নিজস্ব প্রতিবেদক | [১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬]

​বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের কাছে ‘শিবা’ এক অদম্য বীরের নাম। টিভির পর্দায় তাকে দেখা যায় ন্যায়ের রক্ষক হিসেবে। কিন্তু জনপ্রিয় এই কার্টুন চরিত্রের আড়ালে যে ঐতিহাসিক সত্য ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। শিশুদের মনস্তত্ত্বে এক সময়ের দুর্ধর্ষ ‘বর্গী’ দস্যুদের নায়ক হিসেবে চিত্রায়িত করার এই প্রচেষ্টা কি নিছক বিনোদন, নাকি পরিকল্পিত ইতিহাস বিকৃতি?

​ইতিহাসের দর্পণ বনাম সেলুলয়েডের রূপকথা

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫৬৫ সালের পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ ভারত মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। মারাঠারা তখন সুলতানদের অধীনে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। আলোচিত শিবাজী বা তার পরিবারও প্রথমে নিজামশাহী ও পরে আদিলশাহী সুলতানের অধীনে কাজ করে প্রতিপত্তি অর্জন করেন। অথচ বর্তমানের বিভিন্ন ফিকশন বা কার্টুনে সেই সময়কালকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

​বাংলার স্মৃতিতে ‘বর্গী’ আতঙ্ক

বাঙালি মায়েরা এক সময় শিশুকে ঘুম পাড়াতেন “ছেলে ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো, বর্গি এলো দেশে…” ছড়াটি গেয়ে। বাংলার ইতিহাসে বর্গী বা মারাঠা দস্যুদের লুটতরাজ এক বীভৎস অধ্যায়। ইতিহাসের পাতায় যারা লুটেরা ও দস্যু হিসেবে চিহ্নিত, আধুনিক মিডিয়া বা কার্টুনে তাদেরই ‘মহান বীর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি শুধু ইতিহাস নয়, বরং বাংলার জনজীবনের বাস্তব যন্ত্রণার ইতিহাসের সাথেও এক ধরণের পরিহাস।

​সাংস্কৃতিক প্রকল্পের নেপথ্যে

বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের এই বিনির্মাণ নতুন কিছু নয়। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ থেকে শুরু করে অরবিন্দ বা তিলকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিবাজীকে এক ধরণের আদর্শিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে সিনেমা ও কার্টুন সেই একই স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করছে। পদ্দাবত, বাজিরাও মাস্তানি বা আকবর দ্য গ্রেট—সবখানেই মুসলিম শাসকদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার এক প্রচ্ছন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

​উম্মাহর করণীয়: সঠিক ইতিহাসের পুনর্জাগরণ

এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে বিশেষজ্ঞগণ সঠিক ইতিহাস চর্চাকেই প্রধান হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বারনি, ফিরিশতা, বাদাউনী বা খাফি খাঁ-র মতো ঐতিহাসিকদের মূল সূত্রগুলো অনুবাদ ও প্রচার করা প্রয়োজন। সিলেবাস ও শিক্ষাব্যবস্থায় নির্মোহ ইতিহাস তুলে ধরাই হতে পারে আগামীর শিশুদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষার একমাত্র উপায়। কারণ ইতিহাস বিকৃত হলে শুধু অতীত নয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎও দাসে পরিণত হয়।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *