
নিজস্ব প্রতিবেদক:
“যে দলে ইচ্ছে সে দলের রাজনীতি করুন, কিন্তু দেশের জন্য অন্তত গণভোটে হ্যাঁ বলুন”—এই বক্তব্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মোঃ ফুয়াদ হাসান। তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদ, বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (কেন্দ্রীয় সংসদ)-এর সহ-সভাপতি।
তার বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার এক নগ্ন চিত্র—দলীয় বিভাজনের কারণে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নেও মানুষ এখন শিবিরে বিভক্ত। ফুয়াদ হাসান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তগুলোতে দল নয়, রাষ্ট্রকেই অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। তার ভাষায়, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের পরিচয়।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাজনৈতিক মেরুকরণ এতটাই গভীর যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এমনকি নাগরিক অধিকারের প্রশ্নেও জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের এই আহ্বান আসলে প্রচলিত দলকেন্দ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ।
ফুয়াদ হাসানের বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটাকে সাহসী অবস্থান বলছেন, কেউ বলছেন এটি বাস্তব রাজনীতির কঠিন মাটিতে দাঁড়িয়ে বলা সহজ কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। তবে সমালোচক-সমর্থক উভয়েই স্বীকার করছেন, বক্তব্যটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক জড়তায় একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—আমরা দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে কখনো রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়াতে পারি কি না।
এই আহ্বান কেবল একটি রাজনৈতিক মতামত নয়, এটি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ রাজনীতিবিদদের জন্য, যারা জাতীয় ইস্যুকেও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেন। চ্যালেঞ্জ নাগরিকদের জন্যও, যারা ব্যালটের সামনে দাঁড়িয়ে দল নয়, দেশের কথা ভাবতে কতটা প্রস্তুত—সেই পরীক্ষার মুখে পড়েন।
ফুয়াদ হাসানের বক্তব্য মূলত একটি কথাই সামনে আনে—দল বদলানো রাজনীতি হতে পারে ব্যক্তিগত অধিকার, কিন্তু রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা না থাকলে গণতন্ত্র নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সত্যিই দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের পক্ষে দাঁড়াতে পারব, নাকি গণভোটও শেষ পর্যন্ত আরেকটি দলীয় যুদ্ধক্ষেত্রেই পরিণত হবে?
