আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও বিশ্বজুড়ে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান। সোমবার (১ মার্চ) ভোরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই ঘোষণা আসার পর থেকেই পুরো ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় নেতার বিদায়ে রাজধানী তেহরানসহ বড় শহরগুলোর রাজপথে নেমে এসেছেন লাখো শোকাতুর মানুষ।
দীর্ঘ ধোঁয়াশার অবসান
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেই তাঁর মৃত্যুর দাবি করেছিলেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় বিশ্বজুড়ে এক ধরনের রহস্য বিরাজ করছিল। সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় ঘোষণার মাধ্যমে সেই ধোঁয়াশা কাটল।
দেশজুড়ে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা
সুপ্রিম লিডারের সম্মানে ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই শোককালীন সময়ে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ প্রার্থনা সভা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো জাতি এই কঠিন সময়ে তাদের নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।
যুদ্ধের দামামা ও উত্তাল রাজপথ
শোকের এই আবহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেও তেহরানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকি উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে শোক প্রকাশ করছেন। তেহরানের আকাশ এখন একদিকে যেমন শোকাতুর, অন্যদিকে যুদ্ধের আশঙ্কায় থমথমে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা
খামেনির বিদায়ের পর ইরানের পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে হবেন এবং দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নতুন নেতার নির্বাচন পুরো অঞ্চলের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।