মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার সুমাইয়া আক্তার আলো (১৮) নামের এক নববিবাহিত গৃহবধূকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর গত সাত দিন ধরে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ গৃহবধূর স্বামীর ভূমিকা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মেয়ের সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় নিখোঁজ আলোর পিতা আলামিন বাদী হয়ে পাবনা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনার আটঘরিয়া থানাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে আলামিনের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার আলোর সাথে পাবনা সদর থানার গয়েশপুর ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামের সবুর আলীর ছেলে সোহাগ আলীর (২৮) প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। আলোর স্বামী সোহাগ আলী নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে তিনি স্ত্রী আলোকে নিয়ে ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
নিখোঁজ ও রহস্যের সূত্রপাত
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ০২ জুন (২০২৬) স্বামী সোহাগ আলী তার স্ত্রী আলোকে পাবনা থেকে ঢাকায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু এর মাত্র তিন দিন পর, গত ০৫ জুন সোহাগ আকস্মিকভাবে পাবনার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। তিনি আলোর পরিবারকে জানান যে, গত ০৩ জুন ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার পর থেকে আলোকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
স্বামীর মুখে এই নিখোঁজের সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলোর বাবা-মা ও স্বজনরা। তবে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর মাত্র এক দিনের মাথায় কীভাবে এবং কী পরিস্থিতিতে আলো নিখোঁজ হলেন—সে বিষয়ে স্বামী সোহাগের অস্পষ্ট ও অসংলগ্ন কথাবার্তায় পরিবারের মনে গভীর সন্দেহের দানা বেঁধেছে। পরিবারের আশঙ্কা, গৃহবধূ আলোকে কোনো অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে অথবা তিনি কোনো পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে বড় ধরনের বিপদে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী পিতার আকুতি
নিখোঁজ আলোর পিতা আলামিন অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
”আমার জামাই সোহাগ ইপিজেডে চাকরি করার সুবাদে হাজীগঞ্জ এলাকায় ভাড়া থাকত। গত ২ তারিখে সে নিজের দায়িত্বে আমার মেয়েকে ঢাকা নিয়ে গেল। আর ৫ তারিখে বাড়ি এসে বলছে মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না! সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন জায়গায় হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি করেও আমার কলিজার টুকরা মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। বাধ্য হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি আমার মেয়েকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই।”
অভিযোগপত্রে স্থানীয় সাক্ষী হিসেবে আটঘরিয়ার দেবোত্তর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের কামাল হোসেনের স্ত্রী সুমি খাতুন (৩৬) সহ আরও বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা এই নিখোঁজের আদ্যোপান্ত অবগত আছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পাবনা সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গৃহবধূ নিখোঁজের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে। ঘটনাটি যেহেতু ঢাকার নারায়ণগঞ্জ এলাকার, তাই ফতুল্লা থানার সাথে সমন্বয় করে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। গৃহবধূকে উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে।