খুলনা ব্যুরোঃ
খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন ভান্ডারকোট গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক প্রবীণ ব্যক্তির বসতবাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারীসহ একই পরিবারের অন্তত ৬ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী প্রবীণ ব্যক্তি মোঃ জারজিছ শেখ (৫৫) বাদী হয়ে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত, বটিয়াঘাটা, খুলনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাকারিয়া শেখ ও মোঃ জাহিদ শেখসহ নামীয় ৭ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদী মোঃ জারজিছ শেখের সাথে আসামিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে, যাতে আদালত উক্ত বিতর্কিত জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরেই বাদীর পরিবারের ওপর নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছিল এবং অবৈধভাবে জায়গা-জমি দখলের অপচেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
তারই ধারাবাহিকতায়, গত ০২ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ০২:০০ ঘটিকার সময় আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে আসামিরা বেআইনি জনতাবদ্ধে লোহার রড, দা ও লাঠিসোঁটাসহ মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জারজিছ শেখের বসতবাড়ির উঠানে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ইট রাখতে শুরু করে। এতে বাদীর ভাগ্নে তসলিম শেখ ও ছেলে আল মামুন বাধা দিলে আসামিরা চড়াও হয় এবং হুকুমদাতার নির্দেশে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে আল মামুনের মাথায় কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ভাগ্নে তসলিম শেখকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরবর্তীতে গৃহকর্তা জারজিছ শেখ তার সন্তান ও ভাগ্নেকে বাঁচাতে গেলে আসামিরা তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ধারালো দা দিয়ে কোপায় এবং লোহার রড দিয়ে বুকের পাঁজরে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।
বর্বরতার এখানেই শেষ নয়; জারজিছ শেখের মেয়ে আছিয়া খাতুন ও বড় ছেলে আব্দুল কাইয়ুম তাদের বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা কাইয়ুমের ডান হাত লাঠির আঘাতে ভেঙে দেয় এবং আছিয়ার মুখে নৃশংসভাবে আঘাত করে ভেতরের কয়েকটি দাঁত নাড়িয়ে দেয় ও নাক ফেটে রক্তা-রক্তি জখম করে। একপর্যায়ে বাদীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম পরিবারকে রক্ষা করতে এলে আসামিরা তাকেও মারপিট করে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। হামলাকারীরা এই তাণ্ডব চলাকালীন বাদীর স্ত্রীর গলা থেকে ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন এবং বাদীর অন্য ছেলের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা বাদীর পরিবারের ডাক-চিৎকারে ছুটে এলে আসামিরা পরিবারটিকে খুন-গুমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে আহতেরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকা এবং শারীরিক অবস্থার সংকটাপন্ন হওয়ায় মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী পক্ষ জানান।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ন্যাক্কারজনক ও পরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত বাদীর নালিশী আবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।