খুলনা ব্যুরো:
খুলনা মহানগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। চিরুনি অভিযানে মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন। ১৬ ঘণ্টার এই ম্যারাথন অভিযানে মাদক বিক্রি, সেবন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
কেএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গত ৭ জুন রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে অভিযানটি চলে ৮ জুন সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত। মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।
থানাভিত্তিক গ্রেফতারের খতিয়ান
অভিযান চলাকালীন মহানগরীর আটটি থানা এলাকা ও ডিবি পুলিশ একযোগে কাজ করে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেফতার করা হয় সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকা থেকে। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতারকৃতদের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
সোনাডাঙ্গা মডেল থানা: ১০ জন
খুলনা সদর থানা: ৯ জন
লবণচরা থানা: ৪ জন
খালিশপুর থানা: ৩ জন
খানজাহান আলী থানা: ৩ জন
দৌলতপুর থানা: ২ জন
মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি): ২ জন
মাদক উদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা
অভিযানকালে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে অপরাধীদের কাছ থেকে মোট ২০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৯ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করে।
কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রচলিত বিভিন্ন ধারায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (৮ জুন) আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
অপরাধমুক্ত নগরী গড়তে কেএমপির অঙ্গীকার:
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে কেএমপির এই জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
নগরীর সচেতন মহল পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মাদক ও অপরাধমুক্ত খুলনা গড়তে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।