মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খুলনার গণমানুষের প্রিয় নেতা, জননেতা শফিকুল আলম মনা। তাঁর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার খবরটি খুলনাবাসীর মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই খুলনার বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসানো হচ্ছে। নগরবাসী মনে করছেন, শফিকুল আলম মনার দূরদর্শী ও দক্ষ নেতৃত্বে খুলনার সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এক অভূতপূর্ব গতিশীলতা আসবে।
সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়
একটি আধুনিক, পরিকল্পিত এবং নান্দনিক খুলনা নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর ভূমিকা অপরিসীম। দীর্ঘদিন ধরেই খুলনাবাসী এমন একজন যোগ্য ও মাঠপর্যায়ের নেতার সন্ধান করছিলেন, যিনি এই অঞ্চলের মাটির মানুষকে চেনেন এবং নগরের সমস্যাগুলোকে নিবিড়ভাবে বোঝেন। শফিকুল আলম মনার মতো একজন প্রজ্ঞাবান ও কর্মবীর ব্যক্তিত্ব এই চেয়ারে বসায় খুলনার পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নতুন প্রাণ পাবে বলে বিশিষ্ট নাগরিকরা আশা প্রকাশ করছেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও জনকল্যাণ
শফিকুল আলম মনা কেবল একজন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবেই নন, বরং খুলনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক অতি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন সততা, নিষ্ঠা এবং ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তরুণ বয়স থেকেই তিনি খুলনার মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আপসহীন নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অসাধারণ গুণই তাঁকে আজ খুলনাবাসীর হৃদয়ে এক অনন্য স্থানে বসিয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন এবং খুলনার উন্নয়নে জোরালো কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ—সবার জন্যই তাঁর দরজা সবসময় উন্মুক্ত। এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনসম্পৃক্ততাই কেডিএ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনা
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শফিকুল আলম মনা খুলনার উন্নয়নকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে জানা যায়, খুলনাকে একটি স্মার্ট ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর উন্নয়ন ভাবনার মূল দিকনির্দেশনাগুলো হলো:
পরিকল্পিত নগরায়ণ: যত্রতত্র আবাসন বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ বন্ধ করে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পরিকল্পিত উপায়ে খুলনা সিটির সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা।
জনকল্যাণমূলক প্রকল্প: কেডিএ-এর উদ্যোগে এমন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনা এবং কেডিএ-এর প্রতিটি কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
গ্রিন ও ক্লিন খুলনা: আবাসন প্রকল্পগুলোতে পর্যাপ্ত গাছপালা, পার্ক এবং লেকের ব্যবস্থা করে খুলনাকে একটি পরিবেশবান্ধব সবুজ নগরী হিসেবে ধরে রাখা।
খুলনাবাসীর প্রত্যাশা ও শুভকামনা
শফিকুল আলম মনার এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা সবখানেই এখন ইতিবাচক আলোচনার ঝড়। খুলনার সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “আলহামদুলিল্লাহ, খুলনার উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা” লিখে তাদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। নগরবাসী অত্যন্ত আশাবাদী যে, শফিকুল ইসলাম মনা ভাইয়ের হাত ধরেই খুলনা অঞ্চল শিল্প, বাণিজ্য ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে দেশের অন্যতম সেরা নগরীতে পরিণত হবে।
খুলনার সর্বস্তরের জনগণ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, উত্তরোত্তর সফলতা এবং কর্মময় জীবনের সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়েছে। তাঁর এই নতুন যাত্রা সফল হোক এবং খুলনা ফিরে পাক তার কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি এমনটাই এখন পুরো খুলনাবাসীর একমাত্র প্রার্থনা।