আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের ঘটনায় বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’ দাবি করেছে, খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে ইসরায়েল ও সৌদি আরব। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রচ্ছন্ন চাপেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে এই সামরিক অভিযানের সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
দ্বিমুখী কূটনীতির অভিযোগ রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ প্রকাশ্যে ইরানের সাথে সুসম্পর্কের কথা বললেও পর্দার আড়ালে ছিল ভিন্ন চিত্র। জনসমক্ষে তিনি দাবি করতেন, তেহরানে হামলার জন্য সৌদির ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এমনকি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও তিনি একই আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি বারবার সতর্ক করতেন যে, এখনই ইরানে হামলা না চালালে তেহরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
‘অস্বাভাবিক মিত্র জুটি’ ওয়াশিংটন পোস্ট এই পরিস্থিতিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মার্কিন মিত্র জুটি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি ও ইসরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টাই ট্রাম্পকে খামেনিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের অভিযানে উদ্বুদ্ধ করেছে। গত জানুয়ারিতে যুবরাজের ভাই খালিদ বিন সালমানও যুক্তরাষ্ট্রে একই বার্তা দিয়ে এসেছিলেন। রিয়াদের কাছে তেহরান সবসময়ই প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বৈঠক চলাকালীন হামলা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে খামেনি একটি নিরাপদ স্থানে তাঁর দুই সিনিয়র উপদেষ্টা আলী লারিজানি এবং আলী শামখানির সঙ্গে গোপন বৈঠকে ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অতর্কিত হামলা চালায়, যার ফলে খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারান।
ট্রাম্পের ঘোষণা এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, খামেনি নিহতের পর ইরাকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।