ব্যুরো প্রধান খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হেতালবুনিয়া পুরাতন হেলিপ্যাড এলাকায় চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে চুরির চেষ্টার একটি ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গত শুক্রবার (রাত আনুমানিক ১১টা) এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা ও ভুক্তভোগীর সাহসিকতায় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির মালিক মিজানুর রহমানের বোন প্রতিদিনের ন্যায় রাতের বেলায় গোয়ালঘরে গরুকে খাবার দিতে যান। এ সময় হঠাৎ পিছন দিক থেকে এক ব্যক্তি এসে তার মুখ চেপে ধরে এবং চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগের চেষ্টা করে। পদার্থটির কিছু অংশ তার মুখের এক পাশে লাগলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী সাহসিকতার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী দাবি করেন, তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ও তার এক নিকট আত্মীয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন চুরি-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, অতীতেও ওই পরিবারের এক সদস্য চুরির অভিযোগে জনরোষের শিকার হয়েছিল। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক বছরে এলাকায় চুরির ঘটনা তুলনামূলক কম থাকলেও সম্প্রতি কিছু ব্যক্তির এলাকায় পুনরায় অবস্থান শুরু করার পর থেকে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাদের ধারণা। ফলে এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতের বেলায় টহল জোরদার ও এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।