142

১. নিবন্ধ: নবীন কবির চোখে সাহিত্য জগৎ

 

আপনারা নিশ্চয়ই ‘পায়রাভরত একাডেমি ‘ নামটি শুনেছেন। ‘উদীয়মান কবিদের জাগ্রত কলম’ যৌথগ্রন্থের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল। এই বইটি প্রকাশ করেছে ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী। পায়রা বলতে পায়রাবন্দ, ভরত বলতে ভরতখালী-কে বুঝানো হয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১০/ ০৭/২০২৩ ইং, এটির নাম চেঞ্জ করা হয় ০২/০৫/২০২৫ ইং। যা এখন ‘সময়ের ভাবনা’ নামটি ধারণ করে। আমাকে নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা-সমালোচনা করেছিল/করে। তুফান যদি ভুল করে এটা আপনারা শুধরে দেবেন; তবে অহেতুক কিছু আমি পছন্দ করিনা। কারো ক্ষতি করে থাকলে ক্ষমা করবেন। আপনারাই আমার শিক্ষক। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই। আমি চাই সাহিত্য ভাণ্ডারে সময়ের ভাবনা রত্ন হিসাবে আখ্যায়িত হোক। কলম সৈনিকদের অনুপ্রেরণার নাম সময়ের ভাবনা। এখানে কোন অসাধু উপায়ে লেখা দিবেন না, একজন জ্ঞানী-গুণী কখনো অসাধুতা অবলম্বন করেন না! সেটা নবীন হোক কিংবা প্রবীণ। যাঁরা ইসলামিক বিষয়ে লিখতে চান, তাঁদের জন্য সময়ের ভাবনার ইসলামিক গুণশিখা বিভাগ রয়েছে। এখানে লিখুন, পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন। মানবতা বজায় রাখবেন। প্রেম-বিপ্লবের কথা প্রকাশ করতে পারেন, কল্যাণময় লিখবেন। অপ্রকাশিত স্বরচিত লেখা পাঠাবেন। আমার জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষা সার্টিফিকেটে নাম মোঃ রেজন মিয়া, কিন্তু এতদিন সাহিত্যের লেখকের স্থানে আমার নাম দিয়েছিলাম মোঃ আহসান কবির রিজওয়ান। কেউ ভালবেসে তুফান নামেও ডাকে। হয়তো আগের মত আমার আর লেখা হয়ে উঠছেনা, আশা আছে সময় পেলে লিখব, ভাবব। আমি এখনো নবীন লেখক। তবে যখন সাহিত্য জগতে প্রবেশ করি কয়েক মাস অন্যদের সাহিত্য সংগঠনে লেখা পাঠাইতাম কিন্তু তাঁরা আমার লেখা প্রকাশ করতে আগ্রহী ছিলনা। সাহিত্য ক্ষেত্রে আমি কখনো সাহিত্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পারিনি। আমিও তখন সাহিত্য সংগঠনের বিজয়ী সনদের পাগল ছিলাম, সেসময় আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে থাকা কেউ অর্থাৎ তাঁরাও কবিতা লিখত! তাঁরা বলেছিল কবির পরিচয় সনদে।’ আসলে কি তাই? পাগলামি করাটা বুজি আমার ভুল ছিল। আমার সিনিয়ররা যদি এটির প্রতি আকর্ষিত থাকে, তাহলে তাঁদের কাছ থেকে আমি এটিই শিখলাম। আপনারা যদি লোভ করেন, আমরা আপনাদের কাছ থেকে কি শিখব? শিক্ষক ত শিক্ষকই, সেটা সিনিয়র হোক কিংবা জুনিয়র। ‘দৈনিক শব্দনগর’-এর একটি কবিতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম, সেখানে বলছিলাম ‘আপনারা আমাদের মত নবীন কবিদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন না, আপনারা যাঁদের সাথে ঘনিষ্ঠ তাঁদেরকেই সনদ দিচ্ছেন! কবি ক্ষেত্রে আমাদেরও ত একটা পরিচয়ের দরকার। আবার কদিন পরে ওই দৈনিক শব্দনগরেই একটা কবিতা পোস্ট করি, পোস্টের কমেন্টে গ্রুপটার প্রতিষ্ঠাতা রিটন ভাই আমায় অপমান করে। সেই সময়ের কিছু কিছু কথা আমার মনে আছে। তিনি বলেছিলেন ‘খালি সনদ সনদ করিস, ভুলভাল লেখিস, তোর বয়স কত! ছোট মানুষ ছোট মানুষের মতই থাকবি। এ রকম করার কারণে তোকে গ্রুপ থেকে রিপোর্ট মেরে বের করে দিব।’ তাঁর সাথে আমি যতটুকু সময়ে কথা বলেছি, উনি সন্তোষ কথা বলেনি! মিশুকতা পাইনি। তাঁর সম্পর্কে অন্যরা সুনাম করতে পারে, আমার যতটুকু জানাছিল তাই ব্যক্ত করলাম। এখনো আমি সাহিত্য সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা। তখনো কিছু অহংকারী কবি ছিল, এখনো কিছু অহংকারী কবি রয়েছে। নবীনদের সাহিত্য সম্পর্কে কিছু বা বিস্তারিত অর্থাৎ যতটুকু সময় পাবে বা সময় করে নিয়ে কিছু শিখানো কর্তব্য, দায়িত্ব কি-না বলতে পারিনা! তাঁরা কর্তব্যই পালন করে না, বিরক্তবোধ করে। সহযোগিতা চাইলে তা পাওয়া যায় না। একে অপরকে সহযোগিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। কেউ কেউ টাকার গরমে কবি বনে যাচ্ছে। ‘হাসান প্রকাশনী’র কাছে আমি এখনো টাকা পাই। কেউ ভূয়া সম্পাদক, প্রকাশক সেজে কবি-লেখকদের টাকা মেরে খাচ্ছে। যেমন- এস এম জাকারিয়া হোসেন (রাজু)। এই রাজু নাকি একজন কবিও। কুড়িগ্রামের রবিউল ইসলাম হৃদয়-কে আমার ভাল লাগেনা। রবিউলের বেশ কিছু কথা আমার মনকে আঘাত করছে অর্থাৎ করেছে। ওর সাথে আমার অভিমান রয়েছে। স্বৈরাচার আ.লীগ আমলে এই ছেলেটা ছাত্রলীগ করত। ছেলেটা এমনও আচরণ করত/করে যেন সে শ্রেষ্ঠ কবি আমি যেন তার কাছে চুনোপুঁটি। মোঃ মামুন হোসেনের কাছে আমার ৪৭০ টাকা পাওনা ছিল, দীর্ঘ দুই বছরপর তিনি টাকাটা শোধ করেছেন। উদীয়মান কবিদের জাগ্রত কলম বিষয়ে মোঃ সোহাগ মোল্লা (মঈনুল) অনুচিত কাজ করেছে। যেমন- উৎসর্গে মরহুম কবি আব্দুল গফুর ও মরহুম সুরত মোল্যা উল্লেখ করা। অতচ এখানে শুধু লেখা উচিত ছিল উৎসর্গ করছি বাবা-মাকে। প্রাক-কথনে ‘আমি, আমার’ শব্দ ব্যবহার করা, যেখানে ব্যবহার করা উচিত ছিল ‘আমাদের, আমরা’। প্রাক-কথনে নিজের পরিচয়ে অর্থাৎ নিচের তিনলাইনের মধ্যে পায়রাভরত একাডেমি নাম উল্লেখ ছিল না, অতচ তিনি পায়রাভরত একাডেমির সভাপতি/ছিলেন। উচিত ছিল দ্বিতীয় বা তৃতীয় লাইনে পায়রাভরত একাডেমি উল্লেখ করা। বইটিতে তাঁর তেরোটি কবিতা ছাপানোর কথা ছিল, কিন্তু ছাপানো হয়েছে সতেরোটি। আমার লেখক পরিচিতি পৃষ্ঠা চেক না দেওয়া, চেক দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর। অর্থাৎ লাইনটি আমি দেখাচ্ছি। ‘২০২২ সাল থেকে মাত্র ২০ বছর বয়সেই সাহিত্যচর্চা শুরু অতচ এখানে উল্লেখ করা উচিত ছিল ২০২২ সাল থেকে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সাহিত্যচর্চা শুরু।’ পঞ্চাশ কপি বই ছাপানো হয়েছে, এতে আমার খরচ হয়েছে ছয় হাজার টাকা আর তাঁর খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা।

 

২. হাল ছেড়না রেজন

 

আমি ২০২২ সালে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করি কবিতা ‘সুখী মানুষ’ দেশচিত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে। আমার লেখক হওয়ার পিছনে অদৃশ্য অবদান রয়েছে বিনোদন-সামাজিক কার্টুন ভিডিও’র। যখন ফেসবুক সাহিত্য গ্রুপে লেখালেখি শুরু করলাম তখন আমার লেখা ‘এই পথে’ এটি নুরুল কবির কবিতা আকারে সাজিয়ে দেয়। ফেসবুকের মাধ্যমেই পরিচিতিটা অর্জন করতে লাগলাম। স্বদেশচিত্র পত্রিকায় আমার কবিতা ‘প্রেমের কথা’ প্রকাশের কিছুদিন পরে পরিচিত হই কুড়িগ্রামের রবিউল ইসলাম হৃদয়ের সাথে। অর্থাৎ রবিউল আমার মেসেঞ্জার আইডিতে নক দিয়ে বলে ‘আপনি কিভাবে কবিতা প্রকাশ করেন, আমায় একটু শিখাবেন! প্রকাশ করে দিবেন?’ তখন পত্রিকা-প্রকাশন বিষয়ে আমারই তেমন কিছু অভিজ্ঞতা ছিল না, তাকে বলছিলাম সাহিত্য গ্রুপে, পত্রিকায় কবিতা জমা দিতে হয় প্রকাশের জন্য। এভাবে গড়ে উঠেছিল রবিউলের সাথে আমার বন্ধুত্ব, তখন তার কবিতায় কোন ছন্দের গন্ধ পাওয়া যায়নি! উপরের লাইনের সাথে নিচের লাইনের মিল ছিলনা, সামনের অংশের সাথে পিছনের অংশের সামঞ্জস্য ছিলনা। তবে কিছু কিছু লাইন সুন্দর লেখেছিল। তখন আমার লেখারও গতি তেমন আর্কষণীয় ছিলনা, পাঠকের মন জয় করতে পারেনি। আমি অদৌ ফেসবুকের কোন সাহিত্য গ্রুপ থেকে বিজয়ী হতে পারিনি। সেসময় আমার লেখায় প্রতিবাদ কম ছিল তবে আমি ছোট থেকেই প্রতিবাদী। তখন ‘দৈনিক ভোরবেলা নিউজ ২৪’ নিয়মিত লেখক ছিলাম। সেই পত্রিকার প্রকাশক মেহেদী ভাইকে রবিউলের একটি ছড়াও প্রকাশ করতে দেই, তিনি প্রকাশও করেছে। তারপর থেকে রবিউল মেহেদী ভাইয়ের মেসেঞ্জার আইডিতে লেখা পাঠিয়েছে এবং প্রকাশও হয়েছে। তার কিছুদিন পরে ফেসবুক নোটিফিকেশনে নজরে পড়ে মোঃ সোহাগ মোল্লা (মঈনুল) ‘কবি আব্দুল গফুর সাহিত্য পরিষদ’ গ্রুপে যুক্ত হবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তারপর থেকে সোহাগ ভাইয়ের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গঠন হয় এবং আজও আছে। সেই গফুর গ্রুপে সোহাগ ভাই আমাকে প্রথমে মডারেটর বানাইছিল। তার কিছুদিন পরে সাভারে থাকা ওয়ালিফ আহমাদের সাথে আমার পরিচয় হয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওয়ালিফ আমায় বলেছিল ‘দেশটার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে, চলো দেশ গোছাতে আমরা নিজেরাই একটা রাজনৈতিক দল গঠন করি।’ আমি কিছুক্ষণ এই বিষয়ে ভাবার পরে রাজি হই দল গঠন করার। সেই দলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘গণন্যায্য ফোরাম’। এই ফোরামে আমি চার-পাঁচজনকে অ্যাড করেছিলাম, তারমধ্যে নুরুল কবির, সোহাগ ভাই, ছামির এরাও ছিল ফোরামে। ছামির সেসময় গায়ক সারোয়ার মাহিনের প্রতিষ্ঠা করা মাটির সুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের মডারেটর। অর্থাৎ যাঁরা যাঁরা সদস্য হতে রাজি ছিল তাঁদেরকে অ্যাড করেছিলাম। রবিউলকেও বলেছিলাম যুক্ত হতে কিন্তু সে রাজি হয়নি। সে বলেছিল “আমি রাজনীতি করিনা, করব না! আমি একজন স্বতন্ত্র লেখক”। তার কিছুদিন পরে জানতে পারলাম রবিউল ছাত্রলীগের কমিটি। রাজি না হওয়ার কারণ বুজি এটাই। সে মিথ্যা কথাটা না বলে যদি বলত ‘আমি ছাত্রলীগ করি’ তাহলে কি তার কোন ক্ষতি হত? তার বন্ধু রুবেলের সাথেও আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি, রুবেলও বলেছে রবিউল রাজনীতি করে! কিন্তু আমি করিনা।’ তখন ত আ.লীগ সরকারের ক্ষমতার গদিতে ছিল আর ছাত্রলীগ- আ.লীগের অঙ্গসংগঠন। আমি যতটুকু রবিউলের কলাম পড়েছি তাতে কোন প্রতিবাদ দেখিনি। সেই স্বৈরাচার সরকারের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছিল। ২০২৩ সালের শেষের দিকে গেন্ডা, সাভার, ঢাকায় আমার সাথে ওয়ালিফ দল বিষয়ে আলোচনা করার জন্য দেখা করেছিল। তারপর থেকে ওয়ালিফ ঠিকমত দলকে সময় দিতে পারেনি, প্রায় সাত মাস গ্রুপটা অচল হয়ে থাকায় আমি ‘গণন্যায্য ফোরাম’কে বিলুপ্ত ঘোষণা করি। সেসময় বরিশালের লেখিকা সুমাইয়া ইসলাম নামের এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল, যার ফেসবুক আইডির নাম ছিল অখ্যাত লেখিকা। হাসান প্রকাশনীর ‘যে কথা হয়নি বলা’ যৌথ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে আমার সাথে পরিচয় হয় তানিয়া অনন্যার সাথে। এরমধ্যে অনেক লেখকের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল, সবার নাম উল্লেখ করতে না পেরে আমি দুঃখিত। ‘তুমি রবে নীরবে’ যৌথ গ্রন্থে দুটো অপ্রকাশিত কবিতা প্রকাশ করতে হাসান ভাইয়ের কাছে পাঠাইছিলাম কিন্তু তিনি সেই দুটো পিডিএফে না তুলে আমার অন্য লেখা অর্থাৎ অতীতের প্রকাশিত লেখা পিডিএফে তুলে রাখছে, প্রকাশিত লেখা আবার প্রকাশিত করার কোন মানে হয়না, তাতে আমার লাভ কী! লেখা ত টাকা দিয়ে প্রকাশ করতে হয়। লেখক হওয়ায় বুজি অভিশাপ! কত মেধা খাটাতে হয়, পরিশ্রম করতে হয়, ভাবতে হয় এতে অনেক সময় ব্যয় এবং লেখাটি যে গ্রন্থে ছাপাব তাতে গ্রন্থ ছাপানোর জন্য লেখকের নিজেরই টাকা খরচ করা লাগে। তবে কোন কোন প্রকাশনী আছে যারা গ্রন্থ ছাপাতে অর্ধেক টাকা বহন করে, বাকি অর্ধেক লেখককে বহন করতে হয়! এগুলো প্রকাশনী বাজারে খুব কম। হাতে গণা কিছু প্রকাশনী আছে যারা মৌলিক লেখা গ্রন্থ ছাপানোর টাকা নিজেরাই বহন করে, তাঁদেরকে ত খুব কমই খুঁজে পাওয়া যায়। আজকাল পাঠক-পাঠিকার সংখ্যা কম কেন? অনেক গ্রন্থে রুচিশীল লেখা থাকে না, এটিও একটি কারণ। আমি পিডিএফ দেখে হাসান ভাইকে বলেছি ওগুলো প্রকাশিত লেখা আবার প্রকাশ করার কোন মানে হয়না, তাই আপনি অন্য লেখা অর্থাৎ অপ্রকাশিত কবিতা প্রকাশ করুন অন্য লেখা দিচ্ছি। তিনি বলেছেন সম্ভব না।’ এই জন্য আমি অভিমান ও রাগমিশ্রিত কণ্ঠে বলেছি আমার লেখা ছাপাতে হবে না, আমার টাকা (সম্ভবত ৪৬০) আমায় ফেরত দিন। তিনি ফেরত দিতেও রাজি হয়েছে কিন্তু আজও ফেরত দেয়নি। আমাদের ত ‘উদীয়মান কবিদের জাগ্রত কলম’ যৌথগ্রন্থ দেখছেন, তার কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। যখন সোহাগ ভাই সহ আমি প্ল্যান করলাম একটা যৌথগ্রন্থ করার। আমরা চাইছিলাম সব কবিদের সহযোগিতায় গ্রন্থের কাজটা সম্পূর্ণ কাজটা সেরে ফেলতে, যেমন- সবে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ! কিন্তু কোন কবি আমাদের সহযোগিতা করেনি। গ্রন্থের কাজ যখন অর্ধার্ধি তখন আমি সোহাগ ভাইকে বলেছিলাম, ভাই কেউ ত সহযোগিতা করছে না, তাহলে গ্রন্থ করার সিদ্ধান্তটা বদলে ফেলি! গ্রন্থ করতে ইচ্ছে করছে না। অনেকে এই গ্রন্থে লেখা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে চাইছে কিন্তু এখনো কেউ অংশগ্রহণ করল না।’ জবাবে সোহাগ ভাই বলছে,”হাল ছেড়না রেজন, কেউ অংশগ্রহণ না করলেও আমরা দুজনেই বই করব! মানুষ চেনা কঠিন, তুমি মানুষ চেনার চেষ্টা কর। তুমি না তুফান? তুফানের গতিতে চলো।”

 

৩. আজকে গ্রামকে নিয়ে নেগেটিভ আলোচনা

 

মানুষ সুখ খুৃঁজতে গ্রামে আসে কিন্তু পায়না কেন? গ্রামে গীবতকারী, স্বার্থপর, হিংসুক এগুলো আছে। কেউ মিলেমিশে নেই, সবাই সবার শত্রুর ন্যায়! গ্রামের মানুষকে সরল বলা হয়েছিল, এখন বলা হয়না। গ্রাম থেকে অভাব দূর হবে কেমনে? আমরা নিজেদের বৈশিষ্ট্যকে নিজেরাই হ্রাস করি। গ্রামে কি মানুষ কাজ করে না? ইনকাম না করলে মানুষ হাটে যায় কী বাতাস খেতে! হ্যা গ্রামেও ইনকামের সন্ধান আছে তবে কেউ কারো ভাল চায় না। বেকারকে সমাজ বোজার কাতারে রাখে, মানুষ কিভাবে বেকার হয়? আপনি বেকার অতচ আপনার গ্রামের কেউ কাজে গেছে, তিনি কি চাইলে আপনার জন্যও একটা কাজের ব্যবস্থা করতে পারত না? তিনি নিজের সাথে আপনাকে নিয়ে যেতে পারত না? তিনি তা চায়নি। এমনটা নয় যে, গ্রামের সবাই ইনকাম করে করেনা। তাহলে কই? মানুষের জন্য মানুষ’ এটা কোন পাগলের উক্তি। আমরা অনেক টাকা ব্যয় করে হজে যেতে পারি কিন্তু চোখের সামনে এত গরীব-অসহায় দেখেও তাদের পাশে থাকতে পারি না! গ্রামে কি প্রভাবশালী নাই? ফকিরের সাথে ফকিরের দ্বন্দ্ব, তাহলে শান্তি গোসা না করে থাকবে কীভাবে। আমরা কি সুখ ভাগাভাগি করে নিতে পারি? আমি একা ছয়শ টাকা উপভোগ না করে যদি সেই লোকগুলোর সাথে ভাগাভাগি করে উপভোগ করি – এভাবে যদি বেকারত্বটা মুক্ত করার চেষ্টা করি তাহলে কি সুখ আসবে না? এমন চিন্তা কজন করে! দলবদ্ধ হয়ে খাবার খুঁজতে গেলে কি খাবার লুকাবে? খাবারে ময়লা জমবে? নাকি সেই খাবার ভাগাভাগি করে খাইলে আমাদের তৃপ্তি মিটবেনা? বেকারের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কেউ কাজে যায়/যাওয়ার চেষ্টা করে, আবার সময় করে কাউকে/বেকারের সামনে নিজেকে হতভাগার ন্যায় প্রকাশ করে। মনে হয় তিনিই বড় অসহায়, অতচ লুকিয়ে লুকিয়ে কাজ করে ইনকাম রয়েছে তার! অভিনয়। গ্রামের কোন বাড়িতে অভাব নেই? কেউ কেউ নিজেরাই অভাব টেনে আনে! রয়েছে লোক দেখানোর অভাব। আসলে কি চোখকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব! দেখবেন হেতুক, অহেতুক ঝগড়া, গায়ে পড়ে ঝগড়া। কুসংস্কারের উৎপত্তি, এরাও টাকার পাগল। এখানেও চলে মাদক কারবারি, রয়েছে কিশোর গ্যাং, পড়ালেখাটাও ব্যবসা হয়ে গেছে। গ্রামে কি মারামারি নাই/হয়না? আছে, এরাও আধুনিকত্ব দস্যুর ছোঁয়া পেয়েছে। এখানেও ছিনতাইকারী, চোর বাস করে। চোরের ঘর থেকে কি ভাল মানুষ জন্মে? কল্পনামাত্র, ভুল করেও দু-চারটা হয়তো ভাল মানুষ জন্মে। রতনে রতন চিনে তাহলে চোর কাকে চিনবে। এখানেও হারাম রয়েছে, অশোভনীয় কাজ চলে। এখানের মেয়েদেরও সভাব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এরা ভুলেই যাচ্ছে এরা মা-বোনের জাতি! এরা নিজেরাই নিজেদের সন্মানকে মেরে ফেলে। গড়ে উঠছে পরকিয়া। কেন ধর্ষণ হয়, কতটুকু সত্য, কারা এর জন্য দায়ী। কাদের দূর্বলতার জন্য দিন দিন বেড়েই চলেছে ধর্ষণ? কে আসামি? অভিভাবকদের দূর্বলতা, আইনের দূর্বলতা। মেয়েদের ইচ্ছেতেও হয় যৌনসম্ভগ। নোংরা মানসিকতার পোলাপান। এরাই দায়ী/আসামি। নারীরাও পিপীলিকা সাজতে যায়, উড়াল দিতে যায়! কিন্তু আমাদের জানা রয়েছে পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। এতদিন পজিটিভ নিয়ে লিখলাম, আজকে নাহ-হয় নেগেটিভ নিয়ে লিখলাম। তবে শিক্ষানীয়।

 

৪. জাগ্রত সমাজ

 

আমি সমাজসো মূলক একটা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করি অনেক আগ থেকেই। পায়রাভরত একাডেমি প্রতিষ্ঠা করাকালীন এ বিষয়ে কয়েকজন কলম সৈনিককে ও জানাইছি। ২৫/১১/২০২৪ ইং এই পরিকল্পনাটি কাননের কাছে শেয়ার করি। তারপরের দিন থেকে এটা অনেকের কাছে শেয়ার করি। এটি তো একার দ্বারা সম্ভব না, তাই ৬/১২/২০২৪ ইং সকাল ১১টা থেকে দেড় ঘন্টা মাইদুলের সাথে আলাপ করি। সে বলল, আমাদের যত বন্ধু আছে যাদের সাথে দেখা হবে তাদেরকে বলবি ৮ তারিখ মাগরিব পরে শালমারা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওখানে চাতালে উপস্থিত হতে, বলবি একটা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে! সবার কাছে এভাবে প্রচার করতে হবে।’ আমি প্রায় বাইশজনকে আমন্ত্রণ করি, কিন্তু অনেকে ব্যস্ত থাকায় উপস্থিত হয় ১৬ জন। যেহেতু আমি প্রতিষ্ঠাতা তাই তো পরিশ্রম করতেই হবে, সেটা একটু হউক কিংবা সারাজীবন। সবাইকে ফাউন্ডেশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে। রাত সাতটার সময় মাইদুলকে বক্তব্য দিতে বলি। আমি চাইছিলাম সহসভাপতি হবে কানন, এটা উল্লেখও করেছি। সংগঠনের নাম রাখা বিষয়ে সবাইকে প্রশ্ন করা হয়, যার যেটা নাম পছন্দ সে সেটা দাও! কোন নাম রাখলে ভালো হবে ফাউন্ডেশনের। আমি সংগঠনের নামের সাথে পল্লী নামটি যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। মাছুম, মাইদুল, নাইম ও আরো কয়েকজন মিলে নাম রাখে ‘মানব কল্যাণ বন্ধু সংঘ’। এই নামের ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে ব্যাপক/বেশ কয়েকটা রয়েছে। এটি ভাইরাল নাম। আমি চাইছিলাম এ নাম বাতিল করতে হবে, নিজ যোগ্যতাই এগোতে হবে। সমাজ কল্যাণ ও সংস্কারের জন্য অন্য নাম রাখার পরিকল্পনা করি, নিবন্ধনের সময় যেন ভেজাল না হয় এই চিন্তা করতে হবে। অপ্রকাশিত নাম খুঁজছিলাম। ১৬/১২/২০২৪ ইং মাইদুলকে বললাম ফাউন্ডেশনের নাম ‘সমাজচেতনা’ রাখা হউক। এবং কদিন পরে এটি সবার কাছে প্রস্তাব করি। তারপর থেকে ফাউন্ডেশনের নাম রাখা হলো ‘সমাজচেতনা ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে আমার কতটা সমর্থন ও সহয়তা থাকবে জানিনা, তবে আমি স্বপ্ন দেখি সামাজকে সুন্দর করে সাজাতে। রুচি না থাকলে কি-আর করার থাকবে, হয়তো অনীহার কারণে অনেকেই চিন্তা করবে পদত্যাগ করার! আমার ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। ক্ষমা করে দিবেন। মানুষের রুচি কখন, কীভাবে হারাবে এর কিছুটা ধারণা নিশ্চয় পেয়েছেন। ফাউন্ডেশনের কমিটি ও সদস্যরা আমায় বেশ কয়েকবার তুচ্ছ করেছে, লাঞ্ছিত করেছে, মতামতের গুরুত্ব কম। এখানে কানন, মাইদুল, নাইম, ইসমাইল সহ এরা কেউ প্রতিষ্ঠাতা নয়/হতে পারবেনা। প্রথম উদ্যোগ আমারই, একটি সন্তানের দেহে তিনটি/ততোধিক বাবার রক্ত থাকতে পারেনা। মাইদুল, নাইম ও ইসমাইলেরা চাইছিল ‘ছাত্র একতা সংসদ’ প্রতিষ্ঠা করতে আর আমি প্রতিষ্ঠা করে দিলাম ‘সমাজচেতনা ফাউন্ডেশন’। এটির কার্যক্রম মিঠাপুকুর, রংপুরে পরিচালনা ও বাস্তবায়ন হয়। তবু সবার জন্য রইল শুভকামনা।

 

৫. স্মৃতির পাতায়

 

আমার প্রিয় ভাতিজা জন্মেছিল ২১/৩/২০২৫ সালে, এক উজ্জ্বল শুক্রবারের সকাল। সেই দিনটা আজও আমার মনে জীবন্ত, যেন সময় থেমে গিয়েছিল। ছোট্ট এই মানুষটি আমাদের জীবনে আনন্দ এবং আশা বয়ে এনেছে।

 

আমার মা, যিনি AB (+) রক্তের গ্রুপের, সেই দিনও নিঃশব্দে আনন্দে ভেসে ছিলেন। পরিবারের এই নতুন সংযোজন আমাদের হৃদয়কে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

 

সেই মুহূর্তগুলো, সেই আনন্দের হাসি—সবাই মিলে যে ভালোবাসার বন্ধন অনুভব করেছিল, তা আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন।

 

৬. আধুনিক বাংলা-চায়না হাসপাতালটি গাইবান্ধায় স্থাপন করার দরকার

 

চিকিৎসার দিক থেকে গাইবান্ধা অনেক দূর পিছিয়ে রয়েছে। তাই গাইবান্ধার মানুষরা দাবি করছে সকালে যেন বিষয়টিতে নজর দেয়। কারো বাড়ি নদনদী বন্যায় ভেঙে নিয়ে যায়, কেউ বাড়িঘর হারা, অনেকেই অর্থনৈতিক কষ্টে জীবন যাপন করছে। জনস্বাস্থ্যই যদি ঠিক না থাকে তাহলে বেঁচে থাকা কাহিল হয়ে পড়ে। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য শহরে। এমনো হয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছার আগেই রোগী গাড়িতে মারা যায়। সবাই ত ধনীক শ্রেণির মানুষ নয়, চিকিৎসা করার সামর্থ্য না থাকায় কেউ কেউ ঔষধ কিনতে পারেনা! এতগুলো টাকা দিয়ে ঔষধ কিনতেও হিমশিম খেতে হয়। পাকিস্তান আমলে যেমন- যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে সিংহভাগ ও প্রতিরক্ষায় ৯৫℅ ব্যয় হতো, সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষায় ব্যয় হতো মাত্র ৫℅। তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশে কি রংপুর বিভাগ ও গ্রামাঞ্চলের প্রতি এমন দৃশ্য-অদৃশ্য বৈষম্য হচ্ছে না? এই অঞ্চলগুলো আরো করুণ অবস্থায় পরিণত হচ্ছে। এসবের কারণে অনেকেই জন্মস্থান ত্যাগ করেছে, অনেকেরই জন্মস্থানের প্রতি মায়া কমে গেছে। আইন, বিচার, শাসনেও পড়ে গেছে জং। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় উদ্দিষ্টে পুরো দেশ ও জাতির সংস্কারের প্রয়োজন। মাদক, দূর্নীতি, চাঁদাবাজি, সুদ-ঘুষ, দাসপ্রথা, প্রতারণা-চাটুকারিতা, অশ্লীল এককতায় যত প্রকার অনিয়ম, অপকর্ম দূর করতে হবে তবেই দেশটাকে সোনার বাংলায় পরিণত করা সম্ভব।

 

৭. আমার শপথ

 

আমি ন্যায্য অধিকার আদায়ে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করব।

উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অর্জনের লক্ষ্যে সবার সুখ-দুঃখে পাশে থাকব।

দেশ রক্ষা ও কল্যাণে নিয়োজিত থাকব, তা জীবন বিলিয়ে দিয়ে হলেও।

 

আমার মাঝে প্রতিষ্ঠা করব ধৈর্য ও চঞ্চলতা।

হে প্রভু, আমাকে শক্তি দিন।

 

বিশ্বের বুকে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তা রয়েছে।

আমি উন্নত মম শির, আমার হৃদয়ে থাকবে যেন বৃথা না যায় শহীদের রক্ত।

 

আমি বিপ্লবী, আমি দেশপ্রেমিক।

আমার বিশ্বাস, এতে করে সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।

আমি সমাজকে অনুভব করব ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।

 

আমি পল্লী তরুণ,

এটাই আমার দূপ্তকন্ঠে শপথ।

 

৮. লেখক ও পাঠকের নব দিগন্ত সাহিত্য পরিষদ

 

সাহিত্যে আমরা আমাদেরকে খুঁজে পাই। এই শিল্পটি লেখক ও পাঠকের মাঝে মিলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এটার প্রতি ভালবাসা না থাকলে কখনো চর্চা করা সম্ভব হত না। কাল্পনিক, বিনোদন ও সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধারার জন্য লেখক আপ্রাণ চেষ্টা করে। এখানে পাঠকের অবদান লেখককে উৎসাহিত করা, লেখা থেকে জ্ঞান অর্জন করা, আরো অন্য পাঠকদের কাছেও এটি পৌঁছে দেওয়া। তারই প্রেক্ষিতে গঠিত হলো ‘নব দিগন্ত সাহিত্য পরিষদ’ এবং আহমেদ হোসাইন ছানু-কে প্রধান উপদেষ্টা, মোঃ রহমত আলী-কে উপদেষ্টা হিসাবে এখানে নিয়োগ দেওয়া হলো। আমি আশাবাদী এই প্লাটফর্ম বাংলা সাহিত্যে প্রদীপের ন্যায় আলো দিয়ে যাবে, সারা বিশ্বে বাংলা ভাষাকে সন্মানের আসনে ঠাই দিতে আমরণ পরিশ্রম করে যাবে। এটি প্রতিষ্ঠা করাও বেশি দিন হয়নি, তরুণদের-কে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে! বেশ কজন স্বনামধন্য লেখকরা সাড়া দিয়েছেন। এখানে কোন অশোভনীয় লেখা, অসাধু সম্পাদক-প্রকাশক, সাহিত্যচোর (অন্যের লেখা যে নিজের নামে চালিয়ে দেয়) স্থান পাবেনা, নিজের প্রতিভাকে প্রকাশ করতে পারবেন এই প্লাটফর্মে। আপনাদের অবশ্যই চেনা আছে ‘আজকালের আলো’ পত্রিকার নিয়মিত লেখক মোঃ জাবেদুল ইসলাম-কে তিনিও এখানে রয়েছেন। আমরা পরিকল্পনা করে রেখেছি প্রতি বছর এই প্লাটফর্ম কোন যৌথ বইয়ের ব্যবস্থাপনায় থাকবে। এখানে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করবে তাঁদের জন্য থাকবে বিশেষ উপহার। সদস্য সংগ্রহ চলতিছে, যাঁরা সদস্য হতে চান প্লিজ আমাদের ইনবক্সে যোগাযোগ করবেন। ফেসবুকেও এটির গ্রুপ রয়েছে।

 

৯. বাটন ফোন থেকে সাহিত্যজগতে

 

হয়তো আমি কবিতার চেয়ে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, কলাম ও ফিচার বেশি লিখি । তবে যতটুকু কবিতা লিখি, তাতে প্রেম-বিপ্লব, সুখ-দুঃখ জীবনের নানা অনুভবকে তুলে ধারার চেষ্টাই থাকে। কবিতা বিষয়ে আমার কোনো/প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই। আমি কবিতাকে ফুলের সঙ্গে তুলনা করি; আর নিজে মৌমাছির মতো হতে পেরেছি কি না, সেটা আমারই অজানা।

 

মৌমাছি যেমন ফুল থেকে মধু আহরণ করে, তেমনি আমি যখন অন্য কবিদের কবিতা পাঠ করি, চেষ্টা করি সেখান থেকে জ্ঞান-অভিজ্ঞতা অর্জন করার। এভাবেই ধীরে ধীরে আমার কবিতাচর্চা গড়ে উঠছে।

 

আমি যখন ‘আজকালের আলো’ পত্রিকায় লেখা শুরু করি, আমার বিশ্বাস – পাঠকের হৃদয়ে অন্তত একচিমটি জায়গা করে নিতে পেরেছি। জানি না কতজন আমাকে বা আমার লেখাকে পছন্দ করেন, তবে যতটুকু করেন, সেটুকুই আমার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠে।

 

প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ রহম করেন – কে কতটুকু পায়, তা বলা মুশকিল। তিনি যা করেন, আমাদের মঙ্গলের জন্যই করেন।

 

আজ আমি ‘সময়ের ভাবনা’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। এই পথচলায় ‘আহমেদ হোসাইন ছানু’ ভাইয়ার অবদান অনস্বীকার্য।

 

একসময় ‘আজকালের আলো’ পত্রিকাটিকে চিনতাম না। এখনো পুরোপুরি চিনি না হয়তো। এই পত্রিকাকে যতটুকু চিনি। আর পূর্বে চেনার আগ্রহ জাগে ‘এম.কে জাকির হোসাইন বিপ্লবী’ ভাইয়ার কয়েক দিনের ফেসবুক পোস্ট দেখে। দেখি, তিনি এই পত্রিকার লিংক ও ই-পেপার শেয়ার করছেন, বুঝতে পারি – তাঁর কবিতা এখানে প্রকাশিত হয়েছে।

 

একদিন আমি ফেসবুকে ‘আজকালের আলো’ নামে সার্চ দিই। একটি পেজ পাই এবং পেজটির ইনবক্সে নক দিই। তখন মনের মধ্যে একটা অনুভূতি জাগে – আমার তো কোন লেখা ‘প্রথম আলো’-তে প্রকাশ হয়নি, দেখি ‘আজকালের আলো’-তে কিছু হয় কি না। এবং হয়েছেও তাই। পত্রিকাটিতে আমার প্রথম যে লেখা প্রকাশ হয় – সেটি ছিল একটি শিশুতোষ লেখা। ছোটদের জন্য লেখা কারো কাছে সহজ, কারে কাছে এত সহজ না। আমার কাছে সেটি ছিল এক আন্তরিক প্রয়াস মাত্র। ছানু ভাই অনেক কলমসৈনিককে গড়ে তুলেছেন – এ কথা না বললেই নয়।

 

২০২৪ সালের শেষ দিকে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় যখন নাহিদ ভাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হন, তার পরবর্তী সময়টায়, অর্থাৎ প্রায় এক মাস পর থেকে ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ পর্যন্ত আমার কোন লেখা পত্রিকা বা প্রকাশনীতে প্রকাশ হয়নি। আমার লেখক জীবনে কিছুটা বিরতি আসে।

 

এর পিছনে একটা কারণ ছিল- ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫-এ আমি স্মার্টফোন কিনি। আ.লীগ সরকারের আমলে আমি বাটন ফোন ব্যবহার করতাম। সেই বাটন ফোন দিয়েই ফেসবুক চালাতাম, পরিচিত লোকদের সাথে যোগাযোগ করতাম, অপরিচিতদের সাথে পরিচিত হতাম, এমনকি সাহিত্যচর্চা করতাম। ডায়েরির লেখা ফেসবুক মেসেজে টাইপ করে পাঠিয়ে দিতাম বিভিন্ন পত্রিকা বা প্রকাশনীতে। প্রকাশও হতো।

 

আমার কাছে স্মার্টফোন না থাকায়, তার প্রতি আসক্তিও ছিল না। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ার প্রায় এক মাস পর থেকে বাটন ফোনে ফেসবুক চালানো বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হলো, কে করল – নির্দিষ্ট করে বলতে পারিনা।

 

এরপর পত্রিকা ও প্রকাশনীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিল ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ পর্যন্ত।

 

আবার চেষ্টা করছি নিজেকে গুছিয়ে তুলতে, নতুন করে পথচলা শুরু করতে। আমার হৃদয় মিশে আছে পল্লীর সঙ্গে। কে যেন বলেছিলেন,’নাগরিক বলতে মূলত শহর কেন্দ্রিক অর্থ বোঝানো হয়। নগর থেকে নাগরিক। নাগরিক শব্দের সঙ্গে শহরের জীবন, সংস্কৃতি ও বাসিন্দাদের সম্পর্ক থাকে। নগর বা শহর কেন্দ্রিক জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকেই নাগরিকতা নির্ধারিত হয়।’ ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed