মোঃ মুনজুর আলম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে সরকারি খাল ও স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি দখলের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে জোরপূর্বক মাছ চাষের এই অপচেষ্টায় পুরো এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা ও কৃষিতে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার ও সরকারি সম্পদ রক্ষার দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী আসাদুর রহমান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিবরণ ও সরেজমিন চিত্র
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর মৌজার বিআরএস ৭১৫, ৪৩০ ও ২০০ খতিয়ানের আওতাধীন দাগ নম্বর ১৫৭০, ১৫৭১, ১৫Nz, ১৫৭৩, ১৫৭৮, ১৫৭৯, ১৫৮০, ১৫৮১ ও ১৫৮২-এর প্রায় ১.২৭ একর জমির মধ্যে ১.০৮ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত পর্যন্ত গড়ালে সংশ্লিষ্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক খালের মুখ ও কৃষকদের জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী আসাদুর রহমান বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমির মালিক। তার জমির পাশ দিয়েই মূলত দাকোপা নদী প্রবাহিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী হওয়ায় এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থে তিনি নিজ উদ্যোগে খালের মুখটি উন্মুক্ত রেখেছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই খালের মুখে জোরপূর্বক নেট-পাটা (জাল) পেতে এবং বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। খালের অবরুদ্ধ পানিতে এখন কৃত্রিম উপায়ে মাছ চাষের পাঁয়তারা চলছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী আসাদুর রহমান বলেন:
”আমি কোনো সরকারি জমি দখল করিনি। বরং আমার ১৫৭৮/২ দাগের ১১.১৮ ও ১৭ শতাংশসহ মোট ২৮.১৮ শতক পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছি। এলাকার মানুষের উপকারের স্বার্থে আমি নিজের জমির মধ্য দিয়েই খালের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ইসমাইল হোসেন এখন গায়ের জোরে সেই সরকারি খাল ও আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সচেতন মহল ও বাসিন্দারা জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত বা আকস্মিক বন্যা হলে এই কৃত্রিম বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকবে। ফলে পুরো চাঁদপুর গ্রাম প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
এলাকাবাসীর জোর দাবি, এই অবৈধ বাঁধ অবিলম্বে উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা না হলে স্থানীয় কৃষিতে ও জনজীবনে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সাধারণ কৃষকদের স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সরকারি খালটি দ্রুত উদ্ধার করতে তারা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।