নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ও ভূমিধস বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারির এই ‘ গণতন্ত্রে উত্তরণ’ উৎসবে ভোট দিয়ে সাধারণ মানুষ বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী করে এককভাবে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হওয়ার মর্যাদা অর্জন করেছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা ১২টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
তারেক রহমানের ডাবল জয় ও ডা. শফিকুরের ইতিহাস
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করেছেন। বগুড়া-৬ আসনে তিনি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হলেও ঢাকা-১৭ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সামান্য ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তাঁর সংসদীয় যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন।
যেখানে হারল বিএনপি, যেখানে লড়ল এনসিপি
নির্বাচনের অন্যতম চমক ছিল ঢাকা-১৬ আসন, যেখানে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আমিনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন। অন্যদিকে ঢাকা-৮ আসনে তীব্র উত্তেজনার পর এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস। ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হক ও ববি হাজ্জাজের মধ্যকার ভোট গণনা নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের জোয়ার
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার নিয়ে আয়োজিত গণভোটেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণভোটে প্রায় ৭৫ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে ‘মহা আনন্দের ও উৎসবের’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিজয় উল্লাস নয়, শোকরানা আদায়ের ডাক
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা উৎসব না করে দেশবাসীকে আল্লাহর দরবারে শোকরানা আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক যুগে পদার্পণ করল, যেখানে দীর্ঘকাল পর একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি বেছে নিয়েছে।