সাবিত রিজওয়ান
এই দেশে বোরকা পড়ে মেয়ে নাচছে, বাবায় দিচ্ছে হাততালি।
বোরকা পড়ে ড্রামস, গিটার বাজাচ্ছে। বাহ্! ভাইরাল হওয়ার উপাদান এখন বোরকাও।
সাবাস তোমার প্রতিভাকে।
সাবাস লুইচ্চা সমাজকে।
সাবাস মুখে খই ফুটিয়ে কথা বলা লোকদেরকে। মুখে খই ফোটাও।
আর বোন-মেয়েকে এসব করতে বলো।
কুনজর কেন লাগে জানো? এখন থেকে মেয়েদের নাইট ক্লাবে পাঠাও। বন্ধুদের সাথে মস্তি করতে দাও। রাস্তা-ঘাটে নারী কেন চলবে না? তাদের কি স্বাধীনতা নেই?
তাদের কাছে অশ্লীল-পরকীয়াও হালাল। সবারই প্রেম-ভালোবাসা করার অধিকার আছে।
কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক এগুলোকে বাজে মন্তব্য করলে শিক্ষকের মাথা ফাটিয়ে দাও।
ভারতের আইন-বিধানে তো বলা আছে, মেয়েরা কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারে কিন্তু কেউ যেন তা চরিত্র দোষ না বলে। তো বাংলাদেশেও এই আইন-বিধান হোক।
সব ধর্ষক এক হও, রাস্তা-ঘাটে চলা নারীদের রুখে দাও।
মেয়েদের বেস্ট ফ্রেন্ড থাকতেই পারে। আর ছেলে বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলাটাও তাদের কাছে হালাল। কোন ধরনের কথা, আন্দাজ করে বুঝো।
মেয়ে পরপুরুষের সাথে শুয়ে থাকাটা কিভাবে হারাম হয়? এটাও হালাল।
বেস্ট ফ্রেন্ড বা ফ্রেন্ড কি তাহলে পরপুরুষ না? আপন ভেবেই এসব করো।
আমরা এখন মুক্ত চিন্তার জাতি। শালীনতা নাকি সেকেলে শব্দ। টিকটক-রিলসের যুগে পর্দা করে কে? লাইক-ভিউই আসল ধর্ম।
মা-বাবা এখন নিজেই বলে – “যা মা, একটু ইনজয় কর। জীবন তো একটাই।”
শিক্ষক ক্লাসে নীতি কথা বললে ছাত্র-ছাত্রী হাসে। বলে “হুজুর, এগুলা বাদ দেন।” আবার দেখছি শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই এসবের সাথে লিপ্ত।
আগামী প্রজন্মকে শেখাও। দেখিয়ে দাও – আমাদের শিক্ষক আমাদের কন্ট্রোল করতে পারেনি। যে পথে চলা নিষেধ, আমরা সেই পথ দিয়ে হেঁটেছি। আমরা আকাশের মতো বাধাহীন।
আমি দেখতেছি এদেশে হাজার হাজার আলেম-আলেমা আছে। তাঁরা প্রতিদিন তিলে তিলে মরছে। একদিন সিংহের মতো সাহস নিয়ে বাঁচতে পারে না। সিংহের মতো সাহস নিয়ে চলতে গেলে তারা জীবিকা নির্বাহ করবে কিভাবে! তাদের শিক্ষার্থীরাও এসব করে। সবাই করে না। তবে কথাটা তোমার গায়ে ধাক্কা লাগে, বা মনে করো তোমার উদ্দেশ্যে বলেছি – তাহলে তুমিও হয়তো এসব করো বিধায় এসব তোমাকে বলছি।
শিক্ষার্থী কমে গেলে তাঁরা টাকা পাবে কোথায়!
এদেশের অভিভাবকরাই যদি লুইচ্চা হয়, সন্তান লুইচ্চা হতে কতক্ষণ।
আমি সব অভিভাবকদের বলছি না। সেই অভিভাবকদের বলছি। আপনারা জ্বিনার সাথে লিপ্ত হন তাহলে।
আমি বললাম, স্কুল-মাদ্রাসা উভয়ের উদ্দেশ্যে।