• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে অল টাইম ক্লিনের প্রথম সাংগঠনিক টি-শার্ট উন্মোচন কবিতাঃ নারী অধিকার সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা ফরিদপুরে সরকারি কার্ড দেওয়ার টোপ দিয়ে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত পলাতক এআই এবং সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ: আশীর্বাদ নাকি নতুন সংকট? তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী দাবি উগান্ডার সেনাপ্রধানের, সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি রমনা বটমূলে বোমা হামলার ২৫ বছর: এখনো ঝুলে আছে বিস্ফোরক মামলার বিচার পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন: আইজিপি’র নির্দেশ পহেলা বৈশাখে বৃষ্টির শঙ্কা কোথায়? জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন ফ্রান্স যুবদলের সহ- সাধারণ সম্পাদক এম ফখরুল ইসলাম ফয়েজ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল: বিলাসিতা নয়, জীবনযাত্রার অধিকার

Tufan / ৬৫ Time View
Update : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আব্দুল কাদের

 

​একটি আধুনিক রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো মূলত এক একটি ইটের গাঁথুনি, যা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও কর্মস্পৃহার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার প্রধান শর্ত হলো সেই প্রশাসনের প্রাণশক্তিদের আর্থিক সচ্ছলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন একটি শক্ত অবস্থানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন সরকারি সেবার প্রান্তিক কারিগরদের আর্থিক হাহাকার একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেতন কেবল সংখ্যায় বাড়লেই হয় না, বরং সেই বৃদ্ধি সাধারণ কর্মচারীর জীবনযাত্রার মানে প্রকৃত পরিবর্তন আনছে কি না, তা আজ গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

 

​পে-স্কেলের বিবর্তন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

​১৯৭৩ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সরকার যখন প্রথম বেতন কাঠামো ঘোষণা করেন, তখন মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা। সে সময় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত নগণ্য, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের ইঙ্গিত প্রদান করেছিল।

​১৯৭৭-২০০৯: পরবর্তী দশকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্কেল ঘোষণা করা হলেও বৈষম্যের বীজ মূলত তখনই বপন করা হয়।

​২০১৫ সালের প্রভাব: সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে। পূর্ববর্তী কাঠামোর তুলনায় বেতন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের মতো জটিল পদ্ধতিগুলো বাতিল করে বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট প্রথা চালু করা হয়।

​২০২৬ সালের অসারতা: সময়ের পরিক্রমায় দেখা গেছে যে, এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির সুফল বাজার সিন্ডিকেট আর লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ কর্মচারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৫ সালের ৮,২৫০ টাকা আর ২০২৬ সালের সমপরিমাণ টাকার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আজ যোজন যোজন পার্থক্য।

২০২৬ সালের বাস্তবতা:

​বর্তমান ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ২০১৫ সালের নির্ধারিত বেতন কাঠামো আজ তার কার্যকারিতা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়েছে।

​২০তম গ্রেডের হাহাকার: বর্তমানে ২০তম গ্রেডে থাকা একজন কর্মচারী যে মূল বেতন পাচ্ছেন, তা দিয়ে ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে একটি পরিবারের ঘরভাড়া দেওয়াই দায়।

​মানবিক দাবি: ২০তম গ্রেডের বর্তমান ৮,২৫০ টাকার বিপরীতে প্রস্তাবিত ২০,০০০ টাকা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক মানবিক দাবি। একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীও যাতে অন্তত তিনবেলা পুষ্টিকর খাবার এবং সন্তানদের নূন্যতম শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

​বেতন বৈষম্যের ব্যবচ্ছেদ:

​সরকারি বেতন কাঠামোতে বৈষম্য কেবল মূল বেতনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধার ক্ষেত্রেও প্রকট।

​ক. ভাতার অসামঞ্জস্য (শিক্ষা ও চিকিৎসা)

​একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সন্তানের শিক্ষার ব্যয় এবং একজন নিম্ন পদের কর্মচারীর সন্তানের শিক্ষার ব্যয় একই বাজার দ্বারা নির্ধারিত। অথচ চিকিৎসা ভাতা এবং শিক্ষা সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো গ্রেড অনুযায়ী ভিন্ন হওয়া অত্যন্ত পীড়াদায়ক। রোগের চিকিৎসা বা সন্তানের খাতা-কলমের দাম পদের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না; তাই এই বৈষম্যটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

​খ. অদৃশ্য সুবিধা ও আবাসন সংকট

​উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি ঋণ, রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা এবং সুদমুক্ত গৃহ ঋণের যে বিপুল সুবিধা রয়েছে, নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে তার ছিটেফোঁটাও নেই। এই কাঠামোগত অসামঞ্জস্য প্রশাসনের অভ্যন্তরে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক হীনম্মন্যতা ও অসন্তোষ জন্ম দিচ্ছে, যা কাজের গতিশীলতাকে ব্যাহত করে।

 

​বৈষম্য নিরসনে টেকসই সমাধানের পথ:

​একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও কার্যকর প্রশাসন গড়তে হলে কেবল এককালীন বেতন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার:

​১. রেশিও ভিত্তিক বেতন নির্ধারণ (১:৫ মডেল)

​আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান একটি যৌক্তিক পর্যায়ে (যেমন ১:৫ বা ১:৬) নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন বেতন যদি ২০,০০০ টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ১,০০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকার আশেপাশে থাকা উচিত। এতে করে সামাজিক ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের মধ্যে বঞ্চনার বোধ কাজ করবে না।

​২. অটো-ইনডেক্সিং বা স্বয়ংক্রিয় মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয়

​প্রতি ৫ বা ১০ বছর অন্তর নতুন পে-কমিশনের জন্য রাজপথে আন্দোলন না করে একটি ‘অটো-ইনডেক্সিং’ পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হারের সাথে সমন্বয় করে প্রতি বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করলে কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কখনো হ্রাস পাবে না।

​৩. রেশনিং ও আবাসন সুবিধা

​কেবল নগদ টাকা হাতে না দিয়ে, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য সুলভ মূল্যে টিসিবির মাধ্যমে স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা (চাল, ডাল, তেল, চিনি ইত্যাদি) চালু করা জরুরি। এছাড়া মহানগরীগুলোতে সরকারি আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি করলে তাদের আয়ের একটি বড় অংশ বাড়ি ভাড়া বাবদ অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

​৬. বাজার নিয়ন্ত্রণ: মুদ্রার অপরিহার্য অন্য পিঠ

​সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাজার নিয়ন্ত্রণ। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়, বাজার সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে বেতন বৃদ্ধির সুফল কর্মচারীদের পকেটে না ঢুকে চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। তাই নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সমান্তরালে কঠোর বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।

 

​বাস্তবমুখী সুপারিশমালা:

​২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে একটি মর্যাদাশীল এবং জীবনধারণোপযোগী বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা রাষ্ট্রের কোনো দয়া নয়, বরং দায়িত্ব। বৈষম্যমুক্ত প্রশাসন গড়তে নিম্নলিখিত নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে:

​১:৫ অনুপাত বাস্তবায়ন: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান নূন্যতম পর্যায়ে আনা।

​ভাতা সমতা: শিক্ষা, চিকিৎসা ও ঝুঁকি ভাতা পদমর্যাদা নির্বিশেষে সবার জন্য সমান বা যৌক্তিক হারে নির্ধারণ।

​স্বয়ংক্রিয় বৃদ্ধি: মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতি বছর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd