নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জামায়াত আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ দলটি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, ট্যাক্স ও ভ্যাট কমানো, স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু করা, এবং শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির চার্জ বৃদ্ধি না করার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি:
১. গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান।
২. মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ।
৩. প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত ঋণ।
৪. গরীবের মেধাবী সন্তান যাতে হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজে পড়তে পারে তা নিশ্চিত করা।
৫. ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিক্স কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে।
৭. সব নিয়োগ হবে মেধাভিত্তিক।
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত:
৮. ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা।
৯. ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
১০. ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শিশুর বয়স দুই বছর পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা।
তরুণদের জন্য পরিকল্পনা:
১১. দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয়।
১২. ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ।
১৩. প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’।
১৪. প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’, ৫ বছরে ৫০ লাখ জব এক্সেস।
১৫. নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি।
১৬. ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি।
১৭. স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম।
আইসিটি ও ভিশন ২০৪০:
১৮. আইসিটি সেক্টর উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা।
১৯. ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট।
২০. ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে।
২১. আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয়।
২২. শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর।
রেমিট্যান্স সংক্রান্ত:
২৩. দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে ৫-৭ বছরে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি।
২৪. প্রবাসী বাংলাদেশী প্রফেশনাল, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে নিয়ে আসা হবে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে।
পলিসি সামিটে বিভিন্ন প্যানেল ডিসকাশনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই সব প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।