ব্যুরো প্রধান খুলনা:
বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের তেঁতুলিয়া ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে সৃষ্ট এ দুর্ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর প্রায় ৪০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে তেঁতুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস মোংলা থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তেঁতুলিয়া ব্রিজের বাঁকে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে যান।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন কেটে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা পাঁচজন এবং পিকআপ ভ্যানে থাকা তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজিব আল রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, অতিরিক্ত গতি এবং ব্রিজের বাঁকে অসাবধানতাবশত গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার কারণে প্রায় ৪০ মিনিট খুলনা-মোংলা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় সড়ক যোগাযোগ।
এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ সকল চালকের প্রতি আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সেতু এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।