104

বিশেষ সংবাদদাতা, রংপুর

​ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় বেড়ানোর নাম করে ডেকে নিয়ে এক কিশোরীকে পাশবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই গুরুতর অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—কালিতলা বাজার এলাকার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলাম (২২), মিন্টুর ছেলে রনি (২১) এবং রহমান মাজেদুরের ছেলে মাসুদ (২২)।

​আমাদের রংপুর ব্যুরো ও স্থানীয় অনুসন্ধানী দল জানিয়েছে, গত রবিবার ভোররাতে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় টহল দিচ্ছিল পুলিশের একটি বিশেষ দল। সে সময় আসামি রনির বাবার একটি পরিত্যক্ত গোডাউন ঘরের সামনে গভীর রাতে মোটরসাইকেলের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখে পুলিশ সদস্যদের মনে খটকা লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই গোডাউন ঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে গুরুতর অসুস্থ ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কিশোরীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

​হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী কিশোরী আমাদের প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করে জানায়, সপ্তাহখানেক আগে এক বান্ধবীর মাধ্যমে অভিযুক্ত তামিমের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল। সেই সুবাদে তামিম তাকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। সরল বিশ্বাসে তার সাথে গিয়ে দীর্ঘ সময় ঘোরার পর, কৌশলে কালিতলা বাজারের একটি নির্জন গোডাউন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তামিমের অন্য দুই বন্ধু রনি ও মাসুদসহ তিনজন মিলে রাতভর কিশোরীর ওপর পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন চালায়।

​এই নৃশংস ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সামাজিক অবক্ষয়ের এই নগ্ন রূপের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed