সাহিত্যচর্চা, কবিতা ও তরুণ লেখকদের ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন কবি হাকিমুল ইসলাম সবুজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের সম্পাদক সাবিত রিজওয়ান।
প্রশ্ন: আপনি নিজের সম্পর্কে একটু বলবেন?
উত্তর: আমি হাকিমুল ইসলাম সবুজ
জন্মসূত্রে ময়মনসিংহ, বসবাস করছি। পরিচয় দেয়ার মতো বড় কিছু অর্জন করতে পারিনি।
সাহিত্য চর্চা করতে পছন্দ করি।
ব্যাস
প্রশ্ন: শুরুতে একজন তরুণ লেখক হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
উত্তর: ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন।
লেখালেখি যারা করেন তাদের সবারই কিছু না কিছুর মুখোমুখি হতে হয়।
এরকমটা আমারও হয়েছে।
আমাদের জীবনে, সমাজে, রাষ্ট্রে অনেক কিছুই ঘটছে।
অকপটে সবাই চাইলেই কিছু বলতে পারে না, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে।
নিজের সাথে হোক সমাজের সাথে রাষ্ট্রের সাথে—এই সীমাবদ্ধতাটা পেরিয়ে যাওয়া একটা চ্যালেঞ্জের মতো লেগেছিলো।
প্রশ্ন: আজকের তরুণরা কেন কবিতা লিখবে বা পড়বে বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর: দেখুন শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্যের সাথে আমাদের শেকড়ের টান। এছাড়াও আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই কিছু সুপ্ত কথা বা অনুভূতি থাকে। তা প্রকাশ করার জন্য হলেও যুগে যুগে মানুষ লিখে যাবে। আর কবিতার কথা গুলো জীবন থেকেই নেয়া।
জীবনকে বুঝতেও মানুষ পড়বে লিখবে।
প্রশ্ন: লেখালেখি শুরু করতে চাইলে প্রথম ধাপটা কী হওয়া উচিত?
উত্তর: জীবনদর্শন, প্রকৃতির প্রতি অগাধ প্রেম। আর অনেক দুঃখ সয়ে নেয়ার মতো হৃদয়। তারপর প্রকাশ করার বাচনভঙ্গিটা রপ্ত করতে পারা।
প্রশ্ন: অনেকে লেখে কিন্তু থেমে যায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর: থেমে যাওটা সলুশন নয়। তবে মানুষ যখন সব কথা লিখে ফেলে তখন কথা শূন্যতায় পড়ে।
এমনটা টুকটাক সবাই ফেস করে থাকে। একেকজন একেক থিওরি এপ্লাই করে।
আমার মতে লেখা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে
বই, প্রেমিকা, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা উচিত।
প্রশ্ন: কবিতা কি প্রতিভা, নাকি অনুশীলনের বিষয়?
উত্তর: উভয়ই, কেননা প্রতিভা থাকলেও অনুশীলন না থাকলে বেশিদিন টিকে যায়না কবিতায়।
প্রশ্ন: নতুন লেখকরা কোন ভুলটা বেশি করে?
উত্তর: শব্দের ভুল অথবা বানান।
প্রশ্ন: যেমন
উত্তর: অনেক শব্দ আছে া িূ এবং ঙ ণ ন ং এগুলোর ভুল প্রয়োগের ফলে অর্থ ভিন্ন হয়ে যায়। এরকম অনেক আছে।
প্রশ্ন: ভালো কবিতা লেখার জন্য কী কী অভ্যাস দরকার?
উত্তর: প্রচুর পড়তে হবে। বই, জীবন, প্রকৃতি।
প্রশ্ন: ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কবিতার প্রভাবকে আপনি কীভাবে দেখেন?
উত্তর: ইতিবাচক নেতিবাচক উভয় দিকই আছে এখানে।
প্রত্যেকদিন নিত্যনতুন কবিতা পড়া যায়।
প্রকাশ করা যায়।
আর নেতিবাচক দিক হলো এখানে লেখা চুরির একটা ব্যাপার আছে।
প্রশ্ন: এখন কি কবিতা জনপ্রিয় হচ্ছে, নাকি শুধু দ্রুত পড়া কনটেন্টে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?
উত্তর: এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। একটা সময় ছিলো কবিতা জনপ্রিয় হতো।
অনেক সহজলভ্যতার কারণে দ্রুত পড়ে ফেলা ও কন্টেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন: অনলাইনে লেখালেখি কি মান বাড়াচ্ছে নাকি কমাচ্ছে?
উত্তর: এখানে পাঠক থাকায় অনেকের লিখার মান ভালো হয় আবার অনেকের কমে যায়। তবে দুইটারই একটা ব্যালেন্স আছে আপাতত। ভবিষ্যতে কি হয় তা জানি না।
প্রশ্ন: আপনার মতে কমছে?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: আপনার জীবনে এমন কোনো মুহূর্ত আছে যা আপনাকে লেখায় বদলে দিয়েছে?
উত্তর: ওরকম ট্র্যাজেডি নেই। তবে সবারই থাকে কিছু না কিছু।
সমাজ, সংসার, প্রেম, জীবন—সবকিছুরই মিশ্র অবদান আছে।
প্রশ্ন: কোনো কবিতা লিখে আপনি নিজেই সবচেয়ে বেশি শিখেছেন কী?
উত্তর: প্রত্যেকটা কবিতায় আমাকে শেখায়। আমার কাছে নির্দিষ্ট কোন কবিতা নেই এ ক্ষেত্রে।
প্রশ্ন: একজন নতুন লেখক কিভাবে নিজের আলাদা স্টাইল খুঁজে পাবে?
উত্তর: লিখতে লিখতে, পড়তে পড়তে একটা সময় নিজের একটা স্টাইল অটোমেটিক চলে আসবে।
প্রশ্ন: প্রকাশিত হওয়ার আগে কতটা প্রস্তুতি দরকার?
উত্তর: কবিতা না বই?
প্রশ্ন: কবিতা বা বই
উত্তর: অনেক প্রস্তুতির দরকার। নির্দিষ্ট সংখ্যক পাঠক থাকাটা আবশ্যক। এছাড়াও লেখার মান যাচাই সহ অনেক কিছু।
প্রশ্ন: কেউ যদি সিরিয়াসলি লেখালেখি করতে চায়, তার জন্য আপনার ৩টি টিপস কী?
উত্তর:
১. জীবন চালানোর জন্য ব্যাকআপ থাকতে হবে।
২. পাঠকদের রুচি অনুযায়ী লিখতে হবে।
৩. নিত্যনতুন পরিস্থিতির সাথে মুখোমুখি হওয়ার মনমানসিকতা বা ইচ্ছে থাকতে হবে।
প্রশ্ন: কবিতা লিখে আপনি জীবনে কী পেয়েছেন?
উত্তর: কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্য করে কখনো লিখিনি।
ভিতরের কথা গুলো লিখতে পারি এটাই অনেক শান্তি দেয় আমাকে।
এছাড়া পরিচিত অপরিচিত ভাই বন্ধু শুভাকাঙ্ক্ষীরা সম্মান করে স্নেহ করে।
এটাই অনেক বড় পাওয়া।
প্রশ্ন: আজকের তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার একটা বার্তা কী হবে?
উত্তর: তাদের উদ্দেশ্যে একটাই বার্তা তোমাদের জীবন কবিতার মতো সুন্দর বানাও।
উপভোগ করো জীবনকে।
সুখ দুঃখকে আলাদা করো না। এগুলোই জীবনের অংশ। জীবনের প্রত্যেকটা মুহুর্ত উপভোগ করো। পড়ো নিজেকে আবিষ্কার করো।
সাক্ষাৎকার সমাপ্ত
কবি হাকিমুল ইসলাম সবুজকে ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
উত্তর: আপনাকেও ধন্যবাদ।