61

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত নেওয়ার সময় অদক্ষ কর্মীর অবহেলায় ১৬ মাস বয়সী এক শিশুর ডান হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার হাতে জরুরি অপারেশন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর চাচা জানান, সামান্য মাথার ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য তার ভাতিজা রাইয়ানকে নারায়ণগঞ্জের ডা. শফিউল আলমের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা দিলে তারা চাষাড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।

অভিযোগে তিনি বলেন, “ল্যাবের কয়েকজন অদক্ষ নার্স রাইয়ানের ডান হাত থেকে রক্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে সুই দিয়ে খোঁচাখুঁচি করার পর সামান্য রক্ত সংগ্রহ করা হয়।”

বাসায় ফেরার পর থেকেই শিশুটির ডান হাত ফুলে যেতে থাকে এবং সে প্রচণ্ড ব্যথায় কান্না করতে থাকে। পরের দিন রিপোর্ট নিয়ে পপুলারে গেলে সেখানকার কর্তব্যরতরা এবং ডা. শফিউল আলম শিশুটিকে দ্রুত ঢাকার কোনো শিশু হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে দেখানোর পরামর্শ দেন।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে নারায়ণগঞ্জ থেকে সরাসরি শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে যান। সেখানে সিট খালি না থাকায় পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, রক্ত নেওয়ার কারণে শিশুটির কনুই থেকে আঙুল পর্যন্ত রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত অপারেশন না করলে হাত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শে রাইয়ানের অপারেশন করা হয়। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেলের একটি বেডে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী পরিবার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রোগী দেখানো চিকিৎসক ডা. শফিউল আলমের এ ঘটনায় কোনো দায় নেই। সম্পূর্ণ দায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের।

You missed