
কবিঃ মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
রক্তে লাল বিষাদ গাঁথা কারবালা প্রান্তর,
কত আহাজারি, ঈমানী যন্ত্রণায় কাঁদে মোর অন্তর।
শোকের মাতমে কাটাই আমি মুহাররমের মাস,
ইমাম হুসাইনের রক্তিম ত্যাগে থেমে গেলো নিঃশ্বাস।
ফোরাত নদী বয় নিরবধি, পানি ছিল বহুদূর,
অত্যাচারের কালো ছায়ায় কেঁদেছিল মরুপুর।
সত্যের পথে অটল থেকে দিলে জীবনের বলি,
তোমার ত্যাগের মহিমা আজও জগত যায়নি ভুলি।
কারবালার সেই প্রান্তরে উঠেছিল হকের ধ্বনি,
বাতিল শক্তি কেঁপে উঠল শুনে সেই বজ্রবাণী।
রক্ত দিয়ে লিখে গেলে ন্যায়ের অমর গান,
তোমার পথে চলতে চায় আজও মুসলিম প্রাণ।
মুহাররম এলে জেগে ওঠে শোকের স্মৃতিধারা,
চোখের জলে ভাসে তখন কারবালার শহীদ যারা।
হুসাইনের সেই কোরবানি শেখায় প্রতি ক্ষণ,
সত্যের তরে জীবন দেওয়া ঈমানেরই পণ।
অন্যায়ের কাছে মাথা উঁচু করলো প্রতিবাদ,
জীবন দিয়ে দ্বীন কায়েমে নিলো মৃত্যুর স্বাদ।
ইয়াজিদ বাহিনীর ষড়যন্ত্রে অবরুদ্ধ কারবালা,
ইমাম হুসাইন নত হননি, শাহাদাতে সত্যের জয়মালা।
সৎ ভাই আব্বাস আনতে পানি গেলেন ফোরাত নদী,
ঘোড়ার তৃষ্ণা মেটাতে আগে আব্বাস করলেন মিনতি।
ঘোড়া বলল, “মালিকের আগে করব না পানি পান,”
আব্বাস বললেন, “আমিও না, যদি চলেও যায় এ প্রাণ!”
নিষ্পাপ শিশু আসগরের বুকে বিঁধল নির্মম তীর,
ফোরাত তীরে পানির তৃষ্ণায় শহীদ হলেও তুমি বীর।
শরীর আমার শিউরে উঠে, আসগর তোমায় ভেবে,
তৃষ্ণা মেটাতে অবুঝ শিশুর আর্তনাদ গেল নিভে।
কানের বালা ছিঁড়ে নিলে রক্তাক্ত করে সাকিনার কান,
চর-থাপ্পরের আঘাত দিয়ে মেরে ফেললে নিষ্পাপ প্রাণ।
কাঁদে ফোরাত কাঁদে মুসলিম, শিমর মোদের দিলো বাণ,
সাকিনা আসগর কি করেছিল? অবুঝ শিশু নিষ্প্রাণ।
তীর-তরবারির আঘাতে নিল মোর ইমামের জান,
রক্তে লালে লাল হইল কারবালার ময়দান।
মা ফাতেমার নয়নমণি, মাওলা আলীর জান,
ইমাম হুসাইন শহীদ হলেন কারবালার ময়দান।
পাক-পবিত্র হুসাইনের মস্তক বল্লমের ডগায় নিয়ে,
নিষ্ঠুর পাষাণ শিমর হাজির- ইয়াজিদের রাজদরবারে।
মাথাবিহীন রক্তাক্ত দেহ পড়ে কারবালার প্রান্তর,
মুসলিম হৃদয় জখম হলো, মানে না এই অন্তর।
সত্যের পথে উম্মতের নাজাতে ইমাম হুসাইন শহীদ,
জান্নাতি ঘোড়া জুলজানা ছিল প্রভুভক্ত এক মুরিদ।
তীরের আঘাত সকল ব্যথা জুলজানা পিঠে নিয়ে,
নবীর বংশের লাশের খবর দিল- চোখের জলে ধুয়ে।
নারী-শিশু নির্বিচারে মারতে ইয়াজিদ বেহুঁশ,
তাঁবুতে আগুন দিল শিমর, হারিয়ে ঈমানী হুঁশ।
কাঁদে ফোরাত, কাঁদে আকাশ, কাঁদে নিখিল ধরণী,
সত্যের তরে ঝরল যে রক্ত, অমর তার কাহিনি।
