• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে অল টাইম ক্লিনের প্রথম সাংগঠনিক টি-শার্ট উন্মোচন কবিতাঃ নারী অধিকার সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা ফরিদপুরে সরকারি কার্ড দেওয়ার টোপ দিয়ে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত পলাতক এআই এবং সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ: আশীর্বাদ নাকি নতুন সংকট? তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী দাবি উগান্ডার সেনাপ্রধানের, সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি রমনা বটমূলে বোমা হামলার ২৫ বছর: এখনো ঝুলে আছে বিস্ফোরক মামলার বিচার পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন: আইজিপি’র নির্দেশ পহেলা বৈশাখে বৃষ্টির শঙ্কা কোথায়? জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন ফ্রান্স যুবদলের সহ- সাধারণ সম্পাদক এম ফখরুল ইসলাম ফয়েজ

শরীয়াহ নয়, রাজনীতি—জামায়াতের অবস্থান ও ধর্মীয় ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

তুফান ইনিস্টিউট / ৪৫ Time View
Update : রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এখন টিভির ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের একটি ফটোকার্ড নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে লেখা ছিল—“ক্ষমতায় গেলে শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না জামায়াত—আমিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।” এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

এই বিতর্কে আগুনে ঘি ঢালে ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডি Nahid Hasan-এর একটি পোস্ট। তিনি লেখেন, “দয়াকরে আজকের পর থেকে আর জান্নাতের টিকিট বিক্রি কইরেন না… আপনারা যে শরীয়াহ বাস্তবায়ন করতে পারবেন না সেটা আমরাও জানি… বিড়িতে সুখ টান দিতে দিতে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কেউ জান্নাতে যাবে এই ভন্ডামি বাদ দিলেই আর আপত্তি নাই।” পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল এখন টিভির ওই ফটোকার্ড।

এই বক্তব্যে দুইটি বিষয় একসঙ্গে সামনে আসে—একদিকে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে তারা শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না; অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রচারণায় ধর্মীয় ভাষা, ইসলামি শ্লোগান ও আখিরাতের প্রতিশ্রুতির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসভাগুলোতে ইসলামী রাষ্ট্র, শরীয়াহ সমাজ ও নৈতিক শাসনের প্রতিশ্রুতি বহু বছর ধরেই তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ। বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতারা সংসদে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, যা সমর্থকদের মধ্যে ধর্মীয় প্রত্যাশা তৈরি করেছে। কিন্তু এখন টিভির ফটোকার্ডে প্রকাশিত বক্তব্য সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক বক্তব্যগত অসঙ্গতি নয়; বরং জামায়াতের দ্বিমুখী কৌশলের ইঙ্গিত। একদিকে আন্তর্জাতিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের ‘মধ্যপন্থী’ ও ‘গণতান্ত্রিক’ প্রমাণ করার চেষ্টা, অন্যদিকে ঘরোয়া রাজনীতিতে ধর্মীয় আবেগকে ভোটব্যাংকে রূপান্তরের পুরনো কৌশল বজায় রাখা—এই দুই অবস্থান একসঙ্গে টিকিয়ে রাখাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Nahid Hasan-এর পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকেই এটিকে জামায়াতের ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে বলছেন, এই পোস্ট জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলের ওপর আস্থা হারানোর প্রতিফলন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, জামায়াতের বিভিন্ন প্রচারপত্র ও বক্তব্যে অতীতে “ইসলামী রাষ্ট্র”, “শরীয়াহভিত্তিক সমাজ” ও “সংসদে ইসলাম প্রতিষ্ঠা”-র কথা বলা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দলটি এসব শব্দচয়ন এড়িয়ে চলছে। পরিবর্তে “গণতন্ত্র”, “মানবাধিকার” ও “সংবিধানসম্মত রাজনীতি”-র ভাষা বেশি ব্যবহার করছে, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানে স্পষ্ট রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—জামায়াত কি আদর্শিকভাবে শরীয়াহ বাস্তবায়নের অবস্থান থেকে সরে এসেছে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক বাস্তবতায় অভিযোজনের কৌশল? যদি শরীয়াহ বাস্তবায়নের ইচ্ছাই না থাকে, তবে এতদিন ধরে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে ভোট আহ্বান কি রাজনৈতিক প্রতারণা নয়? আর যদি ইচ্ছা থেকেই থাকে, তবে এখন তা অস্বীকার করা কি ভিন্ন শ্রোতার সামনে ভিন্ন মুখ দেখানোর কৌশল?

সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কৌশলের প্রশ্ন নয়; এটি ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে দেশের বৃহত্তর বিতর্ককে সামনে এনে দিয়েছে। কারণ ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে, শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় ধর্মের মর্যাদা এবং গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা—উভয়ই।

এখন টিভির ফটোকার্ড ও Nahid Hasan-এর পোস্ট একসঙ্গে এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে প্রশ্ন আর দলীয় নয়—প্রশ্ন নৈতিকতার। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কি আদর্শের জন্য, নাকি ক্ষমতার জন্য? আর জনগণ কি আর সেই ভাষার ফাঁদে পড়বে, যেখানে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুনিয়ার ভোট চাওয়া হয়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন শুধু জামায়াতের কাছেই নয়, দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যতের কাছেও দাবি রাখে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd