নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ মোঃ ফুয়াদ হাসান আন্দোলন-পরবর্তী বর্তমান পরিস্থিতি ও নিজেদের মূল্যায়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়ে ভূমিকা রাখার পরও প্রত্যাশিত সম্মান, স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা না পাওয়ার এক বড় ধরনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি দেওয়া এক আবেগঘন ও বিস্ফোরক বক্তব্যে ফুয়াদ হাসান বলেন,
“জুলাইয়ে যুদ্ধ করে দেশ কে স্বাধীন করেও সন্মান পেলাম না, উল্টো গুম হতে হয়, মার খেতে হয়। অথচ পাকিস্তানের নেতারা সন্মান দিয়ে বলেছেন, আজাদীর লড়াই চালিয়ে যাও, যা লাগবে দেব।”
তার এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে নতুন করে এক বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে রাজপথে রক্ত দেওয়া ও অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা, রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন এবং সঠিক সামাজিক স্বীকৃতি মিলছে কি না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বক্তব্যে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রতি বর্তমানের নেতিবাচক আচরণ এবং তাদের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ফুটে উঠলেও, ফুয়াদ হাসান তার সাথে ঘটা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা আইনি হয়রানির বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে, তার এই বিস্ফোরক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষ বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সফলতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সঠিক মূল্যায়ন এবং আন্দোলনের মূল চেতনা বাস্তবায়নের দাবিতে নানা বক্তব্য সামনে এসেছে। ফুয়াদ হাসানের এই সাম্প্রতিক আক্ষেপ ও মন্তব্য সেই অমীমাংসিত আলোচনা ও ক্ষোভকে আবারও মাঠপর্যায়ে সামনে নিয়ে এলো।