
লিখেছেন: সাবিত রিজওয়ান
১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানের নিপীড়ন-শোষণের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করি। অসংখ্য মানুষ শহিদ হন, তাদের অনেকের নাম আমরা জানি না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে কি আমরা সত্যিকারের স্বাধীন হয়েছি? না। আ.লীগ ক্ষমতায় আসে, এবং আমরা ভারতের দাসত্বের মতো নিপীড়নের মধ্যে পড়ে যাই—নদী, পানি, উন্নয়ন সবকিছুতে। যারা প্রশ্ন তুলতো, তাদের দাড়ি, টুপি দেখে রাজাকার বলা হতো, গুম-খুন করা হতো। কেউ পাকিস্তানের অন্যায় ভুলে যেতে পারবে না, কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পরও ভারতের দাদাগিরিতে বন্দী থাকতে হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা আন্দোলন আবার প্রমাণ করল—দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা আজও নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নাগরিকরা ‘কোটা পৃথা কবর দে, বৈষম্যহীন বাংলা চাই’ স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। শহিদ হয়েছেন অনেকে, যার মধ্যে প্রথম ছিলেন আবু সাইদ। কিন্তু আন্দোলনের পরেও কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি দূর হয়নি। প্রশাসনিক দুর্বলতা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, অপরাধ বৃদ্ধি—এগুলো আমাদের দেখিয়েছে, যে আমাদের দেশ এখনও শক্তিশালী নয়।
রাজধানী ঢাকা উন্নত হচ্ছে, বাকি জেলা এখনও পিছিয়ে। রংপুরের মতো অবহেলিত অঞ্চল বছরের পর বছর সামান্য উন্নয়ন পায়। ১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা, ২০২৪-র আন্দোলনের আশা—সবকিছুর মাঝেও দেশের জনগণ বিভক্ত। জনগণের মধ্যে ঐক্য না থাকলে কোন সরকারই দেশকে ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে না।
সংক্ষেপে, দেশকে সত্যিকার স্বাধীন ও ন্যায়পরায়ণ করতে হলে জনগণের ঐক্যই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ঐক্য ছাড়া স্বাধীনতা শুধু নামের, উন্নয়ন অসম্পূর্ণ, এবং ক্ষমতার অপব্যবহার অব্যাহত থাকবে।
