
আব্দুল কাদের
নির্বাচন মানেই নতুন আগামীর স্বপ্ন। তবে এই স্বপ্ন কেবল প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের সমীকরণ নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মূল ভিত্তি হলো নাগরিকের মর্যাদা। ভোটার যখন কেন্দ্রে যান, তিনি কেবল একজন প্রার্থীকে নির্বাচন করেন না, বরং তার নিজের এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের সেই চিরচেনা চাওয়াগুলোর বাস্তবায়ন কতটা হবে, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
আমাদের মৌলিক দাবিগুলো খুব সহজ। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা যেন মাদকের মরণনেশা থেকে দূরে থেকে একটি সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠে। প্রতিটি ঘরে শিক্ষিত বেকার যুবকদের দীর্ঘশ্বাস বন্ধ করতে হলে বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই। আশ্বাস নয়, আমরা কাজের সুযোগ চাই। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা হলো হয়রানিমুক্ত সেবা। ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যেন সামান্য একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য বারবার ঘুরতে না হয় কিংবা টেবিলের নিচ দিয়ে অর্থ লেনদেন করতে না হয়।
শিক্ষাঙ্গনে আমরা রাজনীতির চেয়ে মেধার মূল্যায়ন বেশি দেখতে চাই। অযোগ্যদের দাপটে যেন যোগ্যরা পিছু হটে না যায়, সেদিকে সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি হওয়া উচিত শিক্ষানুরাগীদের মিলনমেলা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্র নয়। একই সাথে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সম্পদ ও জলাশয় যেন প্রভাবশালীদের দখলে না গিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আগামীর নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে, সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা কেবল ভোট দেওয়ার কারিগর নন, তারা একটি বাসযোগ্য সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা। ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে এবং প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে যারা জনগণের পাশে দাঁড়াবেন, জনরায় তাদের পক্ষেই যাবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে একটি সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
