ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবল উন্মাদনা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি কিংবা টেলিভিশন পর্দার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন লাতিন আমেরিকার ঘরে ঘরে নবজাতকদের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে এখন এক নতুন সামাজিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—প্রিয় ফুটবল তারকাদের নামানুসারে সন্তানদের নামকরণ। তবে এই জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র।
লাতিনের দেশ ইকুয়েডরের সিভিল রেজিস্ট্রির সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্থানীয় ফুটবলারদের তুলনায় বিশ্বমানের তারকাদের নামেই সন্তানদের নাম রাখতে বেশি ঝুঁকেছেন অভিভাবকরা। আর এই তালিকার চূড়ায় অবস্থান করছেন সেলেসাও তারকা নেইমার। দেশটির প্রায় ৩,৮৪৭ জন শিশুর নাম রাখা হয়েছে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নামে। তালিকায় ২,৮০০-এর বেশি নাম নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ২,১৩৬ জন শিশু নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন কলম্বিয়ার জেমস রদ্রিগেজ।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই তালিকায় বেশ খানিকটা পিছিয়ে। ইকুয়েডরে ১,৫৪৯ জন শিশুর নাম রাখা হয়েছে ‘লিওনেল’, ১,০০৬ জনের নাম ‘রোনালদো’ এবং মূল ‘মেসি’ নাম রাখা হয়েছে মাত্র ৩৮ জনের।
শুধু ইকুয়েডরই নয়, প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়াতেও এমবাপ্পে ও নেইমার নামের জয়জয়কার। স্বয়ং ব্রাজিলেও ২,৪০০-এর বেশি শিশুর নাম রাখা হয়েছে নেইমারের নামে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ জয়ের জোয়ারে মেসির নামে নামকরণের ধুম পড়লেও সামগ্রিক লাতিন অঞ্চলের ট্রেন্ড এখন ভিন্ন কথা বলছে।
সবচেয়ে মজার কাণ্ড ঘটেছে চিলিতে। সেখানকার এক ফুটবল পাগল পরিবার তাদের নবজাতকের নাম রেখেছে ‘গ্রিজম্যান এমবাপ্পে’। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারের অন্য সন্তানদের নাম শুনলেও চোখ কপালে উঠবে—‘জেমস মদ্রিচ’, ‘আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা’ এবং ‘নেইমার রোনালদো’! ফুটবলীয় সংস্কৃতির এই অদ্ভুত মেলবন্ধন প্রমাণ করে, লাতিন আমেরিকার মানুষের রক্তে ফুটবল কতটা গভীরভাবে মিশে আছে।