– চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস

আজ আঙিনা নীরব কেন,
হাসির ধ্বনি নেই?
আঠারো বছর পেরিয়ে আজ,
মনের মাঝে ক্ষয়।

যাদের নিয়ে গড়েছিলাম,
স্বপ্নভরা ঘর,
তাদের নিয়ে আজও ভাবি,
ছিল আশা পর।

ছোট চারাগাছ বড় হয়েছে,
মেলেছে তার ডাল,
ছায়া যদি না-ও দেয় আজ,
তবু থাকুক ভাল।

সবাই তো ভবিষ্যৎ চায়,
স্বপ্ন দেখে মনে,
আমিও তাই স্বপ্ন বুনি,
শিশুর হাসির সনে।

প্রতিষ্ঠার সেই দিনগুলো,
ছিল কত গান,
সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি,
মিলত সবার প্রাণ।

মিষ্টি মুখে হাসত সবাই,
ছিল কত টান,
আজও সেই দিন মনে পড়ে,
জাগে অভিমান।

কারও কাছে হাত না পেতে,
চলেছি নিজের জোরে,
বড় স্বপ্ন ছিল মনে,
আলো দেব প্রতিষ্ঠানে।

দেশজুড়ে আজ ছড়িয়ে গেছে,
একাডেমির নাম,
যারা ছিল শুরু থেকে,
স্মরণীয় তাদের কাজ।

দুই হাজার তিনের শুরু,
‘নিশাত’ ছিল নাম,
দুই হাজার আটে বদলে গেল,
‘খুলনা’ হলো ধাম।

ছয় সেপ্টেম্বর শুভদিনে,
খুলল আশার দ্বার,
লাভলী এজাজ খানের হাতে,
উদ্বোধন হলো তার।

দুই হাজার দশে শুরু হলো,
চারুকলার পাঠ,
শিক্ষার্থীর স্বপ্নগুলো,
পেল নতুন হাত।

দুই শত ত্রিশ শিক্ষার্থী,
পেয়েছে আজ দিশা,
চারুকলার পথে তারা,
পূরণ করেছে আশা।

কেউ হয়েছে শিল্পী আজ,
কেউ শিক্ষক হয়,
তাদের সাফল্য দেখলে আজ,
মনের মাঝে জয়।

শিশুর হাসি রঙের ছোঁয়া,
মুখর একাডেমি,
আঠারো বছরের পথচলায়,
এটাই তার সঙ্গী।

মোমের আলো জ্বেলে আজ,
প্রার্থনা করি মনে,
সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ,
থাকুক সবার সনে।

মায়ের পাশে শিশুদের নিয়ে,
কেটেছে আজ ক্ষণ,
চকলেট আর মিনি কেকে,
হেসেছে শিশুমন।

পিতা-মাতার কথা মেনে,
চলবে জীবনভর,
তবেই তোমরা একদিন,
হবে অনেক বড়।

করোনার সেই কঠিন দিনেও,
থামেনি এই পথ,
ঝড় এলেও জ্বলে ছিল,
আশার আলোর রথ।

শুভাকাঙ্ক্ষী, অভিভাবক,
দিয়েছেন যে হাত,
তাঁদের ভালোবাসায় আজ,
জেগে নতুন প্রভাত।

সাংবাদিকের কলমে আজ,
ছড়ায় কর্মগান,
তাঁদের প্রতি রইল আমার,
অশেষ কৃতজ্ঞতা ও সম্মান।

প্রাক্তন যারা শিক্ষার্থী,
শোনো আমার ডাক,
দেশের সেবায় নিজেকে দাও,
রেখো ভালো কাজ।

শিল্প, শিক্ষা, মানবতার,
আলোর পথে চলো,
নিজের কর্মে দেশের মুখ,
উজ্জ্বল করে তোলো।

আঠারো বছরের আলোর প্রদীপ,
জ্বলুক অনিবার,
খুলনা আর্ট একাডেমি,
এগিয়ে যাক বারবার।

শিশুর হাতে রঙের স্বপ্ন,
চোখে নতুন ভোর,
শিল্পের আলো ছড়িয়ে পড়ুক,
বাংলার ঘরে ঘোর।

মোট লেখনি: ৭৮৫
‎রচনাকাল: ০৬–০৯–২০২৬