আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ শেষ হতে না হতেই ইসরায়েলে নতুন করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প যখন দাবি করছেন ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় ‘চূর্ণ’ হয়ে গেছে, ঠিক তখনই এই হামলা তাঁর দাবিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
ট্রাম্পের ‘বিজয়’ দাবি ও বাস্তবতা হামলার মাত্র কিছুক্ষণ আগে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ইরান এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের দাপুটে শক্তি নয় এবং তারা যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে।” তবে ট্রাম্পের এই বক্তৃতার রেশ কাটতে না কাটতেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলসহ তেল আবিব ও কেন্দ্রীয় এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে, যা প্রমাণ করে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
ইসরায়েলের প্রস্তুতি ও আকাশ প্রতিরক্ষা আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। হামলা প্রতিহত করতে ইসরায়েলের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে। তেল আবিবসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ৩৪তম দিনে এই হামলা হলো। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানকে আরও ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হতে হবে। অন্যদিকে, ইরান এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছে এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি অগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন পবিত্র ‘পাসওভার’ উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।