184

বিশেষ সম্পাদকীয় | [১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬]

​বাপ-ছেলের সম্পর্কের মাঝে যখন রাজনীতির দেয়াল দাঁড়ায়, কিংবা নেতার দেওয়া স্লোগানে যখন পাড়া-প্রতিবেশীর মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়, তখন সমাজ আসলে এগোয় না, বরং পেছনে হাঁটে। আমরা কি ভেবে দেখেছি, ক্ষমতার এই মোহে পড়ে আমরা আসলে কী হারাচ্ছি? কার জন্য নিজের প্রিয়জনদের বলি দিচ্ছি?

​নেতার ভবিষ্যৎ বনাম কর্মীর বাস্তবতা

​একটু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায়, রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে থাকা নেতাদের সন্তানরা বেশিরভাগই বিদেশে উন্নত জীবন যাপন করছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ, ক্যারিয়ার নিশ্চিত। পড়াশোনা শেষ করে তারা যখন দেশে ফেরে, তখন উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের জন্য তৈরি থাকে বড় কোনো পদ।

​অন্যদিকে, সাধারণ কর্মী বা সমর্থকরা রাজপথে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে স্লোগান দেয়, নিজের আত্মীয়ের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়, এমনকি মামলা-হামলার শিকার হয়ে জীবন বিপন্ন করে। দিনশেষে নেতার সন্তানরা যখন ‘বড় নেতা’ হয়ে মঞ্চে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ কর্মীটি হয়ে থাকে শুধুই ‘কর্মী’ বা বড়জোর এক ‘আফসোসকারী’।

​লাভের অঙ্ক কার?

​আপনার সাথে আপনার ভাইয়ের কিংবা প্রতিবেশীর সম্পর্ক নষ্ট হলে দিনশেষে লাভটা কার? ক্ষমতার লড়াইয়ে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন যখন ছিন্ন হয়, তখন সমাজ তার ভারসাম্য হারায়। রাজনীতি মতভেদের জায়গা হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই ‘মনভেদে’র কারণ হওয়া উচিত নয়। ঘৃণার রাজনীতিতে আমরা যখন একে অপরের ঘর জ্বালাতে প্ররোচিত হই, তখন আসলে আমরা নিজেদের শেকড়কেই উপড়ে ফেলি।

​সমাধানের পথ: উম্মাহর ঐক্য

​আমাদের লড়তে হবে দেশের জন্য, জাতির মঙ্গলের জন্য। কিন্তু সেই লড়াইয়ের হাতিয়ার ঘৃণা হওয়া উচিত নয়। ‘রোডম্যাপ উম্মাহ’র প্রেক্ষাপটে যদি আমরা চিন্তা করি, তবে আমাদের শক্তি হচ্ছে আমাদের মানবিকতা এবং ভ্রাতৃত্ব। রাজনীতি থাকবে, মতভেদ থাকবে, কিন্তু আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর অধিকার যেন ধুলোয় মিশে না যায়। দেশ গড়ে ওঠে সম্পর্ক দিয়ে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দিয়ে।

​আসুন একটু থামি, একটু ভাবি। আমাদের রক্ত ও মাটির সম্পর্ক কি রাজনীতির চেয়েও সস্তা? এখনই সময় সঠিক ইতিহাস এবং সঠিক জীবনবোধ চর্চার মাধ্যমে সমাজকে এই প্রতিহিংসা থেকে রক্ষা করার।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *