে নিয়ে কেউ কেউ কটু/অমার্জনীয় কথাও বলেছে। যখন প্রেম করেন, তখন কদিনের জন্য সে অসুস্থ ছিল কিন্তু কি কারণ সেটা আপনি জানেন। সে ফাপর করেছিল। আমরা ভয়ে পড়েছিলাম যদি বড় কোন সমস্যা হয়, এমনটা। ইসলামের দিক থেকে তার যেহেতু বয়স হয়েছে তাই আমরা তার বিয়ে দিতে চাই। তার বিয়ের জন্য অনেক ছেলেকে দেখানো হয়েছে কিন্তু সে একটি একটি ছেলেকেও পছন্দ/চয়েস করেনি। আপনাকে সে মন থেকে ভালবাসত। আপনি তাকে বলেছিলেন ‘তোমার অপেক্ষায় থাকব’ অতচ সে আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। আপনাদের গ্রামের আবিদ আমাদের ওখানে মাঝেমধ্যে যাইত/যায়, আপনি কণিকাকে বলছিলেন যেন আবিদের সাথে কথা না বলে। আপনি রংপুরে থাকাকালীন আপনার সম্পর্কে সে আবিদকে কিছু বলতে চাইছিল, কিন্তু আমাদের ভয়ে কিছু বলতে পারেনি। আপনাদের পালাক্রমে সম্পর্ক নিভে যাওয়া সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানিনা। আমরা তার জন্য পাত্র দেখাই বিধায় সে মাঝেমধ্যে আত্মহত্যা করতে চাইছিল। আমরা তাকে অনেক বুঝাইছি কিন্তু সে বুঝতে চায়নি। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি কি কাউকে ভালবাসো? সে বলেছিল,”হুম, আরএম তুফানকে ভালবাসি।”
“সেই তুফানের বাড়ি কোথায়?”
সে বলেছিল,”উল্যা বাজারের আবিদ তাকে চিনে।”
আমরা আবিদের কাছে আপনার সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করেছি। আবিদ ভাবছিলো আপনি কোন অকাম করছিলেন বুজি তাই খুঁজে বেড়াচ্ছি, তার কাছে আমরা আপনার একটা ফটো পাই। সে দিতে চাইছিল না, আমাদের এত পারাপারি/অদৃশ্য অনুরোধের জন্য দিয়েছে। বর্তমানে কণিকা আল্লাহর রহমে সুস্থ আছে। আমরা ত ফুলছড়িতে যাই, আপনার ছবিটা দেখে আমার কাছে কেন জানি মনে হয়েছে আপনাকে আমি কোথাও দেখেছি। একদিন আমি ফুলছড়িতে যাচ্ছি ভ্যানে করে, ভ্যানে একটি কিন্ডারগার্টেনের ছাত্র ছিল। আমি দেখেছি আপনি ছেলেটার সাথে ভিডিও কলে কথা বলছেন। আপনাদের কথা শেষ হলে আমি ছেলেটার কাছ থেকে আপনার সম্পর্কে জানতে চেয়েছি, ছেলেটার নাম মিলন। তারপর থেকে আপনার এই বন্ধুদের সাথে পরিচয়। কণিকার মুখে শুনছিলাম আপনি
‘এমএম কিন্ডারগার্টেন স্কুল’ এ পড়েছেন। তাতে করে শিওর হতে পেরেছি। কিছু মাস থেকে কণিকার সাথে আপনার সম্পর্ক নিরব, তাই আপনাকে আমরা কল দেইনি কেননা আপনি যদি বিরক্ত হন/কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা বিষয়টা এমন না। তাই আপনার বন্ধুদের মাধ্যমে যোগাযোগ। মিলন আমাদেরকে শাহজাহানের সাথে পরিচয়তা রাখতে বলেছে। আপনার বন্ধুদেরকে সব কথা খুলে বলি। মেয়েটা বলেছিল, আপনি অভিমান করে আছেন। আপনার বন্ধুদেরকে বলেছিলাম আপনাকে ডেকে আনতে, সবার মাঝেই একটা মায়া থাকে কেননা তারাও কোন বোনের ভাই। এখন আপনিই মেয়েটিকে আত্মহত্যা থেকে ফিরে আনতে পারেন। এখানে একটি প্রাণের বিষয়, তবে আপনি চাইলে ঝামেলা করব না।’
রহমান: আত্মহত্যা বিষয়টি একটু অনুভব করে দেখ।
তুফান: মেয়েদের যদি ১৭-১৮ বয়স হয় তাহলে সে বিয়ের উপযুক্ত। আর ছেলেদের ২১ হওয়া চাই।
রহমান: ভালবাসা বয়স কিংবা বংশ মানে না।
তুফান: হ হামার বাড়ির আদালতে জানলে মোর মৃত্যুদন্ড। হামার ভাই-এ বিয়ে করছে ২৪ বৎসর থাকাকালীন।
শহিদুল: আরে মিয়া ভয় করলে জয় হবে কীভাবে!
তুফান: উল্যায় যখন জিজ্ঞেস করলাম তখন বলোনি কেন?
শহিদুল: হ তখন জেদি তুফানকে বলে পাগলা ঘোড়ার দৌড় খাই।
তুফান: তুমি করলেনা কেন!
শহিদুল: করমু, আব্দুর রহমান করছে ত।
তুফান: রাজন রহমান?
রহমান: আরে মুই নম (নই)
রাকিব: আপনি আবিদকে নিয়ে চিন্তা করবেন না, আবিদ এর গন্ধ পায়নি।
তুফান: আমি বেকার তারে খাওয়ামু কী, রাখমু কই?
রাকিব: সে আপাদত আমাদের এখানে থাকবে।
তুফান: আপনি কণিকার বড় তাহলে আমাকে ‘আপনি’ করে বলছেন যে।
রাকিব: ঠিক আছে, এখন থেকে তুমি আমি।
[মন থেকে ভেসে উঠল: বিশুদ্ধতা রাশি রাশি’। ভাবছি আজকে বিয়ে কিন্তু প্রথম রাতে বউকে কোথায় রাখব, বন্ধুর কাছে টাকা ধার নিয়েছি লজ্জাও লাগছে। আজকে বাঁধে আসলাম কিন্তু বাঁধে আজকে না গেলে সবাই ভুলই বুঝে নাকি। সন্ধ্যা হয়ে আসল, আর একটু পরে রাত।]
রহমান: বউকে আজকে আমাদের ম্যাসে আনবে, আমি সে ব্যবস্থা করেছি। আমি, শাহজাহান ও শহিদুল অন্য রূমে থাকব। তবে বাড়িতে অতিদূত জানাতে হবে, বউ স্বামীর বাড়িতেই শোভা পায়।
শাহজাহান: বেশি লোককে আমন্ত্রণ করা হয়নি শুধু বন্ধু-বান্ধব ও কিছু আত্মীয়-স্বজন।
তুফান: আমার মাথা ব্যথা করছে।
শাহজাহান: আয় এখান মালিশ করে দেই, পরে ভাবির কাছে মালিশ করে নেইস।
তুফান: মোর দুধের দাঁতই পড়েনি আর আজকে মোর বিয়ে। তোর বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আমি রংপুরে যাব না।
[এতক্ষণে রাকিব বাজারে গিয়েছিল এখন আসিল। শহিদুল আমার চাচিকে কল করে বলল, আজকে আমাদের বাড়িতে আয়োজন তাই তুফান আজ যেতে পারবেনা।’ রাত ছোট দিন বড়। কথা বলা শেষ হবার পরে রওনা দিলাম কণিকার বাড়ির উদ্দেশ্যে। তাদের গ্রামে ছেলেমেয়েরা বলাবলি করছে বর এসেছে কিন্তু তারা আমায় চিনতে পারছেনা। আমিও পাঞ্জাবি পড়েছি, রহমানও পড়েছে। রহমান একটু লম্বা তাই তারা মনে করতিছে লম্বা ছেলেটির বুজি বিয়ে। ফিতে যখন কাটতে যাব তখন শালা-শালীরা রহমানকে বলতিছে,”দুলাভাই শালা-শালীদেরকে আগে খুঁশি করানো লাগবে নইলে ফিতা কাটা নিষেধ।” আমি রহমানকে চুপিচুপি বলতেছি,”তুমি বর, অতচ মুখে রুমাল নাই! বিয়েটা তোমার সাথে সুন্দর মানায়।” সে একটু হাসি দিল। আমার রুমাল তাদের চোখেই পড়ছে না, তারা মনে করছে আমরা দুষ্টুমি/ফান করছি। ৫ মিনিট পর রাকিব এসে তাদেরকে বলছে,”তোমারা কারে বিয়াই ভাবছো?” রহমান একটু হাসি দিল। একটি ছেলে বলল উঠল,”মানে?”]
রাকিব: যারে দুলাভাই বললা তিনি দুলাভাইয়ের বন্ধু।
[সবাই অবাক হয়ে হৈচৈ করে গেট ফাঁকা করল, ফায়ে ফায়ে (টাকা ছাড়া) আমরা ভিতরে গেলাম। লাইটের আলোয় দেখা যাচ্ছে রশিদ ভাই আর সাজু মিয়া কয়েকটা ছেলের সাথে দাঁড় হয়ে আছে। বিয়ে করতে এসে এ কেমন বিপদে পড়লাম। রশিদ ভাই আমায় ইশারা করে ডাকছে, এখন কেমনে যাই। রহমানকে চুপিচুপি বললাম,”রশিদ ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে এসএমএস দিয়ে এখানে ডাকো”। রশিদ ভাই এসেই একটু হাসলো। আমরা ঘরে ঢুকলাম।]
রশিদ (চুপিচুপি): তুই এখানে আসাও ছাড়লি না, তুই নাকি এলাকা চিনিস না!
তুফান (চুপিচুপি): আগে আইছিলাম এখানে রাসেল ব্যাপারীর সাথে। আজকের কোন বিষয় বাড়িতে বলবিনা, বন্ধুর অনুরোধে দাওয়াত খাইতে আসলাম।
[রশিদ ভাই আমাদের ঘনিষ্ঠ। তাই তাকে নিয়ে টেনশন করা ছেড়ে দিলাম। আমাদের কথার মাঝেই শালীরা শরবত নিয়ে আইল। আমি খাইতে চাইনা তারাও ছাড়েনা। একটা গ্লাস হাতে দিল, আমি এক চুমুক দিয়ে রশিদ ভাইকে খেতে দিলাম। ভাইয়ের বিয়েতে গেছলাম সেই অভিজ্ঞতায়। রশিদ ভাই শরবত খেয়ে শোসাইতেছে, ঝাল। শালীরা রশিদ ভাইকে দেখে হাসছে।]
শালীরা: আপনি বউপক্ষের হয়ে বরের শরবত খাইছেন এখন ঠেলা সামলান।
[রহমানেরাও শরবত খেল। এর মধ্যে শাহজাহানকে কে যেন জরিরঙ মাখিয়ে দিয়েছে। ফল খাওয়ার পরে শালীদেরকে কিছু টাকা দিলাম। কেউ কেউ অবাক হয়েগেছে ‘এত ছোট ছেলের বিয়ে’। আয়োজনটা ছোট হলেও জাঁকজমক হয়েছে। খাটে বসে আছি, ফোনে রিংটোন হচ্ছে! ভাইয়া কল দিয়েছে। আমি ভাইয়াকে বললাম,”এসএমএস দে, নেটওয়ার্কের সমস্যা তাই আওয়াজ ঘ্যার ঘ্যার করছে।” তাই ভাইয়া এসএমএস দিল।]
ভাইয়া: কই তুই?
তুফান: বন্ধুর সাথে একটা অনুষ্ঠানে আছি।
ভাইয়া: কার বিয়ে রে? ফেসবুকে দেখলাম একজনে পোস্ট করেছে ‘এটারে বলে ভালবাসা’।
তুফান: কেউ মনে হয় মজা করছে। আচ্ছা কালকে কথা হবে।
[অবশেষে বিয়েটা হলোই।]
কিছু কথা: আস্সালামু আলাইকুম। আশাকরি সবাই ভাল আছেন। এই নাটিকাটি কাল্পনিক গল্পে সাজানো হয়েছে। অসাধু মন নিয়ে কখনো নাটিকা লেখা সম্ভব না। আমি ছড়া, কবিতা, গান, অনু/রম্যগল্প, ছোটগল্প, গল্প, প্রবন্ধের পাশাপাশি নাটক-নাটিকা লেখি। আশা আছে কখনো সিনেমা লেখার। এখানে বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষানীয় রাখা হয়েছে। শিরোনাম ‘কোকিলের প্রেম সুর’। রচনার তারিখ ২৭/৭/২৪ইং। কোন অংশে ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাদেরকে জানাবেন। এটা ভবিষ্যতে আরো মজাদার, সংশোধন ও সম্পাদনার প্রয়োজন থাকলে আমরা তা অঞ্চল ও বিশুদ্ধ ভাবে করতে চাই। দোয়া করবেন।