আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতির পর ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো এখন কেবল ‘সময়ের ব্যাপার’। অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ট্রাম্পের বক্তব্য: ‘ইরান এখন কোণঠাসা’
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এক দিন আগের তুলনায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এখন অনেক বেশি সহজ। কারণ তারা এখন প্রচণ্ড মার খাচ্ছে।” ট্রাম্পের মতে, এই সামরিক অভিযান ইরানকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে ফেলে দিয়েছে, যা তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। তিনি এই দিনটিকে বিশ্বের জন্য একটি ‘মহান দিন’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান তার সব শক্তি দিয়ে সর্বোচ্চ নেতা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরান বর্তমানে উত্তাল। ইতিমধ্যে খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির শাসনভার সামলাতে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
এক মিনিটে সব শেষ: ইসরায়েলি গণমাধ্যম
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং দ্রুত। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে চালানো হামলায় খামেনিসহ ইরানের অন্তত ৩০ জন শীর্ষ নেতা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এই হামলাকে অপারেশনাল দিক থেকে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বাংলাদেশের অবস্থান
এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো বিশ্বজুড়ে।