
স্টাফ রিপোর্টার:
নীলফামারীর ডিমলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন কলেজ ও বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সংগঠনটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের হলরুমে জাতীয় ছাত্রশক্তির ডিমলা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ডিমলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক তুষার ইমরান। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সদস্যসচিব উমর ফারুক (সুমন) ও যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক আবু সাঈদ লিয়ন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরশাদ হুসাইন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইদুজ্জামান বাবু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নীলফামারী জেলা কমিটির আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক মো. জবের আত্তারি, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় উপপ্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ জামিল হোসেন এবং এনসিপির ডিমলা উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়ারুল ইসলাম জিয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক মো. সৈয়দ মেহেদী হাসান আশিক, রংপুর মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোতায়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকির, জাতীয় ছাত্রশক্তির নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক মো. ইমরান আলী শাহ, সদস্যসচিব মো. সাকিব ইসলাম এবং জাতীয় যুবশক্তির ডিমলা উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব মো. মোসলেম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা প্রয়োজন’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু সাঈদ লিয়ন বলেন, নীলফামারীর ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। পতিত শাসনের অবসানে সংঘটিত আন্দোলন ও বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে ডিমলায় জাতীয় ছাত্রশক্তিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করা হবে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংস্কারের পথ থেকে সরে গেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক ভূমিকা প্রয়োজন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জাতীয় ছাত্রশক্তি দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে আবু সাঈদ লিয়ন বলেন, ওই আন্দোলনে নারীদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
‘প্রয়োজনে নতুন আন্দোলনের সূচনা ডিমলা থেকেই’
প্রধান আলোচক আরশাদ হুসাইন বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রয়োজন হলে নতুন আন্দোলনের সূচনা নীলফামারীর ডিমলা থেকেই করা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জাতীয় ছাত্রশক্তিতে যোগ দেওয়া নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় আয়োজক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
