150

নিজস্ব প্রতিবেদক

(ছবি: সংগৃহীত)

​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক সাংবিধানিক গণভোট। তবে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, মাঠপর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি ততটাই বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না যে, সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি তাদের আরও একটি ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে।

​সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ ভোটাররা সংসদ নির্বাচন ও দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে যতটা আগ্রহী, গণভোট নিয়ে তাদের মধ্যে ততটাই সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেকের ধারণা, তারা কেবল তাদের পছন্দের সংসদ সদস্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। গণভোট আসলে কী এবং কেন এটি দেওয়া হচ্ছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।

​সুনামগঞ্জ ও দিনাজপুরের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাট-বাজার বা উপজেলা সদরে প্রশাসনের কিছু ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেলেও গ্রামপর্যায়ে গণভোটের প্রচার একেবারেই সীমিত। অনেক শিক্ষিত ভোটারও এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা আশঙ্কা করছেন, যথাযথ প্রচারের অভাব থাকলে ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন।

​তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণভোটের গুরুত্ব বোঝাতে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং মতবিনিময় সভার মতো কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সরকারি দপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গতকাল এক মতবিনিময় সভায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া স্পষ্ট করেছেন যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই।

​বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে গণভোটের প্রচার কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের বাকি দিনগুলোতে প্রচারণা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *